যে কোনও ছবির সেট আসলে সেই সিনেমার কারিগর। সেই সেটের উপরেও অনেক সময়ে নির্ভর করে সিনেমার সাফল্য। ব্যয়বহুল এবং প্রচুর মানুষের সৃজনশীলতার উপর দাঁড়িয়ে থাকে একটি সফল সিনেমার সেট। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন অনেক সেটই রয়েছে যেগুলির ব্যাক স্টোরি শুনলে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যেতে পারে আপনারও। জেনে নেওয়া যাক বিখ্যাত কিছু ছবির সেটেরই গল্প।
মুঘল-এ-আজম: ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কিয়া গানে’ যে সেটটি দেখানো হয়েছে তা তৈরি করতে খরচা হয়েছিল প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। দু’বছর লেগে গিয়েছিল সেই শিসমহল তৈরি করতে। গানে দেখানো নানান রঙের কাচগুলি এসেছিল বেলজিয়াম থেকে। ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে মোহন স্টুডিও তে তৈরি হয়েছিল সেই সেট। তবে শুটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সরানো হয়নি এই সেট। ৬ সপ্তাহ ধরে সেটটি ওই জায়গাতেই রাখা হয়েছিল। বহু মানুষ কেবল এই সেটটিকে দেখতেই মোহন স্টুডিওতে ভিড় জমাতেন।
কভি খুশি কভি গম: এই ছবির জন্য মুম্বইয়ের একটি ফিল্ম স্টুডিওতে দিল্লির চাঁদনি চককে হবহু ফুটিয়ে তুলেছিলেন ছবির শিল্প নির্দেশকেরা। ছবিতে যে রাইচাঁদ ম্যানসন দেখা গিয়েছিল তারই অভ্যন্তরীন সব কারুকার্য এই সেটের ভিতরেই নির্মিত হয়েছিল। ‘কভি খুশি কভি গম’ এর জন্য ১৮ থেকে ১৯ টি সেট তৈরি করেছিলেন শিল্প নির্দেশক শর্মিষ্ঠা রায়। শ্রেষ্ঠ আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও জিতে নিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা।
দেবদাস: সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ছবিতে বরাবরই সেট আলাদা প্রাধান্য পায়। ‘দেবদাস’ ছবিটিও এর ব্যতিক্রম নয়। পারোর ঘরটি সাজানো হয়েছিল প্রায় ১২ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি কাচ দিয়ে। আর চন্দ্রমুখীর কোঠায় তো আবার আস্ত একটা দিঘিই তৈরি করা হয়েছিল।
জোধা আকবর: এই ছবিতে হৃত্বিক রোশনের পাশাপাশি আর একটি যে বিষয় মানুষের চোখে লেগেছিল সেটি হল ছবির সেট। নিতীন চন্দ্রকান্ত দেশাই নির্মিত সেই সেটের দরজা আজও মানুষের জন্য খোলা। ৭০ কোটি টাকার কাছাকাছি খরচা হয়েছিল এই সেটটি নির্মাণ করতে।
বম্বে ভেলভেট: ‘বম্বে ভেলভেট’ ছবিতে ১৯৬০ সালের তৎকালীন বম্বের চালচিত্র ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। শ্রীলঙ্কায় কলম্বোতে ৯.৫ একর জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছিল এই সেটটি। ১১ মাসেরও বেশি সময় ধরে বানানো হয় ‘বম্বে ভেলভেট’-এর সেট। বর্তমানে এই সেটটি শ্রীলঙ্কায় পর্যটকদের ঢুঁ মারার জায়গা।
বাজিরাও মস্তানি: আবারও সেই সঞ্জয় লীলা ভন্সালী। তবে ছবিটা হালফিলের ‘বাজীরাও মস্তানি’। শাহু দরবার থেকে শুরু থেকে কাশীবাঈ-এর বাড়ি এই সবই নজর কেড়েছিল দর্শকের। কাশীবাঈ-এর বাড়িটি তৈরি করতে লেগে গিয়েছিল প্রায় ২৫ দিন। শাহু দরবারেই রনবীর সিংহ পেশোয়া হয়েছিলেন। ৫০ ফুটেরও বড় বড় পিলার রয়েছে এই দরবার। প্রায় ৪০০০ টি আয়না দিয়ে তৈরি আয়না মহল, যার সবই আনা হয়েছিল জয়পুর থেকে। মুঘল-এ-আজম এর শিসমহলের আদলে তৈরি এই আয়না মহল। ১৩ জনেরও বেশি শিল্প নির্দেশকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দাঁড়িয়েছে ‘বাজিরাও মস্তানি’র পুরো সেট।
বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন: মহীশমতীর এই রাজ্য তৈরি করেছেন প্রোডাকশন ডিজাইনার সাবু সিরিল। প্রায় ১৫০০ টিরও বেশি স্কেচ তৈরি করেছিলেন সাবু। হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে প্রায় ১০০ একর জমিতে তৈরি হয় এই বিশাল সেট। ২০০ জন স্কাল্পচারিস্ট মিলে ৮ হাজার তেজি ওজনের বল্লালদেবের ১২৫ ফুট লম্বা মূর্তিটি নির্মাণ করেছিলেন। মূর্তিটি স্থানচ্যূত করতে ৪টি ক্রেন কমপক্ষে ব্যবহার করতে হয়।