(বাঁ দিকে) প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও (ডান দিকে) চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। ছবি: ফেসবুক।
মুখোমুখি ২৫ বছর পর! চন্দ্রাশিস রায়ের ‘বিজয়গড়ের হীরে’ ছবিতে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী-প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আবার এক ফ্রেমে। অতীত দিনের মতো। এখানে চিরঞ্জিৎ গোয়েন্দা ‘কাকাবাবু’ ওরফে প্রসেনজিতের ঊর্ধ্বতন অফিসার।
অভিনীত চরিত্র সম্পর্কে চিরঞ্জিতের বক্তব্য, “আমিই কাকাবাবুকে রহস্যের কিনারা করতে ডেকে আনব। ছবিতে টুকরো টুকরো ভাবে ছড়িয়ে থাকব। পর্দায় অনেক দিন পরে আমি আর প্রসেনজিৎ । আমাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য থাকবে।” পুনর্মিলনের মুহূর্তগুলো কেমন ছিল? প্রশ্ন ছিল আনন্দবাজার ডট কম-এর। চিরঞ্জিতের কথায়, “খুব মিষ্টি। দুই যুগ পরে দেখা। আর কোনও প্রতিযোগিতা নেই। এখন আমরা শুধুই গল্প। শুটিং শুরুর আগে মুম্বই পৌঁছে গিয়েছিলাম। সেখানে বুম্বার বাড়িতে উঠি। কত আড্ডা, কত খাওয়াদাওয়া! তার পর একসঙ্গে হাম্পিতে গিয়ে শুটিং করি।” পুরনো দিনগুলো যেন ফিরে ফিরে আসছিল তাঁর কাছে।
২০২৫-এ একাধিক ছবি, সিরিজ় মুক্তি পেয়েছে চিরঞ্জিতের। তালিকায় ‘ধূমকেতু’, ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’-এর মতো ছবি, সিরিজ় ‘রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য’। টলিউডে তাঁর ঘনিষ্ঠরা উল্লসিত, বাংলা বিনোদনদুনিয়ায় গত বছর চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীই ছেয়েছিলেন!
২০২৬-এও গোড়া থেকেই জমিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছেন অভিনেতা-বিধায়ক। ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘বিজয়গড়ের হীরে’। সঙ্গে সিরিজ় ‘নিকষ ছায়া ২’। সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত সিরিজ়ের কেন্দ্রে তান্ত্রিক-অধ্যাপক ‘ভাদুড়িমশাই’ ওরফে চিরঞ্জিৎ।
চমক আরও আছে। তৃতীয় পর্বে সিরিজ় পরিচালনায় বদল ঘটেছে। আগের দু’টি পর্বের পরিচালক ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তৃতীয় পর্ব পরিচালনা করছেন সায়ন্তন।
এই বদল কেমন লাগল চিরঞ্জিতের? প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। বর্ষীয়ান অভিনেতার কথায়, “যাঁরা ইতিমধ্যেই সিরিজ়ের প্রচারঝলক দেখেছেন, তাঁরা তৃতীয় পর্বকে আরও ঝকঝকে বলছেন।” এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। অভিনেতা উপলব্ধি করেছেন, পরপর দুটো পর্বে অভিনয়ের ফলে তিনি আরও সড়গড়। একই ভাবে আগের দুটো পর্ব খুঁটিয়ে দেখে সায়ন্তনও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। ফলে, সিরিজ়ের কাজ দ্রুত সেরেছেন। “শহরে কড়া শীত পড়ার আগেই আমার অংশের শুটিং শেষ। তাই খুব বেশি কষ্ট পেতে হয়নি”, হাসতে হাসতে বলেছেন অভিনেতা।
এ বছর পুরো শুটিং হয়েছে গভীর রাতের অন্ধকারে। কথায় কথায় সে প্রসঙ্গ নিজেই তুলেছেন অভিনেতা। চিরঞ্জিতের কথায়, “নতুন অভিজ্ঞতা এটি। খুব খারাপ লাগছিল না। তবে প্রথম প্রথম গা ছমছম করেছে আমার মতো ভয়ডরহীন মানুষেরও। একটা বড় এলাকা নিশ্চুপ, অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। জনমানবহীন প্রান্তরে দূর থেকে কখনওসখনও ভেসে আসছে অচেনা গানের সুর। তখন মনে হয়েছে, দিনের বেলায় শুটিং করলে কী এমন ক্ষতি হত!”
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও তিনি। এ বছর বিধানসভা নির্বাচন। বারাসত কেন্দ্রের তিন বারের বিজয়ী বিধায়ক কি এ বছরেও ভোটে লড়বেন?
একটু ভেবে জবাব দিয়েছেন চিরঞ্জিৎ। বলেছেন, “গত বছরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলাম, আর ভোটে দাঁড়াতে চাই না। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, এখনও দেরি আছে। বছর ঘুরলেও মুখ্যমন্ত্রী এখনও কিছুই জানাননি। উনি বললে, নির্বাচনে লড়তেই হবে।”