হোলিতে ছবি নেই সিনেমাহলে! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বাংলা স্ক্রিনিং কমিটির সিনে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মার্চ মাস ধু ধু করছে! বড় বাজেট দূরঅস্ত্, মাঝারি বা ছোট বাজেটের বাংলা ছবিমুক্তির কথাও শোনা যাচ্ছে না। সবাই যখন টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত, তখনই চমকে দিল বলিউড! খবর, গত ১৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে এই প্রথম হোলিতে কোনও হিন্দি ছবিও মুক্তি পাচ্ছে না! সিনেবোদ্ধাদের দাবি, ২০২১, অর্থাৎ করোনাকালেও হোলিতে ছবি মুক্তি পেয়েছিল। পরিণীতি চোপড়া অভিনীত ‘সাইনা’। ২০২৬-এ ফাঁকা!
অথচ একটা সময় ছিল, যখন বলিউড তারকারা রঙের উৎসবে মেতে উঠতেন তাঁদেরই জনপ্রিয় ছবির গান দিয়ে। আবির-ফাগে রাঙা হত মায়ানগরী। হোলি পার্টি মাতোয়ারা ‘সিলসিলা’র ‘রং বরষে’, ‘ডর’-এর ‘অঙ্গ সে অঙ্গ লাগানা’, ‘বাগবান’-এর ‘হোলি খেলে রঘুবীরা’র মতো গানে।
বাংলা ছবির বিষয়টি আলাদা। বলিউডে সারা বছর ধরেই কমবেশি ছবি মুক্তি পায়। ফলে, ‘ড্রাই ডে’র সম্ভাবনাও তৈরি হয় না। ২০২৬-এ এমন কী ঘটল যার জেরে হিন্দি বিনোদনদুনিয়ায় খরা? তার আগে দেখে নেওয়া যাক, গত কয়েক বছরে কী কী হিন্দি ছবি মুক্তি পেয়েছে?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত হোলিতে মুক্তি পাওয়া ছবির তালিকা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গত কয়েক বছরে হোলিতে যে সব ছবি মুক্তি পেয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘চোরি চোরি চুপকে চুপকে’ (২০০১), ‘মালামাল উইকলি’ (২০০৬), ‘রেস’ (২০০৮), ‘বদ্রীনাথ কি দুলহনিয়া’ (২০১৭), ‘কেশরি’ (২০১৯), ‘তু ঝুঠি ম্যায় মক্কার’ (২০২৩)। প্রায় প্রতি বছরেই হোলির সময়ে ছবি মুক্তি পেয়েছে। ব্যতিক্রম ২০০২, ২০০৩ এবং ২০১১ সাল। এই বছরগুলোয় হোলিতে কোনও উল্লেখযোগ্য হিন্দি মুক্তি পায়নি। খবর, ২০০৩ এবং ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সঙ্গে সিনেমার সংঘর্ষ এড়াতে চেয়েছিলেন প্রযোজকেরা। তাই ওই বছরগুলোয় হোলিতে কোনও হিন্দি ছবি মুক্তি পায়নি।
সিনেবোদ্ধারা বলছেন, সম্ভবত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে ২০২৬ সালে। একদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলছে। একাধিক সাক্ষাৎকারে সে কথা উল্লেখ করেছেন পরিচালক অভিরাজ মিনাওয়ালা। উদাহরণ, ৪ মার্চ এবং ১৩ মার্চে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল যথাক্রমে ‘পতি পত্নী ঔর উহ্ দো’ এবং ‘গবরু’। এই ছবি দু’টির মুক্তির তারিখ পিছিয়ে ৮ মে এবং ১৫ মে করা হয়েছে। ক্রিকেটের পাশাপাশি রয়েছে রমজান এবং ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা। এ সব কারণের জন্যই ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এবং ‘টক্সিক’ উদ্যাপনের সময় ছাড়াই মুক্তি পেতে চলেছে।
ইতিমধ্যেই ছবি না চলার কারণ হিসাবে এই কারণগুলিই দেখিয়েছেন কলকাতার ছবি পরিবেশকেরা। একই কারণ বলিউডেও! তা হলে কি শুধুই বাংলা নয়, হিন্দি ছবিরও ‘ভাঁড়ে মা ভবানী দশা’? বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাংলার মতো হিন্দি বিনোদনদুনিয়াতেও বড়সড় ধস নেমেছে। গল্পে মোচ়ড় না থাকলে দর্শক ছবি দেখছে না। কলকাতার পাশাপাশি মুম্বইয়েও নাকি শো সংখ্যা কমিয়ে খরচ কমাতে শুরু করেছেন হলমালিকেরা। ভাল ছবির অভাবে মাল্টিপ্লেক্স-সহ কয়েকটি সিঙ্গল স্ক্রিন সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নাকি নিয়েছেন তাঁরা। যেমন, মু্ম্বইয়ে গত সপ্তাহে জি৭ মাল্টিপ্লেক্সের একাধিক শো বন্ধ রাখা হয়েছিল। মাল্টিপ্লেক্সটিতে শাহিদ কপূরের ‘ও রোমিয়ো’, তাপসী পন্নুর ‘অস্সী’ এবং ‘দো দীওয়ানে শহর মেঁ’ চলছিল। খবর, প্রথম ছবির মিশ্র ফলাফল। বাকি ছবি দু’টি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে, ইদের আগে আর কোনও ছবি মুক্তি দেওয়ার সাহসই নাকি পাচ্ছেন না প্রযোজক-পরিবেশকেরা।
এ প্রসঙ্গে হলমালিক এবং পরিবেশক অক্ষয় রাঠী যেমন বলেছেন, “সিনেমার ব্যবসা অনেকটা জুয়াখেলার মতো। আন্দাজে বাজি ধরতে হবে। লাগলে তুক, না লাগলে তাক! যেমন, গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া একটি ছবিও বক্সঅফিসে ম্যাজিক দেখতে পারেনি। আমরা তাই তাকিয়ে ‘টক্সিক’ আর ‘ধুরন্ধর ২’-এর ইদমুক্তির দিকে। বড় কিছু না ঘটলে আশা করছি, ছবি দুটো ভাল ব্যবসা দেবে।”
বিহারের পূর্ণিয়ার রূপবাণী সিনেমাহলের মালিক বিশেক চৌহান যদিও বলেছেন, “প্রতি বছরই এমনটা ঘটে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দর্শকদের উপর প্রভাব ফেলে না। দর্শকদের বড় অংশ পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। তাই ছবি চলছে না।” আপাতত হলমালিক এবং পরিবেশকেরা দক্ষিণী নায়ক যশ এবং রণবীর সিংহের উপর বাজি ধরেছেন। তাঁদের বাজি লেগে গেলে ফের হাসি ফিরবে তাঁদের মুখে, এমনই আশা তাঁদের।