Koushani Mukherjee In New Series

কাজ করব, না বিয়ে? বনির সঙ্গেও দেখা করতে পারি না! আগে সকলের বিয়েতে খাই, তার পর সাতপাক: কৌশানী

“পিছন ফিরে দেখলে মনে হয়, অঙ্ক না কষেই বেশি বেশি কাজ করে ফেলেছি। দ্বিতীয় বার সুযোগ পেয়ে সে বিষয়ে সাবধানি হয়েছি”, দাবি অভিনেত্রীর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৫
Share:

কৌশানী মুখোপাধ্যায় কি বদলে গিয়েছেন? ছবি: ফেসবুক।

পেশাজীবনে কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের কি দ্বিতীয় জন্ম হল? টলিউডে ফিসফাস তেমনই। সম্প্রতি হইচই ওয়েব প্ল্যাটফর্মের একগুচ্ছ নতুন সিরিজ়ের নাম ঘোষণা হয়েছে। সেই তালিকায় কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘আদালত ও একটি মেয়ে’। নামভূমিকায় কৌশানী।

Advertisement

সাল ১৯৮২। তপন সিংহের বিখ্যাত ছবি ‘আদালত ও একটি মেয়ে’ জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত। ধনী, প্রভাবশালী পরিবারের এক মেয়ে গণধর্ষিতা। যার ফলে, সমাজ এবং নিজের পরিবারের কাছে সে একঘরে। হাজার লাঞ্ছনার শিকার হয়েও মেয়েটি দমে যায়নি। আদালতে ন্যায়বিচারের আশায় লড়েছিল সে।

সাল ২০২৬। সময় কতটা বদলেছে? সমীক্ষা, তথ্য এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধর্ষণের পরিমাণ কমেনি। নারীদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। হয়তো বদলেছে অত্যাচারের ধরন। শারীরিক অত্যাচারের পাশাপাশি বেড়েছে মানসিক হেনস্থাও। পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নারী যত পেশাজীবনে এগিয়ে গিয়েছে, ততই তাকে রুখতে তৈরি হয়েছে অত্যাচারের রকমারি ফাঁদ! আনন্দবাজার ডট কম-কে কৌশানী বললেন, “এ রকমই একটি মেয়ে জয়িতা। মেয়েটি চাকরিক্ষেত্রে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অন্যায়ের শিকার। সে-ও ন্যায় খুঁজতে আদালতের দ্বারস্থ। শেষ পর্যন্ত ন্যায় পাবে কি না, সেটাই আপাতত রহস্য।”

Advertisement

‘জয়িতা’ লুকে কৌশানী মুখোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

নায়িকাও যথেষ্ট প্রতিবাদী। অন্যায় দেখলে মুখের উপরে বলেন! কথাশেষের আগেই জবাব হাজির। কৌশানীর কথায়, “অবশ্যই। বিশেষ করে মেয়েদের উপরে অত্যাচার, হেনস্থা হতে দেখলে নিজেকে সামলাতে পারি না। কিন্তু সব সময়ে তো পদক্ষেপ করতে পারি না। এই সিরিজ় সেই প্রতিবাদী সত্তাকে সাধারণের কাছে পৌঁছে দেবে।” পাশাপাশি, জয়িতা তাঁকে নিংড়ে নিচ্ছে, এ কথাও জানাতে ভোলেননি তিনি। “জানেন, এক একটা দৃশ্য করার পর ভেতরটা ব্যথায় ছেয়ে যাচ্ছে। আমি সেই উপলব্ধি ধরে রাখছি। শুটিং শুরুর পর থেকে সেটে, বাড়িতে কম কথা বলছি। এই ব্যথা, এই যন্ত্রণাই আমায় দিয়ে রোজ অভিনয় করিয়ে নিচ্ছে।”

কৌশানী ছাড়াও সিরিজ়ে অভিনয় করছেন কৌশিক সেন, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়। উভয়কেই আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে। এ ভাবে কি নারী-হেনস্থা আটকানো যাবে? “চেষ্টা তো করতেই হবে। প্রতিবাদও জানাতে হবে। পর্দায় যত বেশি নারীদের সমস্যার কথা তুলে ধরা হবে, তত সমাজ সচেতন হবে”, এমনটাই আশা করেন অভিনেত্রী।

টান টান কোর্টরুম ড্রামা। এক প্রতিবাদী, অত্যাচারিত মেয়ের চরিত্রে অভিনয়। কমলেশ্বরের পরিচালনায় অভিনয়। কৌশানী ‘হ্যাঁ’ বলার আগে দ্বিতীয় বার ভাবেনইনি! টলিউডে গুঞ্জন, আগের কৌশানী আর এখনকার কৌশানীর মধ্যে নাকি আকাশপাতাল ফারাক? এখন বেছে ছবি, সিরিজ় করছেন। ভাল চরিত্র, বড় পরিচালক ছাড়া কাজ করছেন না! “আগে অঙ্ক না কষেই বেশি বেশি কাজ করে ফেলেছি। বছরে চারটে ছবি মুক্তি পেয়েছে। একটা সময়ের পর দেখলাম, কৌশানী যেন হারিয়ে যাচ্ছে। রাশ টানলাম। ধৈর্য ধরলাম। অপেক্ষা করলাম ভাল কাজের, প্রথম সারির পরিচালকের থেকে ডাক পাওয়ার। জীবন দ্বিতীয় বার সুযোগ দিয়েছে। কৌশানী তাই অনেক সাবধানি। বুঝে কাজ নেয়। একগাদা ছবি বা সিরিজ়ে অভিনয় করে না আর।”

হাতেনাতে ফলও পেয়েছেন। কৌশানীকে পর্দায় বেশি দিন দেখতে না পেলে হাঁপিয়ে ওঠেন তাঁর দর্শকেরা। কবে আসবেন পর্দায়? অপেক্ষায় থাকেন তাঁরা।

আর বিয়ে? বছর আসে বছর যায়। বনি-কৌশানীর বিয়ের গল্প যেন ‘সোনার পাথরবাটি’!

এ বার জোর হাসি। ফোনের ও পার থেকে উত্তর ভেসে এল, “দ্বিতীয় বার সুযোগ পেয়ে কেউ তা হারায়? এখন কাজ না করে বিয়ে করব! এত ব্যস্ততা, এত কাজের চাপ যে বনির সঙ্গে দেখা করার সুযোগটুকুও পাই না!” একটু দম নিয়েই ফের রসিকতা, “দাঁড়ান, আগে সকলের বিয়ে খাই। তার পর না হয় ছাঁদনাতলায় যাওয়ার কথা ভাবব।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement