(বাঁ দিকে) মধুসূদন বাগের জায়গায় প্রার্থী হেমন্ত বাগ। বিশ্বনাথ কারকের জায়গায় প্রার্থী প্রশান্ত দিগার (ডান দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।
হুগলির আরামবাগ মহকুমায় চারটি বিধানসভা আসনের প্রতিটিতেই গত নির্বাচনে খাতা খুলেছিল বিজেপি। জয়ী চার বিধায়কের মধ্যে দু’জন এ বার টিকিট পেলেন না।
প্রথম দফায় সোমবার হুগলির ছ’টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। আরামবাগে (তফসিলি জাতি সংরক্ষিত) মধুসূদন বাগের বদলে টিকিট পেয়েছেন হেমন্ত বাগ। গোঘাটে বিশ্বনাথ কারকের বদলে নতুন মুখ প্রশান্ত দিগার। তবে, পুরশুড়ায় বিমান ঘোষ এবং খানাকুলে সুশান্ত ঘোষের উপরে এ বারেও ভরসা রেখেছে দল।
অতীতে ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে একাধিকবার গোঘাটে জিতেছিলেন বিশ্বনাথ। গত নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। এ বার টিকিট না পাওয়া নিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘দল যা ভাল বুঝেছে, করেছে।’’ চেষ্টা করেও মধুসূদনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। মোবাইলে বার্তা পাঠানো হলে জবাব আসেনি।
নিজেদের নাম ঘোষণা হতেই হেমন্ত এবং প্রশান্ত প্রচারে নেমে পড়েছেন। আরামবাগের প্রার্থী হেমন্তের বয়স ৩২ বছর। বাড়ি আরান্ডিতে। পেশা চাষাবাদ। তিনি বলেন, ‘‘গত বারের তুলনায় যাতে বেশি ব্যবধানে দলকে জেতাতে পারি, সেই লড়াইয়ে নেমেছি।’’ ৩৯ বছরের প্রশান্ত দিগার পেশায় ব্যবসায়ী। বাড়ি বদনগঞ্জ ২ পঞ্চায়েতের সেলামপুর গ্রামে। তাঁর দাবি, ২০১২ সাল থেকে তিনি বিজেপির সক্রিয় কর্মী। তাঁর কথায়, ‘‘গত বারে চার হাজারের কিছু বেশি ব্যবধানে আমাদের জয় ছিল। এ বার যাতে কম করে ২০ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকতে পারি, সেটাই লক্ষ্য।’’
অন্য দিকে বিমানের বক্তব্য, ‘‘দল ফের আমার উপরে ভরসা রেখেছে। আমার একটাই লক্ষ্য, পুরশুড়ায় ফের বিজেপিকে জেতানো এবং মানুষের সেবা অব্যাহত রাখা।’’ সুশান্ত বলেন, ‘‘দ্বিতীয় বারের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব ভরসা রাখায়, আমি কৃতজ্ঞ। নিশ্চিত ভাবেই জনগণের আশীর্বাদ নিয়ে আগামী পাঁচ বছরও খানাকুলবাসীর সেবায় কাজ করব।’’
সাংবাদিকতা ছেড়ে সদ্য গেরুয়া-শিবিরে যোগ দিয়েছেন সন্তু পান। তাঁকে তারকেশ্বরে প্রার্থী করা হয়েছে। সপ্তগ্রামে বিজেপির হয়ে লড়বেন স্বরাজ ঘোষ। স্বরাজ বলেন, ‘‘সপ্তগ্রাম বিধানসভার মধ্যে বাঁশবেড়িয়া পুরসভা আছে, গ্রামীণ এলাকাও আছে। গ্রামবাসী থেকে পুরবাসী— সকলেই সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে মানুষের আশীর্বাদে বিজেপি জিতবে।’’
দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, কেন্দ্রের বঞ্চনায় মানুষ তিতিবিরক্ত। সব আসনে এ বার জোড়া ফুলের প্রার্থীদেরই জয় হবে।
হাওড়ার ১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে বিজেপি এ দিন পাঁচটির প্রার্থী-তালিকা প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে আছে শহরের তিনটি (হাওড়া উত্তর, শিবপুর এবং ডোমজুড়) এবং গ্রামীণ এলাকার দু’টি (উলুবেড়িয়া দক্ষিণ এবং আমতা) কেন্দ্র। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ শিবপুরে প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে উলুবেড়িয়া দক্ষিণে দল প্রার্থী করেছে স্বামী মঙ্গলানন্দ পুরী মহারাজ নামে এক সাধুকে। আমতার প্রার্থী অমিত সামন্ত দলের যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
গ্রামীণ হাওড়ার বাকি কেন্দ্রগুলির জন্য প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, এতে প্রচারে তাঁদের পিছিয়ে পড়তে হবে। দলের গ্রামীণ এলাকার এক নেতার কথায়, "কয়েকটি আসনে আমরা জেতার জায়গায় আছি। দ্রুত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা দরকার।’’ দলের নেতা রমেশ সাধুখাঁর দাবি, ‘‘উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। দু’এক দিনের মধ্যে বাকি তালিকা প্রকাশিত হবে বলে শুনেছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে