পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। —ফাইল চিত্র।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী রেভোলিউশনারি গার্ডের দাবি, তারা আমেরিকা এবং ব্রিটেনের তৈলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল এবং হরমুজ় প্রণালীতে ওই মার্কিন এবং ব্রিটিশ তৈলবাহী জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি ইরানের।
ইরানের ৯টি রণতরী ধ্বংস করে ডুবিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। রবিবার সমাজমাধ্যমে এমনটাই দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামরিক অভিযানে ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। মৃত্যু হয় সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধান এবং রেভোলিউশনারি গার্ড্স কোরের এক কমান্ডারেরও। এ বার ট্রাম্পের দাবি, সব মিলিয়ে ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন ইরানে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের কোনও ক্ষতিই হয়নি। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তাদের রণতরীর ধারেকাছেই ঘেঁষতে পারেনি বলে জানাচ্ছে আমেরিকার সামরিক বাহিনী।
ইরানে হামলার সময়ে নিহত হয়েছেন তিন মার্কিন সেনাকর্মী। রবিবার রাতে এমনটাই জানিয়েছে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।
ওমান উপসাগরে ইরানি জাহাজকে ধ্বংস করল আমেরিকা। মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এমনটাই জানিয়েছে সমাজমাধ্যমে। চাবাহারের কাছে একটি জাহাজকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে হামলা চালাল ইরান। রবিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে এমনটাই জানা যায়। ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে মার্কিন রণতরীকে লক্ষ্য করে। যদিও ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আপাতত মার্কিন নাগরিকদের ইজ়রায়েল ছাড়তে সাহায্য করার মতো অবস্থায় নেই দূতাবাস। রবিবার বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে জেরুসালেমে অবস্থিত আমেরিকার দূতাবাস।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ইরানি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত তিন জন। জখম হয়েছেন আরও ৫৮ জন। নিহতদের মধ্যে এক পাকিস্তানি, এক বাংলাদেশি এবং এক নেপালি রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার অশান্তিতে কুয়েতে নিহত হয়েছেন এক জন। আরও অন্তত ৩২ জন জখম হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে, আহতদের আল-আদান হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি কবলিত এলাকায় আরও এক সপ্তাহ পরিষেবা কাটছাঁট করল উড়ান সংস্থা লুফতহানসা। জার্মান উড়ান সংস্থা জানাচ্ছে, আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত তারা তেল আভিভ, তেহরান, বেইরুট-সহ বেশ কিছু শহরে পরিষেবা বন্ধ রাখছে।
ইজ়রায়েলের বেইত শেমেস শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র মারফত এমনটাই জানাচ্ছে রয়টার্স।
রবিবার হরমুজ় প্রণালীতে একটি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কে বা কারা ওই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। হরমুজ প্রণালী পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বের বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। প্রচুর পণ্যবাহী জাহাজ এই পথে যাতায়াত করে।
রবিবার বিকেলে দুবাইয়ে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যেতে শুরু করেছে। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাহারিন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করে দিল ব্রিটিশ দূতাবাস। যাঁরা ওই দেশগুলিতে রয়েছেন, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ওই দেশগুলিকে আপাতত না যাওয়ার অনুরোধ করেছে ব্রিটিশ দূতাবাস।
খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে এ বার মুখ খুলল ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ইউরোপীয় জোটের বিদেশনীতি বিষয় প্রধান কাজ়া কালাসের কথায়, “খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে ইরানের ইতিহাসে এক নির্ধারক অধ্যায়।”
বাহরিনে মার্কিন দূতাবাস সে দেশে থাকা আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। বাহরিনের রাজধানী মানামার হোটেলে আপাতত না-থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। মানামার হোটেলগুলিতে ফের হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তারা।
ইরানে হামলার বিরুদ্ধে শনিবারই মুখ খুলেছিল রাশিয়া। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের আচরণকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছিল। রবিবার খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও ফের আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে বিঁধেছে মস্কো। খামেনেইয়ের হত্যাকে ‘অনৈতিক’ বলে নিশানা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এটিকে একটি ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। পুতিনের কথায়, এই হত্যাকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।
আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে নতুন আয়াতোল্লা (সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা) বেছে নিল ইরান। খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হিসাবে অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ আরাফিকে। তিনিই হচ্ছেন নতুন আয়াতোল্লা। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর প্রধান আলি লারজানি বলেন, “আজ আমরা ওদের উপর এমন হামলা করব, যা ওরা কখনও দেখেনি।” ট্রাম্পও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ওরা বলছে ওরা নাকি আরও জোরালো হামলা করবে। ওরা এমন না করলেই ভাল। কারণ যদি ওরা এমন কিছু করে, আমরাও এমন হামলা করল, যা ওরা কখনও দেখেনি।”