Armaan Malik interview

‘প্রত্যেক শিল্পী একদিন ভাবেন, তাঁকে আসলে কী তৃপ্তি দেয়’, কেন এমন বললেন আরমান?

একাধিক সফল গান গেয়েছেন আরমান মালিক। তার মধ্যে রয়েছে ‘যব তক’, ‘বোল দো না জ়রা’, ‘পহেলা পেয়ার’-এর মতো গান। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠান করে গেলেন গায়ক।

Advertisement

স্বরলিপি দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭
Share:

গানের সফর নিয়ে বললেন আরমান। ছবি: সংগৃহীত।

একাধিক সফল গান গেয়েছেন তিনি। অরিজিৎ সিংহ প্লেব্যাক গাওয়া থেকে অবসরের ঘোষণা করার পরে তাঁর শূন্যস্থান পূরণের তালিকায় যে সব নাম উঠে আসছে, তাদের মধ্যে অন্যতম আরমান মালিক। বড় হয়েছেন সঙ্গীতের পরিবারে। বাবা ডাবু মালিক পেশায় সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা এবং কাকা অনু মালিক প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত পরিচালক। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠান করে গেলেন গায়ক। তার মধ্যেই গান নিয়ে আনন্দবাজার ডট কমের নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন আরমান।

Advertisement

প্রশ্ন: শৈশব থেকেই বলিউডকে কাছ থেকে দেখেছেন। পেশাদার গায়ক হিসাবেও কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর। শুরুর সময় থেকে এখনও পর্যন্ত বলিউডের সঙ্গীতে নানা বদল এসেছে। কী ভাবে দেখেন?

আরমান: আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন ছবির গানও অ্যালবাম-কেন্দ্রিক ছিল। সে সব গান মানুষের মনে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকত। ছবির গল্পের সঙ্গে গানগুলির গভীর যোগ থাকত।

Advertisement

প্রশ্ন: এখন আর সেটা হয় না?

আরমান: এখন সব কিছু অনেক দ্রুত বদলে যায়। আরও বেশি পরীক্ষানিরীক্ষা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রভাব আছে, আর সঙ্গে সঙ্গে সফল হওয়ার চাপও রয়েছে। এই অভ্যাসে ভাল না কি খারাপ হয়েছে, সেই দিকে যাচ্ছি না। তবে বিষয়টা অন্য রকম হয়ে গিয়েছে। আসলে এখন চ্যালেঞ্জটা হল, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এমন কিছু তৈরি করতে হবে, যাকে সময় ধরে রাখতে পারবে না।

প্রশ্ন: আজকের বলিউড গায়কদের নিজেদের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশের যথেষ্ট জায়গা দেয়, না কি সবটাই ট্রেন্ড-নির্ভর হয়ে গিয়েছে?

আরমান: হ্যাঁ, অনেক সময়েই ট্রেন্ড-নির্ভর হয়ে যায়। কিন্তু আমি এটাও বিশ্বাস করি, নিজস্বতা দেখানোর থাকলে, তার ঠিক একটা রাস্তা তৈরি হয়ে যায়ই। যে জিনিসের চল রয়েছে, ইন্ডাস্ট্রির হয়তো সেই দিকে ঝোঁক থাকে। কিন্তু শ্রোতারা ঠিক বলতে পারেন, কোন গায়কির মধ্যে স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। তবে সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নিজেদের কণ্ঠ ও পরিচিতিকে রক্ষা তো করতেই হবে। ক্রমশ আমি এই বিষয়ে সতর্ক হয়েছি।

প্রশ্ন: কলকাতায় আগেও অনুষ্ঠান করেছেন একাধিক বার। এই শহরের সঙ্গে সঙ্গীতের এক গভীর যোগ রয়েছে! সত্যিই কি এখানে অনুষ্ঠান করতে আসার আবেগ কিছুটা আলাদা?

আরমান: এখানে মানুষ মন দিয়ে গান শোনেন। এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এখানকার শ্রোতারা শুধুই ‘চিয়ার’ করেন না। তাঁরা গান অনুভব করেন। সাহিত্য আর সংস্কৃতির গভীরতা রয়েছে এখানে। যার ফলে এখানে গান গাওয়া তুলনামূলক আমার কাছে আবেগের। মঞ্চ থেকে অনুভব করতে পারি, এখানে শ্রোতা গানের কথা, সুরকে গুরুত্ব দেন। তাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মনে হয়, এই শ্রোতাদের অনেক কিছু দেওয়া যায়।

প্রশ্ন: কলকাতায় অনুষ্ঠান করার আগে কী ভেবে গানের তালিকা ঠিক করেন?

আরমান: কলকাতার মতো শহরের জন্য আমি সব সময় তুলনায় শান্ত ধরনের গান ও বেশি মেলোডির দিকটা খেয়াল রাখি। এখানকার মানুষকে ‘ব্যালাড’ বিশেষ ভাবে ছুঁয়ে যায়। যখন অনুষ্ঠানে শ্রোতারা নরম কণ্ঠে সঙ্গে সঙ্গে গেয়ে ওঠেন, তখনই ম্যাজিকটা তৈরি হয়। সেই মুহূর্তগুলো অনুষ্ঠান শেষের অনেক পরেও মনে থেকে যায়।

প্রশ্ন: অমাল মালিক ও আরমান মালিক— বলিউডের আলোচিত দুই ভাই। বলিউডে একযোগে বেশ কিছু সফল গান রয়েছে আপনাদের। আপনাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কোনও ভাবে পেশাদার রসায়নে প্রভাব ফেলে?

আরমান: অমালের সঙ্গে কাজ করা একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ততা থেকে আসে। আমরা একই ধরনের সাউন্ড আর গানের পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছি। একে অপরকে এত ভাল ভাবে চিনি যে, স্টুডিয়োয় অনেক সময় কথা না বলেও সবটা বোঝা হয়ে যায়। কখনও কখনও শুধু একটা দৃষ্টিই যথেষ্ট। এই ব্যক্তিগত বন্ধনের জন্যই স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয়ে যায়। গানের মাধ্যমে আমরা সৃষ্টিশীল ভাবে নিজেদের দুর্বলতাও প্রকাশ করতে পারি অনায়াসে।

প্রশ্ন: আপনাদের দু’জনের মধ্যে কি কখনও সৃজনশীল মতবিরোধ হয়েছে? ভাই আর সহকর্মী— এই দুই পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য কী ভাবে রাখেন?

আরমান: অবশ্যই হয়েছে। প্রথমে আমরা ভাই। তাই মতবিরোধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা শিখেছি কী ভাবে অহংকে শিল্পের বাইরে রাখতে হয়। স্টুডিয়োয় সব সময়ে সঙ্গীতেরই জয় হয়। সেটাই যখন অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে, তখন বাকিটা এমনিতেই সহজ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: অরিজিৎ সিংহ প্লেব্যাক গাওয়া থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেছেন। একজন সমসাময়িক শিল্পী হিসাবে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

আরমান: অরিজিতের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত খুব ব্যক্তিগত জায়গা থেকে আসে। প্রত্যেক শিল্পী একটা সময় এসে ভাবেন, আসলে তাঁকে কোন বিষয়টা তৃপ্তি দেয়। আমার মনে হয়, এক জায়গায় এসে থেমে গিয়ে নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবার জন্য সাহস লাগে।

প্রশ্ন: সঙ্গীতজগতে টিকে থাকতে ও আত্মতুষ্টি পেতে আজকের শিল্পীরা কি অন্য ভাবে ভাবছেন? অরিজিতের এই ঘোষণা কি তেমনই ইঙ্গিত দেয়?

আরমান: হ্যাঁ, আমি তা-ই মনে করি। আজকের শিল্পীরা জীবনের ভারসাম্য ও জীবনে অর্থ নিয়ে বেশি ভাবেন। আগে বিষয়টা ছিল, আরও বেশি করে কাজ করা, আরও বেশি অর্জন করা। এখন শিল্পীরা নিজেদের প্রশ্ন করেন— কেন করছি? দীর্ঘস্থায়িত্ব মানে আজ শুধু দৃশ্যমান থাকা নয়।

প্রশ্ন: সঙ্গীত তৈরিতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এখন বিশেষ অংশ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে শিল্পীদের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে হয়?

আরমান: আমি এটাকে একটি ‘টুল’ হিসাবেই দেখি। প্রযুক্তি সবসময়ই সঙ্গীতকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু অনুভূতি আনতে পারে না এআই। এআই কিছু সাহায্য করতে পারে গান তৈরির ক্ষেত্রে। কিন্তু গানের আত্মা আসে জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। যেটা কেবল মানুষের পক্ষেই সম্ভব।

প্রশ্ন: কিন্তু আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে গায়ক, গীতিকার ও সুরকারদের ভূমিকা এআই বদলে দেবে বলে মনে হয় না?

আরমান: কাজের গতি বদলাতে পারে, কিছু প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয়, তখন মানুষের অনুভূতি আরও মূল্যবান হয়ে উঠবে।

প্রশ্ন: কী ভাবে?

আরমান: এআই-এর মাধ্যমে সব কিছু তৈরি করা সম্ভব হবে হয়তো, কিন্তু সেখানে তো অনুভূতি থাকবে না। যে জিনিস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে তৈরি নয়, তা তো অবশ্যই মূল্যবান হয়ে উঠবে। সেই অর্থেই, মানব অভিব্যক্তির মূল্য হয়তো আরও বেড়ে যাবে।

প্রশ্ন: একাধিক সফল গান রয়েছে আপনার। কোন গীতিকার-সুরকারদের গান এই সফল তালিকার প্রথম তিনে রাখেন?

আরমান: এই প্রশ্নটা সব সময়ই কঠিন। তবে এই মুহূর্তে যদি তিনটি বেছে নিতে হয়, তা হলে বলব অমালের তৈরি করা ‘চলে আনা’। কারণ গানটা মানুষের সঙ্গে খুব গভীর সংযোগ তৈরি করতে পারে। দ্বিতীয়টা হল এস থামানের পরিচালিত গান ‘বুট্টা বম্মা’। এই গানের মধ্যে অদ্ভুত এক আনন্দ রয়েছে। আর তৃতীয়টা নিজের গান ‘ইউ’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement