কোন বিষয়ে কথা বললেন সুব্রত ও অমৃতা? ছবি: সংগৃহীত।
বিনোদনজগতে পুরুষেরাও হেনস্থার শিকার হয়ে থাকেন। অভিনেতা সুব্রত দত্ত স্পষ্ট জানান, মুম্বইয়ে এমন হয়েই থাকে। তাঁর সঙ্গে একাধিক পুরুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন।
বলিউড ও বাংলা ছবিতে সমানতালে কাজ করে চলেছেন সুব্রত। মুম্বইকে তাই খুব কাছ থেকে চেনেন। স্পষ্টই বলেন, “মুম্বইয়ে অন্তত ১০০ জন পুরুষকে চিনি, যাঁদের হেনস্থা হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে মডেলিং দুনিয়ায় রাজস্থান ও পঞ্জাব থেকে আসা ছেলেদের বেশি হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।” তবে সবচেয়ে সংবেদনশীল অবস্থা শিশুদের।
পরিণত হওয়ার পরে যে কোনও মানুষ খারাপ ও ভাল স্পর্শের মাঝে পার্থক্য বোঝে। কিন্তু যে কোনও শিশুর সেটা বোঝার ক্ষমতা নেই। আসন্ন ওয়েব সিরিজ় ‘কাটাকুটি ২’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানালেন সুব্রত। এই সিরিজ়ে রয়েছে ‘পিডোফিলিয়া’র প্রসঙ্গ। অভিনেতার স্পষ্ট বক্তব্য, “এপস্টিন ফাইল্স নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অন্য বহু দেশেও এমন ফাইল্স খুঁজলে পাওয়া যাবে। ক্ষমতাশীল ব্যক্তিরা এ সব করেই থাকে। ‘বিবর’ ছবির সময় আমি নিজেও একটি গবেষণার জন্য সোনাগাছিতে গিয়ে দেখেছি, বহু বাবা-মায়েরাই মেয়েদের বিক্রি করে দিচ্ছে।”
পুরুষদের হেনস্থা হওয়ার ঘটনা এখনও সমাজে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না, মনে করেন অমৃতা চট্টোপাধ্যায়। উল্লিখিত সিরিজ়ে অভিনয় করেছেন তিনিও। তাঁর কথায়, “আসলে শারীরবৃত্তি (ফিজ়িওলজি) দেখে মানুষের ধারণা, পুরুষেরা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম। পুরুষ হয়ে ওঠার আগের স্তরেও হেনস্থা হলে, সে কথা অনেক সময় সামনেই আসে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে খুব কাছের পরিসরের মানুষের কাছেই তো শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কেরা হেনস্থার শিকার হয়ে থাকে।”
মানসিক ট্রমা-র প্রসঙ্গও রয়েছে সিরিজ়ে। মানসিক সমস্যা হলে তা নিজে শনাক্ত করতে পারলে, চিকিৎসায় অনেকটাই সুবিধা হয়। কিন্তু যাঁরা শনাক্ত করতে পারেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে। তাই চেনা পরিসরের বন্ধুবান্ধব কারও সাহায্যের দরকার মনে হলে, মনোবিদের পরামর্শ নিতে বলেন অমৃতা।
উল্লেখ্য, রাজা চন্দ পরিচালিত এই সিরিজ়ে অমৃতা ও সুব্রত ছা়ড়াও অভিনয় করেছেন, শাওন চক্রবর্তী, শুভ্রজিৎ দত্ত, আলকারিয়া হাশমী, অলকানন্দা রায়ও। ছবির সঙ্গীতের কাজ করেছেন রাজা চন্দের পুত্র রাজপুত্র চন্দ।