নতুন ছবির নতুন লুকে জীতু কমল। ছবি: সংগৃহীত।
‘চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা, যদি না পড় ধরা’, এই প্রবাদে কি জীতু কমল বিশ্বাসী? সদুত্তর মেলেনি। তবে শীঘ্রই তিনি ‘চুরি’ করতে নামছেন! তাঁকে পরিচালনা করবেন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। ‘চোর’ ছবি দিয়ে আট বছর পরে পরিচালনায় ফিরছেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালক স্বামী।
বছরের শুরুতেই নতুন ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। অভিনেতাকে ভেবে ছবির গল্প, চরিত্র লিখছেন পরিচালক! জীতুর ‘লাকি চার্ম’ সাল ২০২৬, আরাধ্য ঈশ্বর মহাদেব, না কি ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’?
অভিনেতাকে প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। মৃদু হেসে জবাব এল, “মনে হচ্ছে আমিই ‘লাকি’! আমায় নিয়ে যখন ভাবা হচ্ছে, তা হলে আমিই নিজেই নিজের ‘লাকি চার্ম’। ভাগ্য নির্ধারণ করে রয়েছি।” কথায় কথায় তাঁর যুক্তি, “গত বছরেও ভাল কাজ করেছি। তার আগের বছরে ভাল কাজের সুযোগ পেয়েছি। নতুন বছর শুভ কি না জানি না। আপাতত সময়টা ভাল যাচ্ছে, এটা বলতে পারি।” ক্রমাগত লড়াই করতে করতে জীতু এ-ও উপলব্ধি করেছেন, “সময়কে ভাল করে নিতে হয়।” চারপাশের নেতিবাচকতা সরিয়ে তিনি সেই চেষ্টাই অনবরত চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি কখনও ভেঙে পড়েন না। হেরেও যান না। যাঁরা এ রকম কিছু বলেন, তাঁদের প্রতি অভিনেতার উত্তর “আমি দু’পা পিছিয়ে এসেছি মাত্র।”
সিনেমায় বাঁচেন জীতু কমল। ছবি: ফেসবুক।
পরিচালক অগ্নিদেব জানিয়েছেন, ‘চোর’ আসলে রূপক। একুশ শতকে চুরি সমাজের সর্বজনীন ব্যাধি। সেই দিকটিই ব্যঙ্গ বা মজার মোড়কে দেখাবেন তিনি।
অর্থাৎ, আবার বিতর্ক! টলিউড বলে জীতু নাকি বিতর্ক পছন্দ করেন। তাই ছবির নায়ক?
হাল ছেড়ে জোরে হেসে ফেললেন অভিনেতা। হাসতে হাসতেই বললেন, “আমি বিতর্ক ভালবাসি না! বিতর্ক আমাকে ভালবাসে।” দাবি, বিতর্ক তাঁকে যে কী ভাবে টেনে নিয়ে চলে যায়, তিনি নিজেই বুঝতে পারেন না! “আবার বিতর্ক আমাকে আগলেও রাখে! আমি সোজাসাপটা কথা বলি। হয়তো তার থেকেই বিতর্কের সৃষ্টি। আমি যে মন থেকে চাই এ রকম হোক, তা কিন্তু নয়। ব্যাপারটা আপনা থেকেই হয়ে যায়।” তার পরেই চলে গেলেন চরিত্রের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে। রসিকতা করে জানালেন, ছোটপর্দার ‘আর্য সিংহ রায়’ মনে মনে ‘চোর’কে লালনপালন শুরু করে দিয়েছেন। কারণ, শুটিং শুরু ১৬ ফেব্রুয়ারি।
কী ভাবে পারছেন এত কিছু? পাল্টা প্রশ্ন করতেই জীতু জানালেন, এ বছরের বইমেলায় তাঁর লেখা বই প্রকাশিত হতে চলেছে!
অভিনেতার দাবি, “পরিশ্রম হচ্ছে হয়তো। কিন্তু আমি তো এ রকম পরিশ্রমই চেয়েছি। প্রার্থনা, সকলেই এ রকম পরিশ্রম করে সফল হোন। দুটো দু’ধরনের চরিত্র করার সুযোগ যখন পাচ্ছি, তখন কেন ছাড়ব!” ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে তাই পিছন ফিরে যখন জীতু দেখেন, তখন তাঁর মনে হয়, একজন অভিনেতার জীবনে এটাই স্বাভাবিক। তাঁকে নিয়ে গল্প লিখবেন কাহিনিকার। তাঁকে ভেবে ছবি বানাবেন পরিচালক। জীতু বললেন, “প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাহরুখ খানকেও একটার পর একটা কাজ করে প্রথমে পরিচালকের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে। তার পরে তাঁদের নিয়ে ভেবেছেন পরিচালক। আমিও সেটাই করে চলেছি।”
অর্থাৎ, প্রসেনজিৎ বা শাহরুখের সারিতে ধীরে ধীরে উঠে আসছেন জীতু?
সাময়িক স্তব্ধতা। জীতু ফের হেসে ফেলে বললেন, “জীতু সব সময়েই সেরা।” বলে ফেলেই জানালেন, পুরোটাই রসিকতা। তিনি কোন সারিতে পৌঁছেছেন, সেটা পরিচালক বা দর্শক বলবেন। তিনি শুধু তাঁর কাজটাই করেন। আরও জানালেন, ছবিতে পোড় খাওয়া অভিনেতারা রয়েছেন। তিনি তাই শুটিংয়ের জন্য মুখিয়ে। “বিশেষ করে বরুণ চন্দদা। ওঁর সঙ্গে অনীক দত্তের ‘অপরাজিত’ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ। বিনোদনদুনিয়া সম্পর্কে কত জ্ঞান, কত কিছু জানেন।”
টেলিপাড়া বলছে, ধারাবাহিক ‘তুমি যে আমার’-এর সেট শান্তিপূর্ণ। জীতু তা হলে আগামী দিনে ডাক পেলে ছোটপর্দায় আবার ফিরবেন...। প্রসঙ্গ তুলতেই জবাব দিলেন, “এ বিষয়ে কিচ্ছু বলব না।” অভিনেতার চোখে এই মুহূর্তে সমাজের বড় চোর কে? তাকে আটকানোর উপায়ই বা কি? জীতুর জীবন থেকে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কী চুরি গিয়েছে? প্রশ্ন শুনে মুখ একটু গম্ভীর। ভারী গলায় জবাব দিলেন, “আমরা সবাই চোর। আর যেহেতু চোর, তাই আমাদের কিছুই চুরি যায় না। শুধু সময় ছাড়া।” ইন্ডাস্ট্রি বলে, জীতু নাকি পাকা চোর! সকলের মন চুরি করেন। ফের হাসি ফিরল তাঁর মুখে। অভিনেতা চুলে আঙুল চালাতে চালাতে বললেন, “লোকে মন দেয়। আমিও চুরি করি।”