Bengali Serial New Trend

‘ভোলেবাবা’র ভোলবদল, বাংলা ধারাবাহিকে নতুন ধারা! ছোটগল্পই আনবে লক্ষ্মী? কী মত টেলিপাড়ার?

ধারাবাহিক দর্শকের মনে আলাদা জায়গা জুড়ে থাকে। এ বার ছোটপর্দায় আসতে চলেছে নতুন ধারা? এই বিষয়ে কী মত দিলেন ছোটপর্দার অভিনেতা থেকে পরিচালকেরা?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১১
Share:

ছোটপর্দার নায়ক নায়িকা থেকে লেখক কী বললেন? ছবি: সংগৃহীত।

স্টুডিয়োপাড়ায় এখন নতুন ধারা। কোনও ধারাবাহিক শেষ হয়ে যায় তিন মাসে, আবার কোনও ধারাবাহিক বেশি দিন সম্প্রচারিত হলেও আগ্রহ হারাচ্ছে দর্শক। অনেক দিন আগেই দর্শককে ধরে রাখার ফন্দি বার করেছিল হিন্দি ছোটপর্দা। যেখানে একই ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছিল ছোট ছোট নতুন কাহিনি। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’র মাধ্যমে কি সেই পথেই এ বার বাংলা ছোটপর্দাও?

Advertisement

খুব বেশি দিন হয়নি শুরু হয়েছে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিক। এর মধ্যেই এসেছে বড় বদল। ছ’মাসের মধ্যে শেষ হয়েছে প্রথম কাহিনি। শুরু হয়েছে দ্বিতীয় কাহিনি। প্রথম সিজ়ন, দ্বিতীয় সিজ়ন— এ ভাবে ধারাবাহিককে ভাগ করেছেন চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। প্রথম সিজ়নে দর্শক দেখেছে মধুমিতা সরকার এবং নীল ভট্টাচার্যের জুটি। এখন আবার নতুন করে নতুন ভাবে গল্প সাজিয়েছেন লেখিকা। এই নতুন ধারা কি ছোটপর্দার জন্য লাভজনক?

প্রযোজক তথা চিত্রনাট্যকার সুশান্ত দাসের মতে এই ধারা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য লাভজনক। তিনি বললেন, “দর্শক এখন ‘মাইক্রো ড্রামা’ বেশি পছন্দ করছে। ছোটগল্পে দর্শকের বরাবরের আগ্রহ বেশি। কারণ, টানা চার বছর কোনও ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হলে, তার মধ্যে একটা একঘেয়েমি তৈরি হবে। এই ভাবে যদি আমরা ভাঙতে শুরু করি, তা হলে ভবিষ্যতে আমাদের লাভ হবে বলেই মনে হয়।”

Advertisement

অভিনেতা সৌরভ চক্রবর্তীও কিছুটা সহমত। কিন্তু তাঁর ভাবনা, একটা চরিত্র দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়ার পরে হঠাৎ সেই চরিত্র বা অভিনেতাকে সরিয়ে দিলে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি যোগ করেন, “তবে চিত্রনাট্যের পটভূমি যদি একেবারে বদলে ফেলা যায়, তা হলে তা আবার নতুন করে আগ্রহ তৈরি করে দর্শকের মনে।”

সব সময় যে চিত্রনাট্যে বদলে ফেলা যায়, তা নয়। উদাহরণ হিসাবে দেখা যেতে পারে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’। এই ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হয়েছিল প্রায় চার বছর। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন বছর টিআরপি তালিকায় প্রথমের দিকে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছিল তারা। একের পর এক প্রজন্মের গল্প বলা হয়েছিল সেখানে। চরিত্রদের প্রায় এক রেখে শুধু গল্প বদলে গিয়েছিল। পরিচালক অনুপম হরির মতে অবশ্য, প্রজন্ম বদলালে কিছুটা একঘেয়েমি কাটে। তিনি বলেন, “কিন্তু যদি আমরা একটু তলিয়ে ভাবি, দর্শক এখন সেই মনোযোগ দিয়ে ধারাবাহিক দেখে না। তাই অল্প দিনে যদি একটা গল্প শেষ হয়ে যায়, তা হলে মানও বজায় থাকে আর দর্শকের আগ্রহও থাকে।”

শুধু ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ নয়, ‘কে আপন কে পর’, ‘মা’-সহ এমন অনেক ধারাবাহিক আছে যা সম্প্রচারিত হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। আবার এমনও দেখা গিয়েছে যে, একটা ধারাবাহিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গিয়েছে। যেমন পল্লবী শর্মা যে ক’টি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন প্রতিটি ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হয়েছে অনেক বেশি সময় ধরে। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’র ভোলবদল দেখে নায়িকা জানালেন, আগামী দিনে পরিচালক প্রযোজকেরা যদি এই ভাবে ভাবতে শুরু করেন, তা হলে ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক লাভ হবে। শুধু তা-ই নয়, লাভের মুখও দেখবে প্রযোজকেরা, মত অভিনেত্রীর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement