হ্যাটট্রিকের পর উল্লাস বার্সার রাফিনহার। ছবি: রয়টার্স।
দুই বড় দল জিতলেও আর এক বড় দল পয়েন্ট নষ্ট করল। সেভিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদের থেকে ৪ পয়েন্টের ব্যবধান বজায় রাখল বার্সেলোনা। অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে তিন নম্বরে উঠে এসেছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। তবে পয়েন্ট নষ্ট লিভারপুলের। টটেনহ্যাম হটস্পারের বিরুদ্ধে ড্র করেছে তারা।
শনিবার এলচেকে হারিয়ে বার্সার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে রবিবার সেভিয়ার বিরুদ্ধে জয় দরকার ছিল। হান্সি ফ্লিকের ছেলেরা শুধু জিতলেন না, সেভিয়াকে উড়িয়ে দিলেন। ৫-২ গোলে জয়ের নায়ক রাফিনহা। হ্যাটট্রিক করলেন বার্সার অধিনায়ক। বাকি দুই গোল ডানি অলমো ও জোয়াও কানসেলোর।
খেলা শুরুর ৯ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন রাফিনহা। ২১ মিনিটে আবার পেনাল্টি পায় বার্সা। আবার গোল করেন রাফিনহা। ৩৮ মিনিটের মাথায় দলের তৃতীয় গোল করেন অলমো। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে এক গোল শোধ করেন ওসো।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ছ’মিনিটের মধ্যে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রাফিনহা। সেখানেই খেলার ফল নিশ্চিত করে দেন তিনি। ৬০ মিনিটে বার্সার হয়ে পঞ্চম গোল করেন কানসেলো। বাকি সময়ে অবশ্য আর গোল খায়নি সেভিয়া। সংযুক্তি সময়ে দ্বিতীয় গোল করে তারা। জিব্রিল সো গোল করলেও তাতে খেলার ছবি বদলায়নি।
এই জয়ের পর ২৮ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট বার্সার। লা লিগার শীর্ষে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ২৮ ম্যাচে ৬৬। অর্থাৎ, ৪ পয়েন্টের ব্যবধান রয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকা মাদ্রিদের পয়েন্ট ২৮ ম্যাচে ৫৭। অর্থাৎ, লিগের লড়াই চলছে বার্সা ও রিয়ালের মধ্যে। বাকি আর ১০টি করে ম্যাচ। এখন দেখার, এখান থেকে রিয়াল বার্সাকে টপকাতে পারে কি না।
প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন হয়েছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের। গত ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কাছে হেরেছিল তারা। রবিবার অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ম্যান ইউ। গোল করেন কাসেমিরো, ম্যাথিয়াস কুনহা ও বেঞ্জামিন সেসকো। লিগের মাঝপথে রুবেন আমোরিমকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় মাইকেল ক্যারিককে। তাঁর কোচিংয়ে ন’ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জিতেছে দল। তাঁর যা পারফরম্যান্স তাতে আগামী মরসুমের জন্য কোচের পদ তাঁর পাকা।
প্রথমার্ধে গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ৫৩ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করেন কাসেমিরো। যদিও সেই গোল শোধও করে ভিলা। ৬৪ মিনিটের মাথায় গোল করেন রস বার্কলে। ৭১ মিনিটে ব্যবধান আবার বাড়ায় ম্যান ইউ। এ বার গোল করেন কুনহা। ৮১ মিনিটে তৃতীয় গোল করে খেলার ফয়সালা করে দেন সেসকো।
এই জয়ের ফলে ভিলাকে টপকে তিন নম্বরে উঠে এসেছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। ৩০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৫৪। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ৩১ ম্যাচে ৭০। দ্বিতীয় স্থানে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। ৩০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৬১। যা পরিস্থিতি, তাতে লিগ জেতার সম্ভাবনা প্রায় না থাকলেও পরের বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার পথ পাকা করে ফেলছে ম্যান ইউ।
দুই দলই এ বার খারাপ খেলছে। ধারাবাহিকতা দেখাতে না পারায় পতন হচ্ছে লিভারপুলের। টটেনহ্যাম আবার জিততেই ভুলে গিয়েছে। রবিবারের ম্যাচে ১৮ মিনিটে গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন ডমিনিক জ়োবোজ়লাই। তার পরে আর গোল করতে পারেনি তারা। ৯০ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরান রিচার্লিসন। আরও এক হারের মুখ থেকে দলকে বাঁচান তিনি। ১-১ গোলে খেলা ড্র হয়।
এই ড্রয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে গত বারের চ্যাম্পিয়নরা। ৩০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪৯। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ কমছে তাদের। টটেনহ্যামের অবস্থা আরও খারাপ। ৩০ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে তারা। অবনমনের আওতায় থাকা ওয়েস্ট হ্যামের পয়েন্ট ৩০ ম্যাচে ২৯। অর্থাৎ, আর এক ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করলেই অবনমনের আশঙ্কা তৈরি হবে টটেনহ্যাম সমর্থকদের মনে।