টোটা রায়চৌধুরী এ বার ঔপন্যাসিক! ছবি: ফেসবুক।
দুধসাদা চুল কপালের কাছে পাতা কেটে আঁচড়ানো। তিক্ষ্ণ নাক, ধারালো চিবুক-চোয়াল। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, উত্তরীয়তে শোভিত। কাঠের চেয়ার-টেবিলে বসে এক মনে উপন্যাস লিখছেন। টোটা রায়চৌধুরী। মগজাস্ত্রের কারবারি ফেলু মিত্তির থেকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়! সৌজন্যে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।
বুধবারের বিকেলে প্রকাশ্যে পরিচালকের আগামী ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এর প্রথম ঝলক। গত অগস্টে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের উপরে তৈরি এই ছবির নাম প্রথম জানিয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম। কেন এই বিষয় বাছলেন তিনি? শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘পথের দাবি’র ১০০ বছর এই বছরের ৩১ অগস্ট। এই উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র ‘সব্যসাচী’। এই উপন্যাসকে কেন্দ্র করে পরিচালকের আগামী ছবি। মূলত, উপন্যাসের ১০০ বছর উদ্যাপন তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। পরিচালক সেই সময়ে আরও বলেছিলেন, “বরাবর নানা স্বাদের ছবি বানিয়ে এসেছি। এ বছরেই যেমন মুক্তি পেয়েছে ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’, ‘কিলবিল সোসাইটি’। একটির সঙ্গে আর একটির বিষয়ের কিন্তু কোনও মিল নেই। সেই জায়গা থেকেই আমার এই বিষয়টিকে বেছে নেওয়া।” প্রযোজনায় নন্দী মুভিজ়।
ছবির বিষয় ঠিক হতেই একদিন সকালে টোটার কাছে সৃজিতের ফোন। পর্দায় ‘শরৎচন্দ্র’ হয়ে ওঠার নেপথ্য গল্প বলতে গিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-কে সে কথা জানিয়েছেন টোটা। তাঁর কথায়, “ফোন ধরতেই সৃজিত বলল, ‘তোমার আদল অনেকটা শরৎচন্দ্রের মতো, সেটা কি তুমি জান’?” সৃজিতের এই বক্তব্য শুনে সে দিন আকাশ থেকে পড়েছিলেন অভিনেতা। তার পরেই পরিচালকের বার্তা, তাঁর আগামী ছবিতে ‘কথাশিল্পী’ তিনিই। এর পর লুক টেস্ট। রূপসজ্জাশিল্পী সোমনাথ কুন্ডুর রূপটান। ধীরে ধীরে ‘শরৎচন্দ্র’ হয়ে ওঠা। “আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হয়েছিল, যতটা আদল আনা সম্ভব, ততটাই এনেছেন সোমনাথদা।”
পর্দায় শরৎচন্দ্র হয়ে রাজনৈতিক উপন্যাস লিখেছেন। বাস্তবে কি রাজ্য রাজনীতির পালাবদল নিয়ে এ বার কিছু বলবেন? প্রশ্ন শুনেই সতর্ক টোটা। বললেন, “আমি রাজনীতির থেকেও কাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমার কাজ অভিনয়। সেটা যেন মন দিয়ে করে যেতে পারি, এটাই প্রার্থনা।”
‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবির পোস্টার। ছবি: ফেসবুক।
গোয়েন্দা থেকে ঔপন্যাসিক। এক অভিনেতার আমূল ‘চরিত্র’বদল! এই নাটকীয় পটপরিবর্তন আশা করেছিলেন টোটা? “দুটোর ক্ষেত্রেই অনুঘটক সৃজিত”, একটুও না ভেবে জবাব তাঁর। টোটা আরও যোগ করলেন, “আমার অভিনীত সমস্ত চরিত্রের মধ্যে এটা সেরা। অভিনয় জীবনের প্রথম পালাবদল ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে। ওঁর ‘চোখের বালি’ ছবির ‘বিহারী’ হয়ে। সেই বৃত্ত যেন সম্পূর্ণ করলেন সৃজিত। আরও একবার উপন্যাসধর্মী ছবিতে অভিনয়। ডাক পেয়ে তাই খুশি হয়েছিলাম।” চরিত্র হয়ে উঠতে টোটা আলাদা করে মহড়া নেননি। ‘শ্রীকান্ত’-সহ শরৎচন্দ্রের লেখা অন্য উপন্যাস নতুন করেও পড়েননি। ঔপন্যাসিকের সে রকম ছবি বা ভিডিয়ো ক্লিপিংসও নেই। ফলে, তিনি নির্ভর করেছেন পরিচালকের উপরে। বাকিটা দর্শকের উপরে ছে়ড়ে দিয়েছেন।
প্রথম ঝলকে টোটাকে দেখে ইতিমধ্যেই বিস্মিত তাঁর অনুরাগীরা। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, তাঁদের প্রিয় অভিনেতা কালজয়ী ঔপন্যাসিকের চরিত্রে। চেহারায়, কণ্ঠস্বরে কত বদল! বিস্ময় কমতেই তাঁরা শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন, জানিয়েছেন অভিনেতা।