‘ফসিল্স’-এর সাফল্য কি সমগ্র বাংলা সঙ্গীতজগতের সাফল্য? ছবি: সংগৃহীত।
মুক্তি পেয়েছে ‘ফসিল্স’ ব্যান্ডের নতুন অ্যালবাম ‘ফসিল্স ৭’। মুক্তির দু’দিনের মধ্যে বাংলা ব্যান্ডের মুকুটে নতুন পালক। বিশ্বব্যাপী মিউজ়িক প্ল্যাটফর্ম ‘আইটিউন্স’-এ এক নম্বরে জায়গা করে নিল অ্যালবামটি। শুধু বাংলা গানের মধ্যেই নয়, বিশ্বের সমস্ত ঘরানা ও শিল্পীদের মধ্যে টানা অনেকক্ষণ প্রথম স্থানে রইল ‘ফসিল্স ৭’। বাংলা সঙ্গীতজগতের ভবিষ্যৎ কি আরও নিরাপদ হল? নাকি নির্দিষ্ট ব্যান্ডের ভক্তকুলের উত্তেজনায় এই সাফল্য?
ব্যান্ডের তরফ থেকে ম্যানেজার রূপসা দাশগুপ্ত জানান, কখনওই রাজ্যের মধ্যে নিজেদের গানকে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি তাঁরা। তাঁর কথায়, “আন্তর্জাতিক না হলেও, আমরা সব সময়েই নিজেদের গানকে জাতীয় স্তরের বলেই মনে করে এসেছি।” আরও একটি বিষয় তুলে ধরেন রূপসা। তিনি বলেন, “একটা জিনিস সত্যিই দেখার। আমরা কিন্তু অনেকটা সময় ধরে এক নম্বরে রয়েছি। তবে দ্বিতীয় স্থান কিন্তু পরিবর্তনশীল। কখনও সেখানে ‘ধুরন্ধর’ ছবির গান। কখনও আবার আমেরিকার পপ রক ব্যান্ড ‘ইম্যাজিন ড্র্যাগন্স’। আবার শিবরাত্রি উপলক্ষেও বেশ কিছু ভক্তিগীতি বেজেছে। কিন্তু এক নম্বরে ঠায় রয়েছে ‘ফসিল্স ৭’।”
বাংলা গানের অ্যালবাম বিশ্বমঞ্চে এক নম্বরে। এই বিষয়কে অন্য শিল্পীরা কী ভাবে দেখছেন? ‘লক্ষ্মীছাড়া’ ব্যান্ডের গৌরব চট্টোপাধ্যায় তথা গাবুর স্পষ্ট বক্তব্য, বরাবরই তাঁর বাংলা গানের উপর ভরসা রয়েছে। ক্রমশ বাংলা গানের জগৎ এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন। ‘ফসিল্স’-এর এক নম্বর হওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “অবশ্যই ‘ফসিল্স’-এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তা ছাড়াও ওদের বিরাট একটা ফ্যানক্লাব রয়েছে, যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। ওদের অনুষ্ঠানে ভিড় দেখলেই বোঝা যায়, ব্যান্ডটা কতটা জনপ্রিয়। তাই এমন ফলাফল হওয়া খুবই স্বাভাবিক।”
একই প্রসঙ্গে কিছুটা ভিন্ন মত ‘চন্দ্রবিন্দু’ ব্যান্ডের উপল সেনগুপ্তের। প্রথমেই তিনি বলেন, “অবশ্যই বাংলা সঙ্গীতের জন্য এটা বড় সাফল্য। ফসিল্স-কে শুভেচ্ছা।” তবে কী ভাবে এই সাফল্য, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই তাঁর, জানান শিল্পী। তাঁর কথায়, “বাংলা গান খুব জনপ্রিয় হচ্ছে বলে না কি শুধু ‘ফসিল্স’-এর জনপ্রিয়তার জন্য এমন সাফল্য, তা আমি বলতে পারব না। না কি হঠাৎ বিশ্বব্যাপী মানুষ বাংলা গান শোনা শুরু করেছেন, এটা বলা খুব মুশকিল। এটা সময় বলবে। যাঁরা এই বিষয়ে বিশ্লেষণ করেন, তাঁরা বলতে পারবেন।”
‘ফসিল্স ৭’ অ্যালবাম প্রকাশ পাওয়ার আগে থেকেই উত্তেজিত ছিলেন ‘পৃথিবী’ ব্যান্ডের কৌশিক চক্রবর্তী। তাই ‘আইটিউন্স’-এ এক নম্বর হওয়ার খবর পেয়েই তিনি বলে ওঠেন, “এটা ব়ড় প্রাপ্তি। বাংলা ব্যান্ডের ভাল মানে আমাদের সবার ভাল। রূপমদা ও ‘ফসিল্স’ আসলে আমার কাছে খুব স্পেশাল। অ্যালবাম থেকে ‘ক্ষুধার্ত মাংসাশী’ ও ‘শুনেছি’ গানদুটো খুব ভাল লেগেছে। সত্যিই ওদের বড় সংখ্যক শ্রোতা রয়েছে। সেই শ্রোতা কিন্তু বিশ্ব জুড়েই রয়েছে। এই সাফল্যে বাংলা ব্যান্ড ও বাংলা গানের সামগ্রিক ভাবে ভাল হচ্ছে বলেই আমি মানি।”