Republic day parade 2026

প্রজাতন্ত্র দিবসের আকাশ পাহারায় ‘চিকেন শিল্ড’! কী ভাবে সুখোই-রাফালকে রক্ষা করবে ১২৭৫ কেজি মুরগির মাংস?

১৫ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ২০টি চিহ্নিত স্থানে মাংস নিক্ষেপের মহড়া চলবে। তার মধ্যে রয়েছে লাল কেল্লা এবং জামা মসজিদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি। উড়ন্ত সুখোই এবং রাফালকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কেন হাড়বিহীন মাংস বেছে নিল দিল্লি প্রশাসন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৪
Share:
০১ ১৬

প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের সময় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২৭৫ কেজি হাড়বিহীন মুরগির মাংস কিনবে দিল্লি সরকার! ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের বিমান প্রদর্শনীর জন্য চলবে যুদ্ধবিমানের মহড়া। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাই প্রোফাইল অতিথিদের সামনে প্রদর্শনীর আগে মহড়ার জন্য রাজধানীর আকাশে যুদ্ধবিমানগুলি গর্জে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঠিক তখনই বিমানগুলির সুরক্ষিত মহড়ার জন্য একটি অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করছে প্রশাসন।

০২ ১৬

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিমানগুলির উড়ানের পথে যাতে কোনও উড়ন্ত পাখি বাধা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য এক অদ্ভুত পন্থা নিচ্ছে সরকার। সমস্ত ধরনের বিমান উড়ানের সময় চালকদের প্রায়শই একটি বাধার সম্মুখীন হতে হয়। ওড়ার পথে চলে আসে পাখি। দিল্লির আকাশে এই ধরনের বাধা সৃষ্টি করে কালো চিল। বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে ভারতীয় বায়ুসেনার মহার্ঘ যুদ্ধবিমানগুলি।

Advertisement
০৩ ১৬

কুচকাওয়াজের সময় এই উড়ন্ত বাধাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে বিপজ্জনক পাখির আঘাত রোধ করতে ১,২৭৫ কেজিরও বেশি হাড়বিহীন মুরগি ব্যবহার করা হবে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারির আগে যে মহড়া হয়, তাতে সমস্যা তৈরি করে এই চিল ও বাজ জাতীয় বড় পাখি। শিকার করতে গিয়ে বা ওড়ার সময় বিমানের সামনে এসে পড়ে তারা। বিমান প্রদর্শনীর সময় পাখির আঘাতকে একটি গুরুতর ঝুঁকির বিষয় বলে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে যখন বিমানগুলি কম উচ্চতায় ওড়ে।

০৪ ১৬

উড়ন্ত সুখোই এবং রাফালকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কেন হাড়বিহীন মাংস বেছে নিল দিল্লি প্রশাসন? বনবিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্তা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, চিল বা বাজের মতো মাংসাশী পাখিরা স্বাভাবিক ভাবেই খোলা জায়গা এবং খাদ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। যদি সেগুলি বিমানে উড়ানের করিডরে প্রবেশ করে, বিমানের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। চিলের মতো বড় পাখিগুলি খাদ্যের সন্ধানে খোলা জায়গায় ঘোরাফেরা করার জন্য কুখ্যাত। প্রতি বছরই তাদের মাংসের লোভ দেখিয়ে ‘বিপথে’ টেনে আনা হয়।

০৫ ১৬

চলতি বছরে যেটা হয়েছে সেটা হল পাখিদের ‘রেসিপিতে’ পরিবর্তন। আগে এই ধরনের মহড়ার জন্য মোষের মাংস ব্যবহার করা হত। এ বছর থেকে সেটির পরিবর্তে মুরগির হাড়ছাড়া মাংস ব্যবহার করা হবে, যাতে খেচরদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপনের সুষ্ঠু পরিচালনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়।

০৬ ১৬

১৫ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ২০টি চিহ্নিত স্থানে মাংস নিক্ষেপের মহড়া চলবে। তার মধ্যে রয়েছে লাল কেল্লা এবং জামা মসজিদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি। এই এলাকাগুলি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সাধারণত চিলের উৎপাত বেশি থাকে। এ ছাড়াও মান্ডি হাউস, দিল্লি গেট এবং মওলানা আজাদ ইনস্টিটিউট অফ ডেন্টাল সায়েন্সেসের কাছাকাছি এলাকাগুলিতেও মাংস ছড়ানোর কর্মসূচি রয়েছে।

০৭ ১৬

প্রতি বছর পাখিদের চলাচলের ধরন দেখে এই এলাকাগুলি নির্বাচন করা হয় বলে বন দফতর সূত্রে খবর। নির্দিষ্ট স্থানে পাখিদের খাবার দেওয়ার কৌশল হল বিমান প্রদর্শনীর রুট থেকে সেগুলিকে দূরে রাখা। তারা যাতে পর্যাপ্ত খাবারও পায় সে দিকেও লক্ষ রাখা।

০৮ ১৬

নির্দিষ্ট স্থানে মুরগির মাংসের ছোট ছোট টুকরো বাতাসে ছুড়ে ফেলা হয় যাতে পাখিরা কম উচ্চতায় তাদের ভোজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বিমানের রুটের দিকে উড়ে না যায়। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে পাখিদের খাবারের ধরনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য মহড়াও চলে। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে প্রতি দিন এই কৌশলটির পুনরাবৃত্তি করা হয়।

০৯ ১৬

প্রতি দিন, দু’শো থেকে চারশো কেজি মাংস আকাশে ছুড়ে দেওয়া হবে পাখিদের জন্য। ২২ জানুয়ারি এই মাংসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি করা হবে, দু’শো পঞ্চান্ন কেজি। মোট ২০টি জায়গা চিহ্নিত করেছেন বন দফতরের আধিকারিকেরা। প্রতিটি জায়গায় প্রায় ২০ কেজি মাংস ব্যবহার করা হবে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে।

১০ ১৬

১,২৭৫ কেজি মুরগির সরবরাহের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি দরপত্র জারি করেছে দিল্লি সরকার। দরপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমস্ত জায়গার পাখিদের সমান ভাবে খাওয়ানো হবে। সেই মাংস বিতরণের সুবিধার জন্য ২০ থেকে ৩০ গ্রাম টুকরো করে পাঁচ কেজির প্যাকেটে সরবরাহ করতে হবে। দিনে ৩৪ থেকে ৫১টি প্যাকেট সরবরাহ করতে হবে সংস্থাকে।

১১ ১৬

যদিও সরকারি নথিতে খরচ নির্দিষ্ট করা হয়নি। গাজিপুর মুরগি ও মাছ বাজারের এক জন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন যে, হাড়বিহীন মুরগির মাংস বর্তমানে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সেই দাম অনুসারে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে পাখিদের ‘ভোজসভার’ জন্য প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা খরচ পড়তে পারে সরকারের।

১২ ১৬

মূলত টেক-অফের সময় বিমানের ইঞ্জিনের সামনে চলে আসে পাখি। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন সেই পাখিকে টেনে নেয় ভিতরে। ফলে ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তা বন্ধও হয়ে যায়। একাধিক বার এমন ঘটেছে, পাখির ধাক্কার পরে বন্ধ ইঞ্জিন নিয়ে মুখ ঘুরিয়ে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে বিমানচালককে। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে অনেকগুলি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১৩ ১৬

স্থল, জল, বায়ু— সর্ব স্তরেই ভারতের সামরিক শক্তির প্রদর্শন করার মঞ্চ হল প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান। বায়ুসেনার সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানের মহড়া থেকে শুরু করে সেনা কুচকাওয়াজ— দিল্লির রাজপথে আত্মনির্ভর ভারতের নতুন নমুনা চাক্ষুষ করেন দেশবাসী।

১৪ ১৬

২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকতে পারেন ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা। ভারত এবং ইইউয়ের মধ্যে শীর্ষ স্তরে কৌশলগত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তির কথা মাথায় রেখে অতিথি নির্বাচনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদেরা।

১৫ ১৬

নয়াদিল্লি-মস্কো সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গত কয়েক মাসে বেড়েছে ২৭ সদস্য নিয়ে গঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য-সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে আরও নিবিড় সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে চায় তারা। ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাপিয়েছে ৫০ শতাংশ শুল্ক। তার ফলে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য ধাক্কা খেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নয়াদিল্লির অন্যতম অগ্রাধিকার।

১৬ ১৬

ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও দ্রুত বদল আসছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক আরও নিবিড় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement