সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনীছবি ‘দাদা’র শুটে ব্যস্ত অপরাজিতা আঢ্য। নিজস্ব ছবি।
দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই বিনুনির এক কিশোরী। তার উৎসুক দৃষ্টি পাশের বাড়ির গেটের দিকে। পরনে স্কুলের সাদা পোশাক।
প্রতীক্ষার অবসান। নির্দিষ্ট সময়েই বেরিয়ে এল এক কিশোর। তার গায়েও স্কুলের সাদা পোশাক। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এসেছেন ছেলেটির মা। তাঁকে হাত নেড়েই কিশোরের চোখ পাশের বাড়ির বারান্দায়। চার চোখের মিলন। সময় কি থমকে গেল? ছেলেটির হুঁশ ফিরল মায়ের ধমকে। “হাঁ করে কাকে দেখছিস?” মেয়েটি এক ছুটে নিজের ঘরে। ছেলেটি মাথা নিচু করে গেট পেরিয়ে বেরিয়ে গেল রাস্তায়।
দৃশ্য দেখতে দেখতে আবেগে ভাসলেন উল্টোদিকের বাড়ির গিন্নি মনোমিতা মুখোপাধ্যায়। একা তিনি নন, বেহালার বীরেন রায় রোড সোমবার ভোর পাঁচটা থেকে আবেগতাড়িত। ২৫ মে থেকে কলকাতায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে শুরু হল তাঁর জীবনীছবি ‘দাদা’র শুটিং। আনন্দবাজার ডট কম সাক্ষী তার। পরিচালক বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানী আর তাঁর দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পুরো রাস্তা। পরিচালক নিজে দাঁড়িয়ে দৃশ্য বোঝাচ্ছেন। শট নিচ্ছেন নিজেই।
নীরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকায় অপরাজিতা। নিজস্ব চিত্র।
প্রতিবেশীর কথায়, “যে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হতে দেখলেন, ওটা সৌরভ-ডোনার ছেলেবেলার প্রেমের সময়। সদ্য বিয়ে করে এ পাড়ায় এসেছি তখন। শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের দারুণ হৃদ্যতা। সৌরভের আমি বৌদি। ডোনার কাকিমা!”
সাল ১৯৮৯। সৌরভ তখন একাদশ শ্রেণি। ডোনা নবম। প্রেমের শুরু তখনই। মনমিতার দাবি, পরিচালক তাঁদের নব্বইয়ের দশক ফিরিয়ে দিয়েছেন। ওই ভাবেই দেখা করতেন ওঁরা। মনমিতার চিকিৎসক স্বামী নাকি ছিলেন চিঠির বাহক! সৌরভ তখন রঞ্জি খেলেন। মা নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায় এ ভাবেই ছেলেকে এগিয়ে দিতে আসতেন। “দেখতে দেখতে সেই ছেলে কত বড়!”
পর্দার কিশোরী ডোনা, কিশোর সৌরভ। নিজস্ব চিত্র।
নব্বইয়ের ম্যাজিক আরও গাঢ় হল অপরাজিতা আঢ্য এসে দাঁড়াতেই। চওড়া লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। কোমরছোঁয়া চুলে বিনুনি। কপালে বড় সিঁদুরে টিপ। বারকয়েক শট দিলেন অপরাজিতা। লাগোয়া বাড়ির মেয়ের সঙ্গে প্রেম! কষে ধমক দিলেন পর্দার ছেলেকে। কথা বললেন পরিচালকের সঙ্গে। তিনি মাথা নেড়ে সবুজ সঙ্কেত দিতেই অভিনেত্রীর যেন স্বস্তি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠছে বেহালা চৌরাস্তা। মা মঙ্গলচণ্ডী ভবনের বাইরে পুলিশ দাঁড়িয়ে। তাঁরা আসল না নকল? বোঝার উপায় নেই। তবে নকল গাড়িতে বিক্রি করা সবজির দোকান দেওয়া হয়েছে। বানানো হয়েছে চায়ের দোকান। একটা শট শেষ হলেই পরিচালক দেখে আসছেন এ মাথা থেকে ও মাথা। সব ঠিক আছে তো?
শুটিংয়ের এখনও অনেক বাকি। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, রাহুল দেব বসু, তান্যা মানিকতলা এবং ‘দাদা’ রাজকুমার রাওয়ের শুটিং বাকি। শুট হবে ইডেন গার্ডেন্স, সৌরভের বাড়ি-সহ কলকাতার একাধিক জায়গায়।