বলিউডের তারকাদের রাজনৈতিক জীবন! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তারকাদের রাজনীতিতে আসা উচিত কি না, তা নিয়ে তর্কের শেষ নেই। অনেক সময় জনপ্রিয় মুখ দেখে ভোট এসেছে ঠিকই। কিন্তু উল্টোটাও হয়েছে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরে অভিনয় জীবনে ধস নেমেছে বহু বলিউড তারকার। কারও কারও ভাবমূর্তিতেও কুপ্রভাব পড়েছে। তাঁরা কারা?
১) অমিতাভ বচ্চন: ১৯৮০ সালে লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন ইলাহাবাদ কেন্দ্র থেকে। গান্ধী পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল অমিতাভের। সেখান থেকেই রাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ এবং কংগ্রেসের তরফ থেকে তাঁর লড়াই। তবে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার উজ্জ্বল হয়নি। পরাজিত হয়েছিলেন তিনি নির্বাচনে। তার পরে ক্রমশ তিনি রাজনীতি থেকে সরে যান।
২) রজনীকান্ত: দক্ষিণী তারকার খ্যাতি সারা দেশ জুড়ে। ১৯৯৬ সালের তামিলনাড়ু নির্বাচনে তাঁর দুর্নীতি-বিরোধী মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ রূপ ধারণ করেছিল। এর পর ২০১৭ সালে তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘আধ্যাত্মিক রাজনীতি’ করার ঘোষণা দেন। ২০১৮ সালে নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করেছিলেন তিনি। দলের নাম— রজনী মক্কাল মন্দারাম। তবে সেই দল সক্রিয় হওয়ার আগেই হারিয়ে যায়।
৩) গোবিন্দ: ২০০৪ সালে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন এবং মুম্বই উত্তর লোকসভা আসন থেকে নির্বাচন লড়েন। সেই নির্বাচনে বিজেপির প্রভাবশালী নেতা রাম নাইককে হারিয়ে তিনি সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। তবে সাংসদ হিসাবে তাঁর কার্যকাল সফল ছিল না। সংসদে অনুপস্থিতি এবং নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের খোঁজ না নেওয়ার কারণে তাঁকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। ২০০৯ সালে রাজনীতিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে নিজেই মন্তব্য করেছিলেন গোবিন্দ। এর পরে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি শিবসেনায় যোগ দিয়ে আবার রাজনীতিতে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে দলটির একজন তারকা প্রচারক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তবে অভিনয় জীবনে সেই ভাবে আর অগ্রগতি হয়নি গোবিন্দের।
৪) রেখা: বলিউড বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রেখার রাজনৈতিক জীবন কোনও নির্বাচনী লড়াইয়ের মাধ্যমে হয়নি। সরাসরি মনোনয়নের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। ২০১২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল ভারতীয় চলচ্চিত্রে রেখার অবদানের জন্য তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন। ক্রিকেট তারকা সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে রেখা রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার নজরকাড়া হয়নি।
৫) সঞ্জয় দত্ত: বিভিন্ন বিতর্কে নাম জড়িয়েছে তাঁর। ২০০৯ সালে লখনউয়ে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে লখনউ আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় তাঁর নাম জড়ানোয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। ফলে তাঁর প্রার্থিপদ বাতিল হয়ে যায়। এর পর তিনি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আইনি ঝামেলার কারণে ২০১০ সালের মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই সময়ে অভিনয় জীবনে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন। তবে রাজনীতি পুরোপুরি ছাড়ার পরে ফের জোরকদমে অভিনয় করে চলেছেন সঞ্জয়।
৬) ঊর্মিলা মাতন্ডকর: নব্বইয়ের দশকের অন্যতম নায়িকা ছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয় থেকে নাচ— সবই প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু ক্রমশ অভিনয় থেকে সরতে থাকেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের টিকিটে তিনি মুম্বই উত্তর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজেপির কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। এই হারের মাত্র পাঁচ মাস পরে, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের তীব্র সমালোচনা করে তিনি কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন। এর পর ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি উদ্ধব ঠাকরের উপস্থিতিতে শিবসেনা দলে যোগ দেন এবং বিশেষ পদে তাঁকে মনোনীত করা হয়। তবে অনুরাগীরা মনে করেন, রাজনীতির থেকে অভিনয়ের ময়দানে তিনি আরও যোগ্য ছিলেন।