অলকা যাজ্ঞিকের জন্মদিনে লিখলেন উদিত নারায়ণ। ছবি: সংগৃহীত।
আজ অলকাজির (যাজ্ঞিক) জন্মদিন। প্রথমেই ওঁকে আমার তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা। ওঁর সঙ্গে যে কত স্মৃতি, তা বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের ডুয়েট শ্রোতারা গ্রহণও করেছিলেন।
একটা কথা ভেবে সত্যিই গর্ব হয়। অলকাজির সঙ্গে কিন্তু সবচেয়ে বেশি গান আমারই। কুমার শানু, অভিজিৎ (ভট্টাচার্য) এবং বাকি সকলের চেয়ে আমার সঙ্গেই বেশি গান উনি গেয়েছিলেন। মানুষ আমাদের ডুয়েটকে ‘জুটি’ হিসাবে দেখত। আমাদের রসায়ন নিয়ে কম হইচই হয়নি।
কিন্তু ছয়-সাত মাস আগে একটা খবর পেয়ে খুব মন খারাপ হয়ে গেল। অলকাজির কানে কোনও সমস্যা হয়েছে, জানতে পারলাম। উনি পদ্মভূষণ পেয়েছেন। তাই শুভেচ্ছা জানাতে ওঁকে ফোন করি। ওঁর পরিবারের একজন ফোন তুলেছিলেন। তখনই এই খবরটা পেয়ে মন খারাপ হয়ে যায়। কানের সমস্যার জন্য গলাতেও প্রভাব পড়েছে।
অলকার সঙ্গে শুধু ছবির প্লেব্যাক নয়। লাইভ অনুষ্ঠানও কত করেছি আমরা! সে সব মনে করতে গেলে, বলে আর শেষ করা যাবে না। রিয়্যালিটি শো-তেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। মঞ্চের অনুষ্ঠানে তো আমাদের মধ্যে রঙ্গ-রসিকতা হতই। ওঁর সঙ্গে বহু মজার ও খুনসুটির স্মৃতি রয়েছে। দর্শকও কিন্তু আমাদের এই রসায়ন পছন্দ করে। আমাদের বয়স হয়েছে ঠিকই। কিন্তু আজও গান গাইলে সেই রসায়নই ধরা পড়বে। আসলে গান গাওয়ার জন্য মনের ভিতরটা পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। সেটা থাকলে তার প্রভাব গানের মধ্যে দেখাই যাবে। তখন শ্রোতারা সেই গান পছন্দ করবেন। কিন্তু ওঁর কান ও গলার সমস্যার খবরটা শুনে মন খারাপ হয়ে যায়। এত গান গেয়েছি আমরা। ওঁকে আবার একটা ভাল গান গাইতে দেখতে চাই আমি।
গায়িকা অলকাকে তো সকলেই চেনেন। মানুষ অলকাও কিন্তু খুব ভাল। সেটাই ওঁর গানে বার বার ফুটে উঠেছে। তাই ওঁর সঙ্গীতজীবন এতটা দীর্ঘ। সবচেয়ে বড় কথা, কত খুনসুটি করতাম ওঁর সঙ্গে। উনি কিন্তু কখনও রেগে যেতেন না। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সবটা গ্রহণ করতেন। মনে আছে, একসঙ্গে রেকর্ডিং থাকলেও উনি আগে গান গাইতে চাইতেন। যদিও পৌঁছোতাম আগে আমিই। কিন্তু রেকর্ডিং স্টুডিয়োয় পৌঁছেই আমি সঙ্গীত পরিচালককে মজা করে বলতাম ‘লেডিজ় ফার্স্ট’।
আমাদের একসঙ্গে গাওয়া গান গুনে শেষ করা যাবে না। অনেকেই জানতে চান, কোনটা আমার সবচেয়ে পছন্দের। সকলের আগে ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’-এর গানগুলোই মনে পড়ে। আজও সেই গান মানুষ শোনে। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর গানগুলোও আমার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। আমি প্রার্থনা করি, ঈশ্বর যেন ওঁর কণ্ঠ দ্রুত সারিয়ে দেন। আবার যেন আমরা একসঙ্গে গান গাইতে পারি।
(সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখিত)