৬০ বছর ধরে বলিউডে প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের পরিবার। পারিবারিক সেই ধারাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন ফিরোজ এ নাদিয়াদওয়ালা। হিন্দি ছবির দর্শকদের তিনি উপহার দিয়েছেন একের পর এক সুপারহিট ছবি।
ফিরোজের জন্ম ১৯৬৫ সালের ১৯ মার্চ, মুম্বইয়ে। তাঁর বাবাও ছিলেন প্রযোজক। আট এবং নয়ের দশকে তাঁর হাত ধরে বিস্তৃত হয় পারিবারিক ব্যবসা।
পরে বাবার হাত থেকে ব্যবসার ব্যাটন নেন ফিরোজ। তাঁর ভাই সাজিদও বলিউডের প্রথম সারির প্রযোজকদের মধ্যে এক জন।
প্রযোজনার পাশাপাশি সাজিদ ছবি পরিচালনাও করেছেন। অভিনেত্রী দিব্যা ভারতী ছিলেন সাজিদের প্রথম পক্ষের স্ত্রী।
‘কিক’, ‘ফ্যান্টম’, ‘টু স্টেটস’, ‘বাঘি’, ‘ঢিসুম’-সহ অসংখ্য সুপারহিট ছবি মুক্তি পেয়েছে নাদিয়াদওয়ালা ব্যানারে।
তবে ফিরোজ প্রযোজিত প্রথম ছবি ছিল ‘ভের না ভলম না’। গুজরাতি ভাষার এই ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন অরুণা ইরানি এবং কিরণকুমার।
২০০৯-’১০ অর্থবর্ষে ৮ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা আয়কর দিতে দেরি করায় ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার ৩ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ হয় ২০১৯ সালে।
২০১৬ সালেও পরিচালক আনিস বাজমির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন ফিরোজ। সে সময় ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ ছবির কাজ চলছিল। অভিযোগ, ছবির কাজ শেষ হওয়ার আগেই নিজের পারিশ্রমিক সম্পূর্ণ দাবি করেন আনিস।
কিন্তু সে সময় তাঁর কাছে অত টাকা দেওয়ার জন্য ছিল না বলে দাবি করেন ফিরোজ। পরিচালক-প্রযোজকের বিবাদ গড়িয়েছিল অনেক দূর। শেষ অবধি আর এক প্রযোজক সুনীল লুল্লা মধ্যস্থতা করেছিলেন দু’জনের মধ্যে। তবে এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন আনিস।
মূলত বিনোদনমূলক পারিবারিক ছবি প্রযোজনা করে তাঁর সংস্থা। পাশাপাশি ফিরোজের লক্ষ্য সিরিয়াস বিষয় নিয়ে ছবিও।
সমসাময়িক বিষয়ের উপর তিনি তৈরি করেছিলেন ‘আরক্ষণ’। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ছিল এই ছবির বিষয়। তবে এই বিষয়বস্তুর জন্য ছবিটি সমালোচিতও হয়েছে যথেষ্ট।
ফিরোজের বাবা প্রযোজনা করেছিলেন ‘হেরা ফেরি’। এর পর ফিরোজ প্রযোজনা করেন ‘ফির হেরা ফেরি’ এবং তার পরের অংশ ‘হেরা ফেরি থ্রি’-র কাজ চলছে। মু্ক্তি পাওয়ার কথা আগামী বছরে।
দীর্ঘ দিন প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই পরিবার নতুন করে বিপাকে পড়েছে মাদককাণ্ডে। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর অফিসাররা রবিবার দিনভর তল্লাশির পরে ১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেন তাঁর বাড়ি থেকে।
সূত্রের খবর, সে সময় বাড়িতে ছিলেন না ফিরোজ। তাঁর বদলে তাঁর স্ত্রী শাবানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনসিবি-র অফিসে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। শাবানার বয়ান রেকর্ডের পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এনসিবি সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া এই গাঁজা যোগান দিয়েছিল ওয়াহিদ আবদুল কাদির শেখ ওরফে সুলতান নামের এক মাদক ব্যবসায়ী। ওয়াহিদকে ৬ নভেম্বর গ্রেফতার করে এনসিবি। মাদক সংক্রান্ত মামলায় বেশ কয়েক জন সন্দেহভাজনকে জেরার করার পর ফিরোজের নাম প্রকাশ্যে আসে।
মাদককাণ্ডে একের পর এক বলিউডি নাম জড়িয়ে পড়ছে। বেআইনি মাদক পাচারের অভিযোগে এনসিবি গ্রেফতার করেছে অভিনেতা অর্জুন রামপালের বান্ধবী গ্যাব্রিয়েলা ডেমেট্রিয়াডেসের ভাই অ্যাগিসিয়ালস ডেমেট্রিয়াডেসকেও। অ্যাগিসিয়ালস নাকি মার্কেটিংয়ের কাজের আড়ালে মাদকপাচার করেন, খবর এনসিবি সূত্রে।
তাঁর সঙ্গে একাধিক মাদক পাচারকারীর যোগাযোগ আছে বলে জানা গিয়েছে। এই পাচারকারীরা ইতিমধ্যেই বলিউডে মাদককাণ্ডে এনসিবি-র হেফাজতে রয়েছে। ( প্রতীকী চিত্র)
শাবানার সঙ্গে আরও ৪ মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার শাবানার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো হয়েছে প্রযোজক ফিরোজকেও।