(বাঁ দিকে) রণবীর কপূর, (ডান দিকে) করিনা কপূর। ছবি: সংগৃহীত।
১৯৮০ পর্যন্ত নিয়মিত একাধিক ছবির শুটিং হত ‘আর কে স্টুডিয়ো’য়। ‘ববি’ ছবির সেই বিখ্যাত গান ‘হম তুম এক কমরে মে বন্দ হ্যায়’-এর কিছু অংশের শুটিংও হয়েছিল এই ‘আর কে স্টুডিয়ো’তেই। সতীর্থদের নিয়ে রাজ কপূরের এলাহি পার্টির আয়োজনও হত সেখানেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই নিজের জৌলুস হারাতে শুরু করে এই স্টুডিয়ো। সম্প্রতি গুঞ্জন শোনা যায় যে, এই স্টুডিয়ো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন তাঁর নাতি রণবীর কপূর। এ প্রসঙ্গে কী বললেন রণবীরের জ্যাঠতুতো-দিদি করিনা কপূর?
সাফল্যের মধ্যগগনে থাকার সময় নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘আর কে ফিল্মস্’ তৈরি করেন রাজ কপূর। কিন্তু সেই সময়ে মায়ানগরীতে জাঁকিয়ে বসেছিল ‘নবকেতন ফিল্মস্’। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সেই সময়ে প্রকাশ্য রাস্তায়, মাঠে-ময়দানে শুটিং হত। কিন্তু এটা একেবারেই পছন্দ ছিল না রাজ কপূরের। টাকাপয়সার অভাবে চটজলদি স্টুডিয়ো গড়ে তোলাও অসম্ভব ছিল। তাই ‘বরসাত’ ছবির সাফল্য পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাঁকে। ১৯৪৯-এ ‘বরসাত’ সুপারহিট হওয়ার পরে সেই টাকায় স্টুডিয়ো গড়ার পথে পা বাড়ান রাজ। সেই সময়ে দক্ষিণ মুম্বইয়ে স্টুডিয়ো নির্মাণের জমি কেনা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। তাই শহর থেকে দূরে, সায়ন ও পনবেলের সংযোগস্থল, চেম্বুরে ২.২ একর জমিতে স্টুডিয়ো তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৫০ সালে প্রধান বিল্ডিংটি মাথা তুলে দাঁড়ায় প্রথম। তার পিছনে নিজের জন্য একটি কটেজও তৈরি করান রাজ। অনেকেই ভেবেছিলেন, কপূর পরিবারের নতুন প্রজন্ম হয়তো ঠাকুরদার জুতোয় পা গলাবে। ছবি প্রযোজনা বা পরিচালনা করবে হয়তো। কিন্তু রাজের নাতনি করিনা জানান, এই প্রসঙ্গে তাঁদের পরিবারের হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে কথা হয়েছে। কিন্তু দুঃখ হলেও, তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ‘আর কে স্টুডিয়ো’র পুনর্নির্মাণ আর সম্ভব নয়।
করিনা বলেন, ‘‘এই দায়িত্বটা নিলে একমাত্র আমার দিদি করিশ্মা ও রণবীরই নিতে পারত। আমি কোনও ভাবেই পরিচালনা কিংবা প্রযোজনার দিকে পা বাড়াব না। তবে এই মুহূর্তে রণবীর পুরো মনোযোগই দিচ্ছে অভিনয়ে। ও নিজের সৃজনশীলতা, নিজের শিল্পের দিকেই নজর দিতে চায়। তাই কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।’’ এমনিতেই বছরদুয়েক আগে এই স্টুডিয়োর একটা বড় অংশ এক নামী সংস্থার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে কপূর পরিবার। সেখানে স্টুডিয়ো ভেঙে তৈরি হবে আবাসন। বাকি অংশটুকু নিয়ে আশায় ছিলেন অনুরাগীরা। এখন সেই আশাতেও জল ঢেলে দিলেন করিনা।