মাটির কাছাকাছি থাকতে ভালবাসেন জয়া আহসান। ছবি: ফেসবুক।
দুই বাংলার জয়া আহসান আপাতত নিজের দেশে। কিন্তু তিনি যে ভাল নেই! দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রীর খোঁজ নিতে গিয়েই ফাঁস, ঠান্ডা লাগিয়ে বিছানা নিয়েছেন।
তার মধ্যেই দিন কয়েক ধরে রকমারি ভিডিয়ো আর ছবি ভাগ করে নিচ্ছেন জয়া। কখনও তিনি পোষ্যের খাবার রান্না করছেন। কখনও তাঁর তোতাপাখি তাঁর চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে গ্রিন টি খাচ্ছে! কখনও নিজের খেত থেকে রাঙাআলু তুলতে দেখা গিয়েছে। এত কিছু মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়, মাটির উনুনে জয়ার রান্নাবান্না!
পোষ্যের জন্য মাটির উনুনে রান্নায় ব্যস্ত জয়া। ছবি: ফেসবুক।
যাঁর এত খ্যাতি, এত সম্পদ, দুই বাংলা যাঁকে এক ডাকে চেনে— তাঁর মাটির রান্নাঘর, মাটির উনুন?
প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। ফোনের ও পারে নায়িকার ভারী কণ্ঠস্বর। প্রথমে কুশল বিনিময়। জানালেন, এই কাণ্ড করতে গিয়েই ঠান্ডা লেগেছে তাঁর। বাধ্য হয়ে বাড়িতে বন্দি। তখনই কথায় কথায় বললেন, “পাকা বাড়ির পাশাপাশি আমাদের মাটির বাড়িও আছে। সেখানে খেত আছে। সামান্য কিছু সব্জি, ফল, চাষ করি। ওই বাড়ির বাইরে একটি মাটির রান্নাঘর আছে। সেখানে মাটির চুলা। আপনারা যাকে তোলা উনুন বলেন। সেখানে কাঠের জ্বালে বা আগুনে রান্না করি আমরা।”
মাটির কাছাকাছি থাকতেই কি এত কিছু? প্রশ্ন শুনে মিষ্টি হেসে জানালেন, গ্রামবাংলার মেঠো রাস্তা, মাটির গন্ধ, বাটামশলার রান্না-- আজও তাঁকে টানে। তিনি, তাঁর পরিবার তাই সুযোগ পেলেই পৌঁছে যান মাটির বাড়িতে।
শনিবারের দুপুরেই যেমন, জয়ার মা হাঁসের মাংস রান্না করেছেন তোলা উনুনে। বাটা মশলা, চুঁইঝাল দিয়ে জমিয়ে রান্না হচ্ছে। সঙ্গে পাঁচ রকমের ভর্তা আর চিতোই পিঠে। “কিছু পিঠে নলেন গুড়ে জ্বাল দেওয়া হয়েছে। কিছু পিঠে গুড় মাখিয়ে খাওয়া হবে। এগুলোর সঙ্গে মা রাঁধছেন আতপ চালের খুদ দিয়ে পোলাও”, বললেন জয়া। নায়িকার মা এখনও মাটির উনুনে, কাঠের আঁচ রাঁধতে ভালবাসেন। অভিনেত্রীর দাবি, এতে রান্নায় ধোঁয়াওঠা গন্ধ মিশে যায়। বার-বি-কিউও খুব ভাল হয়।
পোষা তোতাপাখি জয়া আহসানের সঙ্গে গ্রিন টি খাচ্ছে! ছবি: ফেসবুক।
জয়া যেমন নিজের খেতের রাঙাআলু তুলে এনে নিভে আসা উনুনে পুড়িয়ে খান!
কথায় কথায় এ-ও জানালেন, আপাতত নিজের দেশে শীতের ছুটি কাটাচ্ছেন। তবে এই ছুটি যে বেশিদিনের নয়, সেটাও জানিয়েছেন। “সম্ভবত ৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে আমার ‘ওসিডি’ ছবিটি। পরিচালনায় সৌকর্য ঘোষাল। তখনই আবার আমি কলকাতায়।”