—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ন’বছর পরে এক ধাক্কায় রোগীদের খাবারের দৈনিক বরাদ্দ প্রায় দুই গুণ বৃদ্ধি পেল। সরকারি হাসপাতালে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য ২০১৭ থেকে রোগী পিছু বরাদ্দ ছিল ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা। তাতে খাবারের গুণমান নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ ছিল। সোমবার রাজ্যের ২০২৬-’২৭ অর্থ বর্ষের বাজেটে সেটি বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আবার আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকাদের মাসিক সাম্মানিক পাঁচ হাজার টাকা বৃদ্ধিরও ঘোষণাকরা হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে মূলত গরিব মানুষেরা চিকিৎসার জন্য যান। তাই তাঁদের ভাল খাবারের ব্যবস্থা করতে দৈনিক বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাজেট পেশের পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের থেকেই জানতে পেরেছিলেন রোগীদের কী ধরণের পথ্য দেওয়া হয়। শুভেন্দু বলেন, ‘‘কী করবে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী সংস্থারা? ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সায় কী হয়? ১০৪ টাকা দিলে মোটামুটি তিন বেলা খাবার হবে জানার পরে অর্থমন্ত্রীকে সেটি ১১০ টাকা করতে বলি।’’
অন্য দিকে আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কাজের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চার হাজার টাকা বৃদ্ধির জন্য আগের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। লাঠি মেরেছিল। এ বার না চাইতেই পেয়েছেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে আপনারাই বাঁচিয়ে রেখেছেন। নিজেদের কাজের বাইরেও সরকারকে অনেক সহযোগিতা করেন।’’ মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধিতে তাঁরা খুশি হলেও, তা দীর্ঘ আন্দোলনের আংশিক জয় বলেই দাবি পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক ইসমত আরা খাতুনের।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তবর্তীকালীন বাজেটে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল তার থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করে এ বারে ২৪ হাজার ৭৫৩.৭২ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মা ও শিশুর জন্য উন্নত পুষ্টির ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনার পাঁচ হাজার টাকার সঙ্গে আরও অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা করে ২১ হাজার টাকা ও ছ’টি পুষ্টি-কিট দেওয়া হবে। সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশু ও তাদের মায়েরা এই সুবিধা পাবে বলেই খবর। এ রাজ্যকে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব তৈরির কথাও এ দিন ঘোষণাকরেছেন অর্থমন্ত্রী।
রাজ্যে চিকিৎসা পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে অত্যাধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগেও জোর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেখানে ওই হাসপাতালের অন্তত ৫০ শতাংশ শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে সরকারকে দিতে হবে। ফলতা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে ১০০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। সেখানে সামগ্রিক জরুরি প্রসূতি পরিষেবার ব্যবস্থা থাকবে। অন্য দিকে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য দিঘা, দার্জিলিং ও ফরাক্কায় ট্রমা কেয়ার সেন্টার, মুর্শিদাবাদে বিড়ি শ্রমিকদের হাসপাতালের আধুনিকীকরণ, সুন্দরবনে মোটরবোট অ্যাম্বুল্যান্স ও দ্বীপ এলাকায় ভাসমান প্রসূতিকেন্দ্র চালুর প্রস্তাবও বাজেটে রাখা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩১০০ কোটি টাকা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে