Updates Of EIMPA

‘চোর হটাও ইমপা বাঁচাও’ ধ্বনি! সদস্যদের সমর্থনে সরিয়ে দেওয়া হল পিয়াকে? কুর্সিতে রতন সাহা!

বৈঠকশেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন পিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সংগঠনের ফাইল সরিয়ে নিয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ২০:৫৭
Share:

পিয়া সেনগুপ্ত এবং শতদীপ সাহা। নিজস্ব চিত্র।

দিনভর ধুন্ধুমার। ইমপা-র সভাপতিপদ নিয়ে টানাপড়েন। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ১৮ দিনের মাথায় শুক্রবার সংখ্যাগরিষ্ঠ ধ্বনিভোটে সরিয়ে দেওয়া হল বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে। অস্থায়ী ভাবে সেই আসনে এখন প্রযোজক রতন সাহা।

Advertisement

বুধবার বিকেল থেকেই সংগঠনের পরিবেশ উত্তপ্ত। উপস্থিত বিরোধী প্রযোজকেরা। সংগঠনের তরফে সদস্যরাও এসেছিলেন। প্রশাসনের উপস্থিতিতে বৈঠক শুরু হবে কি না, তাই নিয়ে আলোচনা সারেন পিয়া। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি জানান, অনেকেই বহিরাগত। তাঁদের উপস্থিতিতে বৈঠক করার নির্দেশ প্রশাসন দিলে বৈঠক হবে। এর পর বৈঠক শুরুও হয়। বৈঠক চলাকালীন আচমকা বেরিয়ে আসেন পিয়া। অভিযোগ করেন, “আমার সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হচ্ছে। বৈঠক চলাকালীন পরিচালক অতনু বোস, রতন সাহা আমার দিকে তেড়ে এসেছেন। আমি বৈঠক করব না।” ইতিমধ্যেই বিষয়টি মিটমাটের চেষ্টা করেন শতদীপ। তিনি জোড়হাতে পিয়াকে বৈঠকে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কিছু ক্ষণ পরে ফের বৈঠক শুরু।

কিছু ক্ষণের মধ্যেই ফের পিয়া বেরিয়ে আসেন বৈঠক ছেড়ে। উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী প্রযোজকদের আচরণ এতটাই অসংযত যে তাঁর পক্ষে বৈঠক করা সম্ভব হচ্ছে না। তত ক্ষণে ধ্বনি ভোটে পিয়ার পদত্যাগ গ্রাহ্য হয়ে গিয়েছে। অস্থায়ী ভাবে সভাপতির আসনে রতনবাবুকে মেনে নিয়েছেন অধিকাংশ প্রযোজক।

Advertisement

২০২৭ পর্যন্ত সংগঠনের সভাপতিপদে যাঁর মেয়াদ, তাঁকে কি ধ্বনি ভোটে সরানো যায়? পিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “হাই কোর্ট ২০২৫ সালে ইমপা-র নির্বাচন পরিচালনা করেছিল। আমি ২০২৭ পর্যন্ত নির্বাচিত সভাপতি। আইন অনুযায়ী এ ভাবে কাউকে সরানো যায় না।” তার পরেই তিনি জানান, ইমপা-র সদস্য হিসাবে প্রত্যেকের সংগঠনের প্রতি অধিকার আছে। তাই তিনি কাউকে বাধা দেবেন না। যে যা ভাল বুঝছেন, সেটাই করছেন। পিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। তার মধ্যে আর্থিক তছরুপ, অরূপ-স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আঁতাত, সংগঠনকে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করার মতো অভিযোগগুলো অন্যতম। সে বিষয়ে কী বলবেন তিনি? অন্য দিনের মতো এ দিনও সব অভিযোগ নস্যাৎ করেন ইমপা-র প্রাক্তন সভাপতি। বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ, সব প্রমাণসাপেক্ষ। সেগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে আমি নিজেই সরে যাব।”

সারা দিন ধরে কেন এত হুলস্থুল? ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে জোর করেই কি সরিয়ে দেওয়া হল বর্তমান সভাপতিকে? প্রশ্ন ছিল বিরোধী প্রযোজকদের মুখ শতদীপের কাছে। তাঁর কথায়, “আজ (শুক্রবার) সাড়ে ৩০০-রও বেশি প্রযোজক-সদস্য এসেছিলেন। প্রত্যেকে জানিয়েছেন, তাঁরা পিয়া সেনগুপ্তকে চান না। সবাই ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে তাঁদের দাবি জানান। বেছে নেন রতন সাহাকে।” শতদীপ আরও জানান, এ দিন নানা অজুহাতে দফায় দফায় বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান পিয়া। তাঁর লক্ষ্য ছিল, বৈঠক বানচাল। তাই এই পদক্ষেপ। শতদীপের আশ্বাস, শীঘ্রই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সভাপতি নির্বাচন হবে। তার আগে পর্যন্ত অস্থায়ী সভাপতি রতনবাবু।

এর ফাঁকে সংগঠনের ফাইল নিতে এলে ফের প্রযোজকরা ঘিরে ধরেন পিয়াকে। ‘চোর হটাও ইমপা বাঁচাও’ ধ্বনি দিতে থাকেন। শতদীপ দাবি জানান, সম্পাদক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে কিছু ফাইল সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন পিয়া। যদিও পরে সাংবাদিকেরা আবিষ্কার করেন, একটি চেয়ারের উপরে ফাইলগুলো রেখে, তার উপরে বসেছিলেন সংগঠনের এক মহিলা সদস্য! সারা দিনের ধকলে, শোরগোলে বিপর্যস্ত পিয়া অসুস্থ। তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্স করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। পা কেটে রক্ত ঝরছে এক বয়স্ক সদস্যের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement