West Bengal Assembly Election 2026

প্রচারে মেয়রকে সমস্যা জানানোয় ‘হেনস্থা’র শিকার অভিযোগকারিণী

ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত, কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে এ দিন সকালে প্রচারে গিয়েছিলেন ফিরহাদ। বেলা ১২টা নাগাদ চেতলার রাখালদাস আঢ্য রোডে পৌঁছন। সেখানেই বাড়ির সামনের গলিতে দাঁড়িয়েছিলেন সুজাতা নন্দী-সহ কয়েক জন মহিলা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৭
Share:

চেতলায় এই এলাকার বাসিন্দারাই জল জমা নিয়ে অভিযোগ জানান। শনিবার। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক।

এলাকায় ভোটের প্রচারে আসা মেয়রের কাছে বাড়ির সামনে জমা জলের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন স্থানীয় এক মহিলা। সেই ‘অপরাধেই’ তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলকর্মীরা তাঁকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি, ‘বাংলা আবাস যোজনা’র বাড়ির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ভয়ও দেখিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। শনিবার সকালে, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নিজের ওয়ার্ডের এই ঘটনা। যা ভোটের আগে রীতিমতো অস্বস্তি বাড়িয়েছে শাসকদলের। খাস কলকাতাতেই এমন ঘটনা ঘটলে রাজ্যে আদৌ কতটা গণতন্ত্র আছে, সেই প্রশ্নও তুলছেন বিরোধীরা।

ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত, কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে এ দিন সকালে প্রচারে গিয়েছিলেন ফিরহাদ। বেলা ১২টা নাগাদ চেতলার রাখালদাস আঢ্য রোডে পৌঁছন। সেখানেই বাড়ির সামনের গলিতে দাঁড়িয়েছিলেন সুজাতা নন্দী-সহ কয়েক জন মহিলা। মেয়র তাঁদের সামনে যেতেই সুজাতা ও কয়েক জন মহিলা নিকাশির সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, বৃষ্টি হলেই বাড়ির সামনে হাঁটুজল জমে। নিকাশি-সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে জল দাঁড়িয়ে থাকে। শুক্রবার রাতের ঝড়বৃষ্টিতে জমা জল সরতে এ দিন সকাল হয়ে যায় বলেও মেয়রকে অভিযোগ জানান সুজাতারা। তা শুনে মেয়র তাঁদের আশ্বাস দিয়ে চলে যান।

স্থানীয় সূত্রের খবর, মেয়র এগিয়ে যেতেই সুজাতাদের উপরে চড়াও হন তৃণমূলকর্মীরা। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা হরেকৃষ্ণ দে-র নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা তাঁদের ঘিরে ধরেন। হুমকি ও শাসানোর পাশাপাশি, বাংলা আবাস যোজনার বাড়ির তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হবে বলেও সুজাতাকে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ। যদিও অভিযুক্ত হরেকৃষ্ণ চড়াও হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ওই এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা বহু পুরনো। এলাকায় বাংলা আবাস যোজনার কাজও চলছে। সেই কাজ শেষ হলে এলাকার নিকাশির কাজে হাত দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা তো সব সময়ে পাড়াতেই থাকি। আমাদের বললেই হত! সরকারের নিন্দা করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এ সব হচ্ছে।’’

এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, ওই মহিলার বাড়ির সামনে থেকে জল নেমে গেলেও অপরিচ্ছন্নতার চিহ্ন রয়ে গিয়েছে। জল জমে রয়েছে আশপাশের একাধিক জায়গায়। যদিও এ দিনের ঘটনার পরে ভয়ে কেউই আর প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা শুধু বললেন, ‘‘এখন মুখ খোলা মানেই অপরাধ। কে আর এ সব বলে টার্গেট হবে।’’

এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ না হলেও তা অস্বস্তি বাড়িয়েছে তৃণমূলের। সরব হয়েছেন পুরসভার বিরোধী পক্ষও। বরানগরের বিজেপি প্রার্থী তথা কলকাতা পুরসভার বিজেপির পুরপ্রতিনিধি সজল ঘোষ বলেন, ‘‘নিজের এলাকার সমস্যার কথা বলতে গিয়ে এক জন মহিলা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। গ্রামে নয়, খাস শহরেই এই ঘটনা ঘটছে। যে গণতন্ত্রের কথা এত বলা হয়, এখন তা কোথায়?’’ ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম পুরপ্রতিনিধি নন্দিতা রায় বললেন, ‘‘মেয়রের উচিত অভিযুক্ত দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।’’

মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি অবশ্য ফোন ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন