শিল্প-সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে জয়জিৎ এবং সুজয়প্রসাদ? ছবি: সংগৃহীত।
সোমবার ৪ মে ঘোষিত হল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল। দিন শেষে রাজ্য জুড়ে পদ্মের চাষ হল। দিনভর সকলের নজর ছিল ফলাফলের দিকে। নেতাদের পাশাপাশি অভিনেতাদেরও চোখ ছিল ভোটের ফলাফলের দিকেই। ফল প্রকাশ হতেই একে একে নিজেদের মনের কথা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরলেন শিল্পীরা।
শিল্পসংস্কৃতির বাংলাকে কতটা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারবে বিজেপি? অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় আশাবাদী। তিনি জানান, ‘‘এখানে তো শুধুমাত্র অবাঙালি প্রার্থীরা জেতেননি। বাংলা বাংলাতেই থাকবে। বিজেপির সভাপতিও বাঙালি। বেশির ভাগ বাঙালিই জিতেছে। আশা করব, সব ঠিকঠাকই হবে। পদ্মাসনে যখন পশ্চিমবঙ্গ বসছে, তখন মনে হয় লক্ষ্মীলাভ হওয়াটা উচিত। কারণ এখানে আমরা বলতে পারব না যে, আমরা কেন্দ্রের বঞ্চনার শিকার হব। রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, শরৎচন্দ্রের বাংলা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলেই মনে হয়।’’ যদিও বাঙালি অস্মিতা নিয়ে অভিনেতা সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের মত, ‘‘এ বিষয়ে অন্য শিল্পীরা বলুক। তবে আমি শুধু বলব, ‘বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়’।”
বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি মাছ-মাংস খাওয়া যাবে না! এমন অভিযোগ উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, এ নিয়ে চর্চা হয়েছে পাড়ার মোড়ে মোড়েও। এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট জানিয়ে সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় বলেন ‘‘আমি তো প্রায় বিড়ালের মতো, আমি চারবেলা মাছ খাব। আমি তো তা-ই খাই। আমি মাছ খেতে ভালবাসি। আমার রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে আমার মাছ খাওয়ার তো কোনও সংঘাত নেই! আর আমায় কে কী বারণ করল, তার জন্য তো আমি অপেক্ষা করে থাকব না। আমার ঠিক যেটা মনে হবে, আমি তা-ই করব। সেটা তৃণমূল, সিপিএম, বিজেপি নির্বিশেষে। আর এই মুহূর্তে যাঁরা আমার কথা শুনছেন তাঁদেরও বলব, কারোর কথায় মাছ খাওয়া ছাড়বেন না।’’
বিজেপির জয়ের পর দিকে দিকে মাছ-ভাত, বিরিয়ানি খেয়ে বিজয় উল্লাস চলেছে। এ প্রসঙ্গে জয়জিৎ বলেন, ‘‘মাছে-ভাতে বাঙালি। মাংস-ভাতেও বাঙালি। আর এই নিয়েই বাংলা থাকবে। কোনও রাজনৈতিক দল এসে সেটাকে বন্ধ করার মতো অপচেষ্টা মনে হয় না করবে।’’
দু’জনেই টলিউডের অভিনেতা। তাই টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বদল নিয়ে নিজেদের ভাবনা জানান জয়জিৎ এবং সুজয়প্রসাদ। জয়জিৎ জানান, “ইন্ডাস্ট্রিতে কী বদল আসবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আশা করি, ভালই হবে। ভাল হওয়া তো উচিত।’’ অন্যদি কে সুজয়ের বার্তা, “আমরা যেন চেষ্টা করি যাতে সব কিছু ন্যায্য হয়। অন্যায্য বিষয়টা প্রায় নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মতো হয়ে গিয়েছে। সেটুকুর যেন উন্নতি হয়, এটাই চাইব।’’