আশা ভোসলে। ছবি: ফেসবুক।
ভারতের ‘ধুরন্ধর’ কাঁটা পাকিস্তানের বুকে খচখচ করছেই! কিছুতেই নাকি আদিত্য ধরের ‘দাওয়াই’ হজম করতে পারছে না পড়শি দেশ? হাতেগরম প্রমাণ সদ্যপ্রয়াত আশা ভোসলে। গায়িকার সদ্য প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিশ্ব। খবর, ব্যতিক্রম পাকিস্তান। সেখানকার সংবাদমাধ্যমে আশা ভোসলের মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের তোপ দেগেছে পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি।
খবর, পাক সংবাদমাধ্যম সংগঠন বিরক্ত, ক্ষুব্ধ নিজের দেশের সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের উপরে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি (পেমরা) গায়িকার মৃত্যুসংবাদ প্রচারের জন্য সে দেশের একটি চ্যানেলকে নোটিস পাঠিয়েছে। এই খবর সমাজমাধ্যমে ফাঁস করেছেন ওই চ্যানেলের কর্ণধার আজ়হার আব্বাস। তিনি এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) এই খবরটি ভাগ করে নিয়েছেন। আজ়হার লিখেছেন, “উপমহাদেশীয় কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে সম্পর্কিত খবর সম্প্রচারের জন্য ‘পেমরা’ আমাদের চ্যানেলকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে। কিংবদন্তি শিল্পীদের প্রতিবেদনে তাঁদের কাজ নতুন ভাবে তুলে ধরা বা তাঁদের প্রশংসা করা রীতিসম্মত। আশা ভোসলের মতো একজন শিল্পীর কালজয়ী ও স্মরণীয় গান আমরা যতটা তুলে ধরেছি, তার চেয়ে বেশিই তুলে ধরা উচিত ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘পেমরা’ এতে বাধা দিচ্ছে।”
এখানেই শেষ নয়। আজ়হার আরও উল্লেখ করেন, শিল্প মানবতার প্রতীক। দেশ-কালের গণ্ডি কখনও একে বাঁধতে পারে না। তাঁর যুক্তি, জীবিতাবস্থায় আশা ভোসলে প্রায়ই পাকিস্তানি গায়িকা নূর জাহানের প্রশংসা করতেন। তাঁকে ‘বড় বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। তিনি এ-ও মনে করিয়ে দেন, নুসরত ফতেহ আলি খানের সঙ্গেও কাজ করেছিলেন সদ্যপ্রয়াত গায়িকা। এই অনুভূতি থেকে চ্যানেল প্রধানের দাবি, “যুদ্ধ বা সংঘাতে শিল্প ও শিল্পীদের বলি দেওয়া উচিত নয়। বুদ্ধিজীবী, শিল্পী এবং নির্মাতারাই প্রায়ই ঘৃণা ও বিভাজন নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তাঁরাই পারেন মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসতে।”
আব্বাসের বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে প্রতিক্রিয়া জানান একাধিক প্রথম সারির সাংবাদিক। প্রশ্ন তোলেন, প্রবীণ গায়িকাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ‘পেমরা’ কী ভাবে নোটিস পাঠাতে পারে? প্রসঙ্গত, এর আগে অল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা: দ্য রুল’ বিশ্বের অধিকাংশ জায়গায় মুক্তি পেলেও নিষিদ্ধ ছিল পাকিস্তানে।