ক্ষোভে ফুঁসছেন হেমা-কঙ্গনা! ছবি: সংগৃহীত।
‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ নিয়ে এ বার তরজায় রাজনৈতিক এবং বিনোদনমহল। লোকসভায় শনিবার বিরোধীদের আপত্তিতে খারিজ হয়ে যায় এই বিল। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুই বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী ও কঙ্গনা রনৌত। অন্য দিকে, অভিনেতা তথা অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণও দুই অভিনেত্রী-সাংসদের সুরেই ওই বিলটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। এর পরেই পবনকে পাল্টা আক্রমণ করেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তিনি পবনকে উদ্দেশ করে সরাসরি বলেন, “মোদীজিকে খুশি করতে আর কত মিথ্যা বলবেন?”
শনিবার লোকসভায় বিরোধীদের বক্তব্য ছিল, ওই মহিলা বিলটি নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে তাদের অভিযোগ ছিল, ওই মহিলা বিলের আড়ালে সরকার কৌশলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদের আসনসংখ্যা বাড়িয়ে নিতে চায় নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য। সেই কারণেই তারা মহিলা বিলটি আটকেছে। যদিও শনিবার তার পরেও প্রধানমন্ত্রী আলাদা করে জাতির উদ্দেশে ভাষণে ওই মহিলা বিল আটকানোর পুরো দায় চাপান বিরোধীদের উপর। বিষয়টি নিয়ে গোটা দেশেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইট) হেমা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘নারীদের জন্য একটি দুঃখজনক দিন’। তাঁর মতোই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আরও এক অভিনেত্রী-সাংসদ কঙ্গনা রনৌত। তাঁর মতে, এটি একটি ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’।
এই প্রসঙ্গে হেমা আরও বলেন, “এই ব্যর্থতা সমস্ত নারীর। আজ তাদের জন্য একটি দুঃখজনক দিন। কারণ, অনেক নারী জাতীয় কর্মকাণ্ডে আরও বেশি করে অংশগ্রহণের অপেক্ষায় ছিলেন। অথবা অংশগ্রহণের কথা ভাবছিলেন। বিল পাশ না হওয়ায় তাঁদের স্বপ্নভঙ্গ হল।” তিনি লিখেছেন, “ব্যক্তিগত ভাবে আমি বেশ হতাশ হয়েছি। কারণ, ভোটগ্রহণের ঠিক আগের মুহূর্তে আমি সংসদে দাঁড়িয়ে এই বিলটির গুরুত্ব সম্পর্কে আমার বক্তব্য জানিয়েছিলাম।” পাশাপাশি কঙ্গনার মতে, “আজকের দিনে এর চেয়ে বেশি দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা আর কিছুই হতে পারে না।”
অন্য দিকে শনিবারই এক্স হ্যান্ডলে পবন কল্যাণ মহিলা বিলটিকে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ বলে অভিহিত করেন। বিলটি আটকে রাখার জন্য দায়ী করেন বিরোধীপক্ষকে। তিনি লেখেন, “বিরোধীপক্ষের বাধার কারণেই লোকসভায় এই বিলটি ভোটাভুটিতে পাশ হল না।” তাঁর মতে, বিরোধীপক্ষের এই অবস্থান প্রমাণ করে দিল, নারীদের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার মতো সংস্কারধর্মী পদক্ষেপগুলো সমর্থন করার সদিচ্ছা তাদের নেই। তিনি আরও যোগ করেন, এই বিলটিকে সমর্থন না জানানোর অর্থ হল, জাতীয় অগ্রগতির চেয়ে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, পবনের এই বার্তাই নাকি মুখ খুলতে বাধ্য করেছে অভিনেতা প্রকাশকে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা তোপ দাগেন। নাগরিকদের বিভ্রান্ত করার দায়ে পবন কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। তিনি পাল্টা জানান, ‘নারী সংরক্ষণ বিল’টি ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালে অনুমোদিত হয়েছে সংসদের উভয় কক্ষে।
প্রকাশ পবনকে উদ্দেশ করে এ-ও জানান, পবন যেন সেই সব মানুষের আত্মসম্মান ও অধিকারের সঙ্গে কোনও আপস না করেন। কারণ, তাঁকে প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত করেছেন এঁরাই। এখানেই শেষ নয়। প্রকাশ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি পবনকে প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন! তাঁর বার্তা, “নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য আমি প্রস্তুত। আপনি প্রস্তুত তো?”