আর্টিস্ট ফোরাম নিয়ে অকপট ভরত কল, দেবদূত ঘোষ। ছবি: ফেসবুক।
প্রত্যেক বছর ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের বাৎসরিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি, কার্যকরী সভাপতি এবং কিছু ‘সাম্মানিক’ সদস্য ছাড়া বাকিরা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। এ বছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ব্যতিক্রম, এ বছর নির্বাচনের পর রাজনীতির রং লেগেছে আর্টিস্ট ফোরামের গায়ে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দেবদূত ঘোষ, আবীর চট্টোপাধ্যায়। কার্যকরী কমিটিতে রয়েছেন চন্দন সেন। ফলাফল বেরোনোর পরেই টলিউডের অন্দরে রব, বাংলায় বামদল নাকি বিপুল ভাবে ফিরছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তারই আগাম ছায়া পড়েছে আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচনে!
কে বা কারা দায়িত্ব নিয়ে এই ধরনের বক্তব্য ছড়াচ্ছে? বাম দলের প্রতিনিধিরাই কি?
সঠিক জানেন না দেবদূত। একই ভাবে জানেন না কমিটির নব-নিযুক্ত সহ-সভাপতি ভরত কলও। উভয়েই শুধু জানেন, আর্টিস্ট ফোরামে কোনও রাজনৈতিক দলাদলি নেই। ভরতের কথায়, “আমরা প্রত্যেকে অভিনেতা, শিল্পী। কে তৃণমূল, কে বাম, কে বিজেপি! এত দিন এই নিয়ে কথা ওঠেনি। তা হলে আজ ঘুম ভাঙল কাদের?” সংগঠনে সব ধরনের রাজনৈতিক মতে বিশ্বাসীদের তাই সাদর আমন্ত্রণ।
এ দিকে, কোলাহল ক্রমশ বাড়ায় সদ্য সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভরত। কথা বলেছেন আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গেও। তাঁর কথায়, “চন্দনদাকে আমরা সম্মানিত সদস্যপদ দিয়েছি। ওঁকে নির্বাচনে লড়তে হয়নি। একই ভাবে আবীর ভোটে লড়লেও ও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নয়। দেবদূত না হয় বাম সমর্থক। কিন্তু ওঁর উল্টো দিকে তো কোনও তৃণমূল কংগ্রেসের পার্থী দাঁড়াননি! তা হলে বিপুল ভাবে বাম দল ফিরছে কোথায়?”
ভরতের আরও মত, রাজ্যে ১০ কোটি মানুষের বাস। আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যসংখ্যা কয়েক শো মাত্র। তাঁর প্রশ্ন, “এই ফলাফল দেখে বিধানসভা নির্বাচনের আগাম ফলাফল কী করে বোঝা সম্ভব?” ভরত সরব হলেও বিষয়টি নিয়ে কোথাও কোনও মন্তব্য করেননি দেবদূত। এ প্রসঙ্গে তাই তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।
বিষয়টি নিয়ে কী বলছেন দেবদূত? সত্যিই কি বাম দল ক্ষমতায় আসতে চলেছে?
প্রশ্ন করতেই দেবদূত পাল্টা প্রশ্ন করলেন, “বাম দলের শীর্ষ নেতারা কি এই মন্তব্য করেছেন?” অভিনেতার মতে, “ওঁরা বললে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতাম। সবার কথায় মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করি না।” তিনি তাই সম্পূর্ণ সমর্থন করেছেন ভরতকে। বলেছেন, “ভরতদা সঠিক কথা বলেছেন। আর্টিস্ট ফোরাম ‘রং’হীন। এখানে সবাই সমান।” আরও যোগ করেছেন, “উত্তমকুমার বলতেন টালিগঞ্জ নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। সেটাই মানি। তাই উত্তমকুমারের মূর্তির পায়ের নীচে ‘রাজনৈতিক পতাকা’ বা আদর্শ রেখে এসে আমরা স্টুডিয়োয় পা রাখি।”