(বাঁ দিকে) জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন এক তরুণী। তা নিয়ে তদন্তও শুরু করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। কিন্তু আমেরিকার বিচার দফতরের তরফে প্রকাশিত এপস্টিন ফাইলে ওই অভিযোগ এবং তদন্ত সংবলিত কোনও নথির খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনটাই দাবি করা হয়েছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’-এর রিপোর্টে।
২০১৯ সালে এক মহিলা অধুনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তার পর অভিযোগকারিণীর বয়ান নথিভুক্ত করেছিল এফবিআই। অভিযোগকারিণী দাবি করেছিলেন, নাবালিকা থাকার সময় তাঁকে এপস্টিন এবং ট্রাম্প যৌন নির্যাতন করেছিলেন। অভিযোগ সামনে আসার পরেই এই বিষয়ে তদন্তে নামে এফবিআই। অভিযোগকারীর সাক্ষ্যগ্রহণও করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংবলিত নথি ফাইলে থাকলেও, ট্রাম্প সংক্রান্ত নথি সেখানে নেই। অথচ এপস্টিন ফাইলে অন্য অভিযোগকারিণীদের তোলা নানা অভিযোগ নথিবদ্ধ করা হয়েছে বলে এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টিন সম্পর্কিত ফাইল ধাপে ধাপে প্রকাশ করছে মার্কিন বিচার দফতর। কিন্তু আমেরিকার ট্রাম্প-বিরোধীদের তরফে অভিযোগ তোলা হয় যে, বাছাই করে ওই ফাইল প্রকাশ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের জন্য অস্বস্তিজনক জিনিস সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। গত নভেম্বরে ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়ে ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপেরেন্সি অ্যাক্ট’ বিলে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। তার পর ধাপে ধাপে ওই সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ করা হচ্ছে।
এপস্টিনের সঙ্গে একসময় ট্রাম্পের বন্ধুত্ব ছিল। দু’জনের একসঙ্গে একাধিক ছবিও রয়েছে। যদিও ট্রাম্প বার বারই দাবি করে এসেছেন, এপস্টাইনের সঙ্গে অতীতে বন্ধুত্ব থাকলেও তাঁর যৌন অপরাধের সঙ্গে কোনও যোগ ছিল না তাঁর। নভেম্বরে এপস্টিনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত নথির একাংশ প্রকাশ্যে আসে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ হাজার পাতারও বেশি ওই নথিতে বেশ কিছু জায়গায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামোল্লেখ ছিল। সেখানে এক জায়গায় নাকি এপস্টিন নিজের মুখেই বলেছিলেন, “আমি জানি ডোনাল্ড (ট্রাম্প) কতটা নোংরা।”