ছবি: এআই।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের সমস্ত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু রয়েছে ‘চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম’ (সিবিসিএস) বা পছন্দসই মিশ্র পাঠ। সেই সঙ্গে চালু হয়েছে ফোর ইয়ার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম (এফওয়াইইউপি)। নতুন ব্যবস্থায় যে কোনও সময়ে স্নাতক স্তরের কোর্স সম্পূর্ণ করা সম্ভব। দু’বছরের ডিপ্লোমা কিংবা এক বছরের ইউজি সার্টিফিকেট অর্জনের মতো গোটা বিষয়টিকে ‘মাল্টিপল এক্সিট অ্যান্ড এন্ট্রি অপশন’ পেয়ে থাকেন পড়ুয়ারা।
যাঁরা এই পদ্ধতিতে ডিপ্লোমা অর্জন করে পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে চাইছেন, তাঁরা চাকরির সুযোগ কতটা পাবেন? ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্যের মতো বিভিন্ন শাখার তারতম্যের ভিত্তিতে কোন ক্ষেত্রে কেমন সুযোগ মিলতে পারে, তা দেখে নেওয়া যাক।
ইঞ্জিনিয়ারিং—
ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা প্রযুক্তি নির্ভর বিষয়ের ক্ষেত্রে চাকরির পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকার কিংবা সরকার অধীনস্থ সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানে ওই বিষয়গুলিতে ডিপ্লোমা অর্জনের পর ‘এন্ট্রি লেভেল’ চাকরি পাওয়া যেতে পারে। তবে, এ ক্ষেত্রে গবেষণাগারে কাজ কিংবা কম্পিউটারে সাবলীল হওয়ার শর্ত পূরণ করলেই নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
পদ: জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, সাইট সুপারভাইজ়ার, মেন্টেনেন্স টেকনিশিয়ান, ক্যাড অপারেটর, কোয়ালিটি কন্ট্রোল অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইটি সাপোর্টিভ এগ্জ়িকিউটিভ, জুনিয়র সফট্অয়্যার টেস্টার, ডেটা অপারেশনস অ্যাসোসিয়েট, ক্লাউড সাপোর্ট স্টাফ-এর মতো পদে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়।
ক্ষেত্র: তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, সাইবার সুরক্ষা বিভাগ, ম্যানুফ্যাকচারিং, ক্ষুদ্র শিল্প, নির্মাণ ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত শিল্প, শক্তি এবং পুনর্নবিকরণযোগ্য শক্তি, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকম, অটোমেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সার্ভিসেস-এর মতো ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
বিজ্ঞান—
বিজ্ঞান শাখার অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। ওই সমস্ত বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন, এমন ব্যক্তিরা বিভিন্ন গবেষণাগার, ফার্মাসি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে গবেষণাগারে কাজের দক্ষতা, ডেটা অ্যানালিসিস-এর মতো কাজে আগ্রহ থাকা প্রয়োজন।
পদ: ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট, প্রজেক্ট টেকনিশিয়ান, অবজ়ার্ভার, প্রজেক্ট স্টাফ-এর মতো পদে চাকরি পাওয়া যায়।
ক্ষেত্র: রাষ্ট্রায়ত্ত গবেষণাগার, বায়োটেকনোলজি সংস্থা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়।
বাণিজ্য ও ম্যানেজমেন্ট—
স্নাতক স্তরে বাণিজ্য নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে, যাঁরা দু’বছরের ডিপ্লোমা অর্জনের পর চাকরি পেতে চান, তাঁদের মূলত বিজ়নেস অপারেশন কিংবা এন্ট্রি লেভেল কর্পোরেট বিভাগে নিয়োগ করা হয়।
পদ: অ্যাকাউন্টস অ্যাসিস্ট্যান্ট, অপারেশনস এগ্জ়িকিউটিভ, সাপ্লাই চেন অ্যাসিস্ট্যান্ট, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং কো-অর্ডিনেটর, এইচআর অপারেশনস সাপোর্ট পদে চাকরির সুযোগ থাকে।
ক্ষেত্র: কর্পোরেট অফিস, লজিস্টিক্স অ্যান্ড রিটেল, ব্যাঙ্কিং সাপোর্ট সার্ভিসেস, ক্ষুদ্র শিল্প এবং স্টার্টআপ-এ এমন ব্যক্তিদের শুরুতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে স্থায়ী পদে নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে।
কলা এবং সমাজ বিজ্ঞান—
কলা শাখার বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জনের মূলত গবেষণামূলক কাজের ক্ষেত্রেই বেশি সুযোগ মেলে। এ ছাড়াও গ্রাফিক ডিজ়াইনার, কপি রাইটার, সোশ্যাল মিডিয়া অপটিমাইজ়ার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ়েশন, কাস্টোমার কেয়ার এগ্জ়িকিউটিভ, কমিউনিটি আউটরিচ অফিসার, কন্টেন্ট এগ্জ়িকিউটিভ, পলিসি সাপোর্ট স্টাফ-এর মতো পদেও চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি, বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় ডিপ্লোমা অর্জনকারীদের কাজের সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে, এ ক্ষেত্রে ডিপ্লোমার শংসাপত্র ছাড়াও পড়ুয়াদের কম্পিউটার চালনা, কপি রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজ়াইন, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র চালনার কৌশল কিংবা আনুষঙ্গিক বিষয়ে জ্ঞান এবং দক্ষতা থাকা আবশ্যক।