IT Consultant Jobs 2026

তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে আগ্রহী? বিশেষ দক্ষতা থাকলে হতে পারবেন পরামর্শদাতা

আইটি কনসালট্যান্ট হিসাবে বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজ করতে হয়ে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৮:৫২
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

তথ্য দিয়ে ঘেরা ডিজিটাল দুনিয়া। হরেক সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। যাঁরা এই তথ্য সাজিয়ে দেন, তাঁরা বিশেষ যন্ত্র এবং সফট্অয়্যার ব্যবহার করে কাজটি সম্পূর্ণ করেন। ওই কাজটি আর কোন পদ্ধতিতে করা যেতে পারে কিংবা কোন সফট্অয়্যারের সাহায্যে বেশি ভাল ভাবে কাজ করতে পারবেন— তার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) কনসালট্যান্ট।

Advertisement

বিশেষজ্ঞেরা বলে দিতে পারেন, কোন সমস্যার সমাধান কোন পরিকাঠামোর উন্নয়নে সম্ভব। কোন সফট্অয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে, তা তাঁদের নখদর্পণে। তাই বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় এমন বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি পরামর্শদাতা এই বিভাগের অধীনে কাজ করে থাকেন।

আইটি কনসালট্যান্ট হতে পারেন কারা?

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার সায়েন্স-এর মতো বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর এই পেশায় আসা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় নিয়ে দ্বাদশ উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে, স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর স্তরে কলা কিংবা বাণিজ্য শাখা অধীনেও উল্লিখিত বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। তাই এই পেশায় আসতে আগ্রহীদের বিজ্ঞান নিয়েই পড়তে হবে, এমনটা জরুরি নয়।

কোন ডিগ্রি কোর্সে কী শেখা যাবে?

বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, কলা কিংবা বাণিজ্য— প্রতিটি শাখার অধীনস্থ বিষয়ের মাধ্যমে আইটি কনসালট্যান্টিং সংক্রান্ত খুঁটিনাটি শিখে নেওয়া যেতে পারে। তবে, বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার অধীনস্থ বিষয়গুলি মাল্টিডিসিপ্লিনারি হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি থাকলে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার মেলে।

ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি-র অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে পড়া যেতে পারে। ব্যাচেলর অফ আর্টস এবং ব্যাচেলর অফ বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিগ্রির অধীনে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। স্নাতকোত্তর স্তরে এবং পিএইচডি-র জন্য একই বিষয় বেছে নেওয়া যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে যাঁরা কলা কিংবা বাণিজ্য শাখার অধীনে পড়াশোনা করবেন, তাঁদের আলাদা করে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ়, নেটওয়ার্কিং, সাইবার সুরক্ষা, এন্টারপ্রাইজ় রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের খুঁটিনাটি শিখে নিতে হবে। পাশাপাশি, কী ভাবে কোন সমস্যার ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, তার অভ্যাস করতে হবে।

কাজের জন্য প্রয়োজন অনুমোদন

পড়াশোনার পর কাজের বাজারে সুযোগ পেতে হলে বিশেষজ্ঞ হিসাবে অনুমোদন অর্জন করতে হবে। এ জন্য তিনটি স্তরে শংসাপত্র পেতে পারেন। এন্ট্রি লেভেল পদে কাজের ক্ষেত্রে কম্পটিয়া এ প্লাস, গুগল আইটি সাপোর্ট, অ্যামাজ়ন ওয়েব সার্ভিস ক্লাউড প্র্যাকটিশনার-এর অনুমোদন অর্জন করা প্রয়োজন।

মিড লেভেল-এর পদের জন্য অ্যামাজ়ন ওয়েব সার্ভিস আর্কিটেকচার, মাইক্রোসফট্ অ্যাজ়িউর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, সিসকো, স্যাপ মডিউলস-এর অনুমোদন পেতে হবে। এ ছাড়াও পদের চাহিদা অনুযায়ী আইটিআইএল ফাউন্ডেশন, সার্টিফায়েড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট-এর অনুমোদন থাকা প্রয়োজন।

অভিজ্ঞতাই সম্পদ

চাকরি জীবনের শুরুতেই বিশেষ ক্ষেত্রে পরামর্শদাতা হিসাবে কাজের সুযোগ পাওয়া কঠিন। এ ক্ষেত্রে অন্তত দু’বছর কোনও বহুজাতিক সংস্থায় আইটি সাপোর্ট, সফট্অয়্যার ডেভেলপার, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, বিজ়নেস অ্যানালিস্ট হিসাবে কাজ করতে হবে। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ক্লাউড, স্যাপ, সাইবার সুরক্ষা বিভাগের অধীনে বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজের সুযোগ মিলবে। এ ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের পূর্ব-অভিজ্ঞতা থাকলে সলিউশন আর্কিটেক্ট, সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসাবে চাকরি মিলতে পারে।

দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষেরও বেশি আইটি কনসালট্যান্ট সংস্থা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বড় সংস্থা মূলত অ্যাকাউন্টিং এবং পরামর্শ দেওয়ার কাজ করে থাকে। আবার ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়, এমন সংস্থাও আইটি কনসালট্যান্টদের নিয়োগ করে থাকে। সেখানে চাকরির ক্ষেত্রে ডিগ্রি, অনুমোদন এবং দক্ষতা যাচাই করে দেখা হয়। তাই শুধু পড়াশোনাই এর জন্য যথেষ্ট নয়। আলাদা করে দক্ষতা অর্জন করাও প্রয়োজন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement