শুভেন্দুকে নিয়ে কোন দাবি রাখছেন বাম মনস্ক তারকারা। গ্রাফিক্স-আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক।
বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বামমনস্ক তারকাদের কী অভিমত? জানা গেল, কেউ কেউ তাঁর বিরোধিতা করলেও, কেউ কেউ আবার মমতার বিকল্প হিসাবে শুভেন্দুকে খানিকটা এগিয়েই রাখছেন। সৌরভ পালোধি থেকে ঊষসী চক্রবর্তী, শ্রীলেখা মিত্র, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়দের কী প্রত্যাশা রয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে?
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন অভিনেতা পরিচালক সৌরভ পালোধি। সৌরভের কথায়, ‘‘সংবিধান অনুযায়ী জাতধর্ম নির্বিশেষে সকলে এক থাকার কথা। কিন্তু সেটা নিয়ে আমি ভয়েই আছি। উনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় নতুন সকাল হয়েছে বা নতুন দিশা দেখতে পাচ্ছি, তেমনটা নয়। বরং খানিক দ্বিধাগ্রস্ত। আসলে আমরা চাই বা না চাই, উনি আমার মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর নামে সারদা-নারদা সবই তো রয়েছে। তাই আমি খুব একটা আশা দেখছি না। বরং, আশঙ্কায় আছি।’’ তবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সৌরভের দাবি, যাতে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিতে কোথায় বিঘ্ন না ঘটে। একই সঙ্গে এ রাজ্যের সংখ্যালঘু থেকে সংখ্যাগুরু— সকলেই যেন সমমর্যাদা পান।
শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: পিটিআই।
অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তীর বক্তব্য অবশ্য সৌরভের থেকে ভিন্ন। তিনি এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আশাবাদী। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর দাবি, টলিউডের শিল্পীরা যাতে রাজনৈতিক রং না দেখেন, লোকে যেন কাজ পায়। ঊষসীর কথায়, ‘‘ভয়মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশে যাতে আমরা কাজ করতে পারি, আমি সেটা চাই। আর রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে শিল্পীদের যে নিরাপত্তা উদ্যোগ শুরু হয়েছিল সেটা যাতে গতি পায়।’’ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নারীসুরক্ষার দাবি রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘আমি চাইব যাতে আমরা রাস্তাঘাটে অবাধে চলাফেরা করতে পারি। রাত করে বাড়ি ফেরায় যাতে কোনও সমস্যা না থাকে। সেটা কাজ থেকে ফেরা কিংবা অন্য কোনও কারণ হোক। আমি অভয়ার মৃত্যুর বিচারের দাবিও রাখছি ওঁর কাছে।’’
পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় জানান, বর্তমানে অবস্থায় নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আশা কিংবা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি বসে রয়েছেন তেমন মোটেই নয়। বরং তিনি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক একটা সমাজ চান। তাঁর দাবি, যে প্রতিশ্রুতির উপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, সেটার যেন পালন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্রীলেখা মিত্র অবশ্য মনে করেন, এ রাজ্যে বামপন্থীরাই বিকল্প। তাই তিনি বামেদের পক্ষে। শ্রীলেখা চেয়েছিলেন ‘যুবা’ ছবির মতো এ রাজ্যেও কিছু একটা ঘটুক। শ্রীলেখা বলেন, ‘‘মণিরত্নমের ‘যুবা’ ছবির মতো এই সব শিক্ষিত তরুণ ছেলেমেয়েগুলো সব জিতবে ও নতুন পশ্চিমবঙ্গ দেখব আমরা। যাঁরা সত্যিকারের বদলটা আনতে সক্ষম হবেন। আসলে শুভেন্দু অধিকারী জিতলেন ওই হিন্দু ভোটের কারণে, যেটা উনিও বলে থাকেন।’’ শেষে শ্রীলেখার দাবি, যখন শুভেন্দু অধিকারী সরকার গড়েছেন, তিনি শুধু হিন্দুদের মুখ্যমন্ত্রী নন, তিনি আপামর বঙ্গবাসীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাই যে কোনও ধরনের বিভাজনমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকবেন, সেই আশাই করছেন অভিনেত্রী।