ইমতিয়াজ়ের ছবি ‘ক্ষতি’ করেছে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
‘তমাশা’ ছবির জন্য অনুশোচনায় ভুগছেন ইমতিয়াজ় আলি। এই ছবি দেখার পরে নাকি দর্শক চাকরি ছাড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু কেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মনের কথা উজাড় করলেন পরিচালক।
২০১৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘তমাশা’। কিন্তু বক্সঅফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। অনেকেই মনে করেছিলেন ‘রকস্টার’-এর পরে ফের ইমতিয়াজ়ের ছবিতে রণবীর, অতএব এই ছবিও সাড়া ফেলবে। কিন্তু তা হয়নি। কিন্তু ক্রমশ নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল ‘তমাশা’।
নিজেদের শখ, প্রতিভা, ভাল লাগা ছেড়ে যাঁরা রোজকার জাঁতাকলে আটকে পড়েছিলেন, তাঁদের উপর প্রভাব ফেলেছিল এই ছবি। কর্পোরেট চাকরির জেরে যাঁরা নিজেদের হারিয়ে ফেলেছিলেন, অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগতেন, তাঁরা নাকি নতুন করে ‘কেরিয়ার’ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন। ইমতিয়াজ় জানান, তিনি এমন কয়েক জন দর্শককে চেনেন যাঁরা ‘তমাশা’ দেখে চাকরি ছেড়ে দেন এবং তার পরে লেখালিখি শুরু করেন। আজ তাঁরা পেশাদার লেখক-লেখিকা।
ইমতিয়াজ়ের কথায়, “আমি খুবই অনুশোচনায় ভুগি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে লেখক-লেখিকাদের সঙ্গে দেখা হয়। অল্পবয়সি কয়েক জন লেখক আমার সঙ্গে দেখা করে জানান, তাঁরা ‘তমাশা’ দেখে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। আজ তাঁরা পেশায় লেখক-লেখিকা।”
কিন্তু চাকরি ছেড়ে কেউ যদি জীবনে পিছিয়ে পড়েন? কেউ যদি সফল না হন? এই সব চিন্তা মাথায় বাসা বাঁধত ইমতিয়াজ়ের। তাঁর ছবির ভুল প্রভাব যেন না পড়ে, এই আশঙ্কা হত তাঁর। পরিচালকের কথায়, “ওরা সফল না হলে, ওদের জীবনের ক্ষতির দায় আমাকে নিতে হবে। তাদের পরিবার, স্ত্রী-সন্তানদের প্রতিও আমার দায় থেকে যাবে। যে বাবা-মায়েরা সন্তানদের ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে দেখতে চেয়েছেন, তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে যাবে।”
এমন দর্শককেও ইমতিয়াজ় চেনেন, যাঁরা ‘তমাশা’ দেখে চাকরি ছেড়ে এখন অভিনয়, নাচ ও গানের জগতে লড়াই করছেন। তাঁদের উদ্দেশে পরিচালকের বার্তা, “আমি ওদের জন্য প্রার্থনা করি। কিন্তু ওদের জায়গায় নিজেকে রাখলে ভালই লাগে। আসলে আমিও কখনও অর্থ দিয়ে জীবনকে মাপিনি। এই মানুষগুলোর সঙ্গে আমি একাত্ম বোধ করি।”