ইরানের চাবাহার বন্দর। —ফাইল চিত্র।
ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য চলতি অর্থবর্ষে কোনও অর্থ বরাদ্দ করেনি ভারত। আর তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করল তেহরান। বুধবার ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “আমার মনে হয় ইরান এবং ভারত, দুই দেশের জন্যই এটা হতাশাজনক।”
ভারতের জন্য চাবাহার বন্দরের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এক সময় বলেছিলেন, চাবাহার এমন একটি সোনার দরজা (গোল্ডেন গেট), যা ভারত মহাসাগরীয় এলাকাকে মধ্য এশিয়া, ককেসাস এবং ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে। কৌশলগত দিক থেকে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। যদি এটা পুরোপুরি তৈরি হয়ে যায়, তা হলে এটা ভারত থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”
ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালোচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর কৌশলগত ভাবে ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে এই বন্দরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতের কাছে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, ইউরোপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য চাবাহার ভারতের কাছে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তেহরানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বন্দর প্রকল্পে কাজ চালাচ্ছে নয়াদিল্লি।
কিন্তু এখন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, এমনও আশঙ্কা করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে এ বারের কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে কোনও বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই বন্দর প্রকল্পের জন্য বার্ষিক অর্থবরাদ্দ করে আসছিল ভারত। প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছিল এই প্রকল্পের জন্য। এ বার তা থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে।
অন্য দিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চাবাহার বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্যও ভারতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি। যদিও পরে দিল্লিকে ছ’মাস সময় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ওই ‘ছাড়’-এর মেয়াদ ফুরোচ্ছে আগামী এপ্রিলে।
গত মাসেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, চাবাহার বন্দর প্রকল্প নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। জয়সওয়াল ওই সময়ে বলেছিলেন, “আপনারা জানেন, গত ২৮ অক্টোবর আমেরিকার পক্ষ থেকে চাবাহার ব্যবহার নিয়ে শর্তসাপেক্ষে ছাড় দিয়েছিল। তার মেয়াদ রয়েছে এই বছরের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। আমরা এই বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কথা বলছি ও কী ব্যবস্থা করা যায় তা দেখা হচ্ছে।”