Sidhu on Rupam Islam

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, কিন্তু আমি ক্ষমায় বিশ্বাসী! রেষারেষি বেশি আমাদের ভক্তদের মধ্যে

কিছু জিনিস ভুলে যেতে চেয়েছিলাম। ভুলে গিয়েছিও। আজ রূপমের জন্মদিনের মতো শুভ মুহূর্তে সে সব মনে করতেও চাই না।

Advertisement

সিধু

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

রূপমের জন্মদিনে লিখলেন সিধু। ছবি: সংগৃহীত।

রূপমের জন্মদিন। কাজের প্রতি ওঁর নিষ্ঠাকে আমি সত্যিই সম্মান করি। ওঁকে একটা সময়ে বহু পরিশ্রম করতে দেখেছি। সেটা ছাড়া তো কোনও ভাবেই সাফল্য আসে না। পাশাপাশি প্রতিভা তো রয়েছেই।

Advertisement

এটা ঠিক, এক সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ‘ক্যাকটাস’ ও ‘ফসিল্‌স’-এর মধ্যে। ঠিক যেমন ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের মধ্যে বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। তবে সেই দিনগুলো আমি মনে করতে চাই না। ওই দিনগুলো পেরিয়ে এসেছি। আমি আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী। আধ্যাত্মিকতা অভ্যাস করি। সেই পাঠেরই অন্যতম অধ্যায় হল ক্ষমা। ক্ষমার গুরুত্ব না বুঝলে বৃহত্তর আনন্দে পৌঁছোনো যায় না। তাই কিছু জিনিস ভুলে যেতে চেয়েছিলাম। ভুলে গিয়েছিও। আজ রূপমের জন্মদিনের মতো শুভ মুহূর্তে সে সব মনে করতেও চাই না।

তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা প্রতিযোগিতার কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অলিগোপলি বাজারে (অল্প প্রতিযোগিতার বাজার) যেমন দু’জনের মধ্যেই লড়াই চলে। অন্য কেউ জায়গা করতে পারে না। আমাদেরও সেই সময়ে কিছুটা তেমনই হয়েছিল। আসলে রেষারেষি আমাদের মধ্যে যা থাকে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি থাকে আমাদের অনুরাগীদের মধ্যে। আমাদের দেখা হলে যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবেই কথা বলি। কিন্তু আমাদের ফ্যানক্লাবের সদস্যদের মধ্যে হয়তো ঝগড়াঝাঁটি ইত্যাদি হয়। তবে বাংলা রক নিয়ে এই অলিগোপোলি-টা একসময়ে ‘ক্যাকটাস’ ও ‘ফসিল্‌স’ উপভোগ করেছে এবং করে চলেছে। আমরা বর্ধমান মাঘ উৎসবে অনুষ্ঠান করলাম। একই মঞ্চে পাঁচ দিন পরে ‘ফসিল্‌স’-এর অনুষ্ঠান। অর্থাৎ এখনও মানুষ আমাদের একই ভাবে গ্রহণ করে। এ বার ‘ক্যাকটাস’ ও ‘ফসিল্‌স’-এর মধ্যে কে কাকে বেছে নেবে, সেটা তো একেবারেই অনুরাগীদের উপর নির্ভর করছে। অধিকাংশ অনুরাগীরই বয়স কম। ওঁদের আবেগও খুব তীব্র হয়। সেখান থেকেই নানা প্রতিক্রিয়া দিয়ে ফেলেন ওঁরা। আমার তো দূর থেকে দেখে ভালও লাগে।

Advertisement

একসঙ্গে তো কাজও হয়েছে। ‘রেফারির বাঁশি’-তে (সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘কিলবিল সোসাইটি’র গান) গেয়েছি আমরা। এ ছাড়া, ‘ফলিল্‌স’-এর সঙ্গে কাজ হলে, আমাদেরও ভাল করেই প্রস্তুতি নিতে হয়। কারণ আমরা জানি, ওদের ১১০ শতাংশ প্রস্তুতি ও মনোসংযোগ থাকে কাজের প্রতি। সেখানে আমাদের যাতে ফিকে না দেখায়, সেই দিকে খেয়াল রাখি। দু’জনেরই যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকে।

কয়েকটি অনুষ্ঠানে ব্যাকস্টেজেও দেখা হয়েছে। ২০১২ সাল নাগাদ আমাদের তেমন বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ ছিল না। তবে গত ১০ বছরে আমাদের আর কোনও সমস্যা হয়নি।

রূপম আমার চেয়ে বয়সে চার-পাঁচ বছরের ছোট। ক্যাকটাসের বয়সও ফসিল্‌স-এর চেয়ে একটু বেশি। ক্যাকটাস যে ঝড় তুলেছিল একটা সময়ে, সেটাই পরে সাইক্লোনের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল ফসিল্‌স। বাংলা গানের অনুষ্ঠানে এত তীব্রতা, এত প্যাশন, এত এনার্জি ও উন্মাদনা থাকতে পারে, সেই ধারণাটাকেই আরও বড় করে তুলেছিল রূপম ও তাঁর ব্যান্ড। আসলে সবার উপরে গান। ‘এই একলা ঘর আমার দেশ, আমার একলা থাকার অভ্যেস’। এই গানটির সঙ্গে আপামর জনতা যোগ খুঁজে পেয়েছিল। তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেজেছে এই গান। আবার আমাদের ‘সেই যে হলুদ পাখি’ গানটির মাধ্যমেও নিজেদের ছেলেবেলাকে চিনতে পেরেছেন শ্রোতারা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম গানগুলো শুনছে। এটাই তো ব্যান্ডকে দীর্ঘস্থায়ী আয়ু দেয়। সেই সঙ্গে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম তো আছেই, যার অভাব কখনও রূপমের মধ্যে দেখিনি। আজ ওর জন্মদিনে আমার ও ক্যাকটাসের তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা।

(সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখিত)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement