Shyampur Election Result 2026

শ্যামপুর বিধানসভাকেন্দ্রে হিরণের জয়, উচ্ছ্বসিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা, কী বললেন প্রথমা অনিন্দিতা?

শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের শুরু থেকে বিতর্কে জড়িয়েছিল হিরণের নাম। তাঁর জয়ে উত্তেজিত দু’পক্ষের স্ত্রী।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ২৩:০১
Share:

হিরণের জয়ে উচ্ছ্বসিত তাঁর দু’পক্ষের স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত।

জয়ের হাসি হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের মুখে। শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হলেন বিজেপির হিরণ। নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার আগে অনেকেই ভেবেছিলেন এই বার টিকিট পাবেন না হিরণ। খড়্গপুর সদরের হিরণের জেতা আসনে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয় দীলিপ যাদবকে। তাতে আরও নিশ্চিত হয়েছিলেন সবাই। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে শ্যামপুরের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা হয় হিরণের নাম।

Advertisement

গত এক মাসের বেশি সময় ধরে শ্যামপুরের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেছেন হিরণ। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঘুরেছেন। এক অনুরাগীর অনুরোধে নিজের অভিনীত ছবির গানে পা-ও মিলিয়েছিলেন হিরণ। যে ভিডিয়ো নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। ৪ মে গণনার দিনে, সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রে ছিলেন তিনি। জয়ী হওয়ার পরে হিরণের প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত না মিললেও নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি। তিনি বলেন, “এই জয় শুধু আমাদের একার নয়। আমি কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নই। সাধারণ মানুষ, দেশের নাগরিক হিসাবে বলছি আমি বিজেপিকে সাপোর্ট করি। গীতায় লেখা আছে, আমাদের সব সময়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা উচিত যাঁরা দেশ এবং ধর্মের রক্ষার জন্য সংযম করছে। যুদ্ধ করছে। আজকে বাংলার এই জয় সবার জয়। এই জয় শুধুমাত্র আপনাদের দাদা হিরণের জয় নয়। এই জয় সবার। আজকে সব প্রমাণ হয়ে গেল। সব প্রশ্নের উত্তর হল এই জয়। মানুষের ভালবাসা পেয়েই আমরা খুশি।”

হিরণের জয়ে আনন্দিত তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ও। আইনি ভাবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়ায় হলফনামায় নিজেকে আইনত বিবাহিত এবং ‘সেপারেটেড’ (বিচ্ছিন্ন) হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন হিরণ। এই জয়ের পরে কী প্রতিক্রিয়া তাঁর প্রথমার? অনিন্দিতা বললেন, “গেরুয়া ঝড়ের মাঝে হিরণ যদি জয়ী না হত, তা হলে অবাক হতাম। দিনের শেষে ও আমার মেয়ের বাবা। হিরণের কেরিয়ারে উন্নতি হলে আমার মেয়েরই লাভ হবে। মা হিসাবে আমি খুশিই হয়েছি। তবে স্ত্রী হিসাবে জায়গাটা হাস্যকর। অনেকই আমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কী উত্তর দেব জানি না। তাই কিছু বলছি না।”

Advertisement

২০২৬-এর জানুয়ারি থেকেই বিতর্কে হিরণের নাম। বারাণসীর ঘাটে ঋতিকার সঙ্গে বিয়ের ছবি নিজেই সমাজনমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু বিতর্কের। আইনিবিচ্ছেদ না হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে কী করে করেন? এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল হিরণকে।

ঋতিকার সঙ্গে বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই আনন্দপুর থানায় বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল, হিরণের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৯৪ ধারা (স্বামী বা স্ত্রী বেঁচে থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ আবার বিয়ে করেন। শাস্তি হতে পারে সাত বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা অথবা দুটোই) ও ৪৯৮এ ধারায় (বিবাহিত মহিলার উপর স্বামীর নির্যাতন এবং গার্হস্থ্য হিংসা। হতে পারে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা) মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানান হিরণ। যা মঞ্জুর করে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে আগাম জামিন মঞ্জুর হয় তাঁর। শর্ত ছিল, প্রতি ১৫ দিন অন্তর এক বার করে তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা দিতে হবে হিরণকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement