দেবালয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ অঙ্কিতার! ছবি: সংগৃহীত।
দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী। এমনকি, শিশু-হেনস্থার মতো অভিযোগও এনেছিলেন অভিনেত্রী। সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই সব অভিযোগ আরও স্পষ্ট করলেন অঙ্কিতা।
দেবালয় মানসিক ও শারীরিক ভাবে হেনস্থা করেছিলেন, এই অভিযোগ আগেই এনেছিলেন অঙ্কিতা। এ বার তিনি আইনি পথে এগোচ্ছেন। অঙ্কিতা জানান, দেবালয় তাঁকে একটি পার্টিতে প্রকাশ্যে হেনস্থা করেছিলেন। অভিনেত্রীর প্রত্যাশা ছিল, পরিচালক তাঁর কাছে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইবেন বা দুঃখপ্রকাশ করবেন। তা হয়নি। তাই আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অঙ্কিতা।
দেবালয়কে একটি আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন অঙ্কিতার আইনজীবী প্রিয়ম দে। তবে কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে দেবালয়কে— এই একটিই দাবি অঙ্কিতার পক্ষ থেকে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই আইনি নোটিসের সদুত্তর না মিললে দেবালয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবেন তিনি, জানালেন অঙ্কিতা। অভিনেত্রীর বক্তব্য, “আমাকে বলপূর্বক চুম্বন করারও চেষ্টা করেছিলেন। এই ধরনের হেনস্থা আমি আর মেনে নিতে পারব না।”
অঙ্কিতার আইনজীবী নোটিসে জানিয়েছেন, অঙ্কিতা ওই হেনস্থার আতঙ্ক নিয়ে তিন বছর কাটিয়েছেন। অঙ্কিতার পক্ষ থেকে কোনও সম্মতি ছিল না এবং কোনও রকমের প্রেমের সম্পর্কও ছিল না তাঁদের মধ্যে। ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরাও ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই আইনি নোটিসে।
অঙ্কিতার এই সাংবাদিক বৈঠকের পরে দেবালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হয় তাঁর সঙ্গে। দেবালয়ের দাবি, তিনি এখনও কোনও আইনি নোটিস পাননি। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, “আমি আইনি নোটিস পাইনি। তবে এ বার আমি আইনি নোটিস পাঠাচ্ছি।” দেবালয় আরও জানান, তিনি অঙ্কিতার সাংবাদিক বৈঠক দেখেছেন। তাঁর কথায়, “(অঙ্কিতার) কোনও দাবিই বিশ্বাসযোগ্য নয়। দেখে বোঝাই যাচ্ছে, আমার মানহানি করাই আসল উদ্দেশ্য। সুবিচার পাওয়াই যদি উদ্দেশ্য হত, তা হলে আগেই আমাকে নোটিস পাঠাতেন। অথচ, তিন বছর তিনি আমাকে বলেই উঠতে পারেননি!”
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই নাকি অঙ্কিতা এই অভিযোগ এনেছেন বলে অভিযোগ দেবালয়ের। তিনি বলেন, “তিনি সাংবাদিক বৈঠক দিয়ে শুরু করলেন। এ বার আমি আদালতে যাব। শেষ সাংবাদিক বৈঠক আমিই করব।”
উল্লেখ্য, সমস্যার সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। গত মঙ্গলবার রাতে সমাজমাধ্যমে পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য একটি পোস্ট করেন। সেখানেই অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী একটি মন্তব্য করেছিলেন, “তোমার মতো নোংরা পারভার্ট ব্রাহ্মণদের কী করে শ্রদ্ধা করি বলো তো? যারা নিজের বন্ধুর মেয়ের পিঠে হাত বোলাতে ছাড়ে না।” সেই পোস্টে শিশু-হেনস্থার কথাও বলেছিলেন অঙ্কিতা। এর পরেই ওই পোস্টটি মুছে দিয়েছিলেন দেবালয়।