ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন বিশ্বে ৪০০ কোটিরও বেশি ই-মেল চালাচালি হয়। এর মধ্যে সাইবার হানার কারণে প্রতারণার শিকার হন অন্তত ৩০ লক্ষ ব্যবহারকারী। ব্যবসায়িক সংস্থার ই-মেল তো বটেই, হ্যাকাররা হামলা করে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও।
ডিজ়িটাল দুনিয়ার ব্যপ্তির ফলে সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থায় চাকরির জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়া থেকে শুরু বিভিন্ন ধরনের পরিষেবার জন্য ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাতেই নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর-সহ সরকারি পরিচয়পত্রের যাবতীয় তথ্য জমা হচ্ছে ডিজ়িটাল তথ্যভান্ডারে।
সেই তথ্য সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার তরফে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। তা রক্ষণাবেক্ষণ, সব তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে বাজারে। এরই মধ্যে ইনফরমেশন সিকিউরিটি এক্সপার্ট হিসাবে কাজের সুযোগও বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
কারা কাজ করতে পারবেন?
সাইবার সুরক্ষা, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি, সফট্অয়্যার সিস্টেম, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তরেরা ইনফরমেশন সিকিউরিটি এক্সপার্ট হিসাবে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন, উল্লিখিত পদটি সিনিয়র লেভেল-এর। তাই কাজ করতে আগ্রহীদের আলাদা করে বেশ কিছু বিষয়ে জ্ঞান, কাজের দক্ষতা এবং পূর্ব-অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন।
সেগুলি কী?
দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার সাপেক্ষে উল্লিখিত পদে কর্মী নিয়োগ করা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে যাঁরা ইতিমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পদে কাজের সুযোগ পাওয়া সহজ। তবে সদ্য ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও রয়েছে— তাঁরাও চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
দক্ষতা:
ইনফরমেশন সিকিউরিটি এক্সপার্ট হিসাবে চাকরির করার জন্য প্রথমে নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডেটা সিস্টেম, ক্লাউড সিকিউরিটি নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। এ ছাড়াও প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ়-এর সাহায্যে কী ভাবে স্ক্রিপ্টিং করতে হয়, তাও জানা চাই। বর্তমানে কম্পিউটারকে সুনির্দিষ্ট ভাবে তথ্য সাজানোর জন্য স্ক্রিপ্টিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
অভিজ্ঞতা:
শুধুমাত্র তথ্য সুরক্ষিত রাখতেই সাইবার সুরক্ষা খাতে প্রতিনিয়ত বিপুল অঙ্ক ব্যয় করা হয়ে থাকে। তাই এ জন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয় বিভিন্ন সংস্থা। পরিষেবার চাহিদার উপর নির্ভর করে, যে সব প্রার্থীর তিন-চার বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন।
নবীনদের ক্ষেত্রে কেমন সুযোগ?
নবীন স্নাতক বা স্নাতকোত্তরেরা পড়াশোনার সঙ্গে সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ক্লাউড সিকিউরিটি, স্ক্রিপ্টিং সংক্রান্ত প্রকল্প নিয়ে কাজ শেখার সুযোগ পেয়ে থাকেন। বিভিন্ন ক্রেডিট কোর্সের সাহায্যে আলাদা করে সাইবার সুরক্ষা, তথ্য সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে নেন অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থায় বর্তমানে এমন প্রার্থীদেরও নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
সে ক্ষেত্রে তাঁদের কম্পটিআইএ সিকিউরিটি প্লাস, সিস্টেমস সিকিউরিটি সার্টিফায়েড প্র্যাকটিশনার, সার্টিফায়েড ইনফরমেশন সিস্টেমস সিকিউরিটি প্রফেশনাল, সার্টিফায়েড ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজার হিসাবে কাজের অনুমোদন অর্জন করতে হয়। এই সব শংসাপত্র থাকলে সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়।
কোথায় কেমন সুযোগ?
তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি ছাড়াও আর্থিক লেনদেনের হিসাব রাখে এমন প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স সংস্থা, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্যের সুরক্ষার জন্য ইনফরমেশন সিকিউরিটি এক্সপার্ট নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এই পদে নিযুক্তদের কাছে বার্ষিক ৭ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা বেতনক্রমে উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পদে বিশেষজ্ঞের চাহিদা রয়েছে বিদেশের সংস্থাগুলিতেও। তবে, সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান থাকা দরকার।
তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তাই সেই তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়ছে। কৃত্রিম মেধার প্রভাবে এই কাজের ধরন বদলেছে। তাই প্রতিনিয়ত বিশেষজ্ঞদের বিষয়বস্তু চর্চার মধ্যে থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট এবং অনলাইন টুলের মাধ্যমে পরীক্ষামূলত ভাবে তথ্য সুরক্ষার নানান কৌশল নিয়ে অভ্যাস করতে হবে।