ভুজ: দ্য প্রাইড অফ ইন্ডিয়া
পরিচালনা: অভিষেক দুধাইয়া
অভিনয়: অজয়, সঞ্জয়, শরদ, সোনাক্ষী
৩.৫/১০
একেবারে নিখুঁত সিনেমা যেমন দুর্লভ, তেমনই ছবিতে ভাল বলার মতো কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না, এমনটাও সচরাচর ঘটে না। ‘ভুজ: দ্য প্রাইড অফ ইন্ডিয়া’ সে রকমই একটা অঘটন, যেখানে সমালোচনা লিখতে বসে প্রশংসাসূচক শব্দ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ডিজ়নি প্লাস হটস্টারে মুক্তি পেয়েছে অজয় দেবগণ, সঞ্জয় দত্ত অভিনীত ‘ভুজ’। অতিমারি না হলে পরিচালক অভিষেক দুধাইয়ার এই ছবি বড় পর্দায় মুক্তি পেত। তাতে ছবির ভাগ্যে বিশেষ তফাত হত না। বরং এ ক্ষেত্রে দর্শকের গাঁটের কড়ি বেঁচে গিয়েছে।
দেশপ্রেমের মোটা দাগের ছবিতে যে ত্রুটিগুলো থাকে, তা এখানে বহাল। পাকিস্তানকে গালমন্দ করা নির্মাতাদের মূল উদ্দেশ্য। পরিবর্তে ভারতীয় সেনা এবং গ্রামের মানুষের অসাধ্যসাধনের দিকটা তুলে ধরতে পারলে ছবিটা খানিক সার্থক হত।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান যখন ভারতীয় সেনার হাতে বাংলাদেশে পর্যুদস্ত হচ্ছে, তখন তারা ভারতের পশ্চিম অংশে হামলা চালায়। বিমান হানায় ধ্বংস করে দেয় ভুজ এয়ারস্ট্রিপ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় রাতারাতি এয়ারবেসের রানওয়ে মেরামত করিয়েছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার বিজয় কার্নিক (অজয় দেবগণ)। নিতান্ত অসম্ভব এই কাহিনি যথেষ্টই সিনেম্যাটিক। কিন্তু তা পর্দায় দর্শাতে ব্যর্থ নির্মাতারা। অন্য দিকে গুজরাত-পাক সীমান্তের এক জায়গায় কয়েকশো ভারতীয় সেনা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল কয়েক হাজার পাক সেনার বিরুদ্ধে। একই সময় আকাশপথে দুই দেশের বিমান যুদ্ধ চলছে। পরিচালক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, কোন অংশে বেশি ফোকাস করবেন। সব কিছুই খানিকটা করে দেখাতে গিয়ে দানা বাঁধেনি ছবির কোনও অংশই। এর মধ্যে এক ভারতীয় স্পাই হিনা রহমানের (নোরা ফতেহি) অংশ গুঁজে দেওয়া হয়েছে।
তথ্য এবং উপস্থাপনাগত ভুলের উদাহরণ অজস্র। মাটিতে পড়ে থাকা অজয় যখন উঠে দাঁড়ায়, কপালের চোট তখন সামান্য। কিছুক্ষণ পরে মুখ ধোয়ার সময়ে আঁজলা ভরে রক্ত! বড় নায়ককে হিরোইজ়ম দেখানোর এটুকু পরিসর তো দিতেই হবে। সঞ্জয়ের চরিত্রেও তাই হয়েছে। দা হাতে পাকসেনার সঙ্গে তাঁর লড়াই কাল্পনিক কাহিনিতে মানাতে পারে, বাস্তব নির্ভর ছবিতে নয়। ’৭১ সালে মিগ টোয়েন্টিওয়ানে ডিজিটাল ককপিটও দেখিয়ে ফেলেছেন পরিচালক!
ছবি শুরু থেকেই এলোমেলো পথে চলতে শুরু করে। অজয়ের স্ত্রীর চরিত্রে প্রণীতা সুভাষের জন্য একটি গান ও একটি সংলাপ বরাদ্দ। শরদ কেলকর বা এমি ভির্কের চরিত্রের কোনও ভিত্তি নেই। ছবিতে চরিত্রদের ব্যক্তিগত জীবন নামমাত্র। এর চেয়ে তা উহ্য রেখে সেই স্ক্রিনটাইমে সুন্দরবেন (সোনাক্ষী সিংহ) এবং মাধাপুরের গ্রামবাসীদের প্রাণপাত করা প্রচেষ্টা দেখানো যেতে পারত। ভুজের লড়াইয়ে সাফল্য এসেছিল তাঁদের জন্যই।
অজয়, সঞ্জয়, শরদ কেলকরের মতো অভিনেতাদের পেয়েও, তাঁদের ব্যবহার করতে ব্যর্থ পরিচালক। ছবির মেকিং এবং ভিসুয়াল এফেক্টস নিয়ে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভাল। এত হাস্যকর কাজ সাম্প্রতিক অতীতে বলিউডে দেখা যায়নি।
সময়, বাজেট... না কি অন্য কিছু? কী জন্য এতটা অযত্ন ছবির প্রতিটি বিভাগে? নির্মাতাদের উদ্দেশে একটাই কথা বলার, ২০২১-এ দাঁড়িয়ে ওটিটি বা বড় পর্দা কোনও মাধ্যমেই দর্শককে বোকা বানানো সহজ নয়।