এআর রহমান। ছবি: সংগৃহীত।
দীর্ঘ সঙ্গীতজীবন তাঁর। দক্ষিণী ছবি থেকে বলিউড, হলিউডে কাজ। একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। রহমানের কর্মজীবনে কি ধর্মীয় প্রভাব পড়ে? রহমানের সাফ কথা, ‘‘আমি মুসলিম হয়েও ‘রামায়ণ’ ছবিতে সুর করছি।’’ তবে তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পৃথিবীখ্যাত সুরকার হ্যান্স জিমার।
রহমানের জন্ম হিন্দু বাড়িতে। বাবা-মা নাম রেখেছিলেন দিলীপ কুমার। নামটা বিশেষ পছন্দ ছিল না তাঁর। এক হিন্দু জ্যোতিষীর পরামর্শেই নাকি নিজের নাম রাখেন রহমান। মুসলিম নাম গ্রহণ করলেও তিনি বিশ্বাসী সুফিবাদে। রহমানের মতে, ধর্ম নিয়ে বিভাজন যাঁরা করেন, আসলে তাঁরা নিজেদের নিচু মানসিকতার পরিচয় দেন। রহমানের কথায়, ‘‘আমি পড়াশোনা করেছি একটি ব্রাহ্মণ স্কুলে, ছোট থেকেই আমাদের ‘রামায়ণ’ এবং ‘মহাভারত’ পড়ানো হত। তাই আমি গল্পগুলো জানি। এই মহাকাব্যগুলো উচ্চতর আদর্শের কথা বলে। মানুষ তর্ক করতেই পারেন, কিন্তু আমি সমস্ত ভাল জিনিসের মূল্য দিতে জানি — যে কোনও ভাল জিনিস যা থেকে আমি কিছু শিখতে পারি। নবী বলেছেন, জ্ঞান অমূল্য জিনিস। সেটা যে কোনও জায়গা থেকে পাওয়া যায়। ভাল যা কিছু তা গ্রহণ করতে লজ্জা পাওয়া উচিত নয়।”
রহমান মনে করেন, মানুষের ক্ষুদ্র মনোভাব এবং স্বার্থপরতা থেকে উন্নীত হওয়া দরকার। সুরকারের কথায়, ‘‘এই সংকীর্ণতা থেকে বেরোতে পারলেই আমরা উন্নীত হব। আমি এই ছবিটি নিয়ে গর্বিত। হ্যান্স জিমার ইহুদি, আমি মুসলিম এবং ‘রামায়ণ’ হিন্দু (মহাকাব্য)।’’