দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার মডেল অঞ্জলি লামা। জন্মসূত্রে ভারতীয় নন। তবে র্যাম্পে হাঁটা প্রথম রূপান্তরকামী মডেল তিনি। বর্তমান বাসস্থান মুম্বই। তিনি এখন কী করছেন জানেন?
২০১৬ সালে বাতিল হয়ে গেলেও ২০১৭ মুম্বইয়ে একটি বিখ্যাত ফ্যাশন উইকের অডিশনে নির্বাচিত হন তিনি। হাঁটেন দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার মডেল হিসাবে। বর্তমানে এলজিবিটি আন্দোলনের একজন মুখ অঞ্জলি।
সারা বিশ্বে ভারতীয় ফ্যাশন দুনিয়ার ভাবমূর্তি বেশ ইতিবাচক। তাই নিজেকে প্রকাশ করার স্বাধীনতার জন্য এই প্ল্যাটফর্মকেই দৃষ্টান্ত হিসাবে দেখেছিলেন, বলেন তিনি।
ছোট থেকে বেড়ে ওঠা, পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁর লড়াই— এ সবে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র ‘‘অঞ্জলি-লিভিং ইনসাইড সামওয়ান এলসেস স্কিন।’’
২৫ বছরে মডেলিং শুরু করেন তিনি। যেখানে অনেকই মডেলিংয়ের পেশা ছেড়ে দেন এই বয়সে।
২০১০ সালে অস্ত্রোপচারের পর নবীন নাম বদলে হলেন অঞ্জলি। এলজিবিটি-দের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটির সদস্য-কর্মী হন। সেই সংস্থার হয়ে এখনও কাজ করছেন। ভারতেরও বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তিনি। ৩২ পেরিয়েও মডেলিং কিন্তু ছাড়েননি।
মডেলিংয়ে বরাবরই উৎসাহ ছিল তাঁর। বেশ কয়েকটি ফ্যাশন পত্রিকার ফটোশুটে ডাক পড়ে তাঁর। ছবি ছাপা হয় প্রচ্ছদে। শুরু হয় নিউ ইয়র্ক, মিলান, প্যারিসের র্যাম্পে হাঁটা। মুম্বইয়ে থাকা শুরু করেন সেই সময়।
অঞ্জলির জন্ম নেপালের নুয়াকোটে। বাবা-মা ছেলের নাম রেখেছিলেন নবীন ওয়াইবা। ২০০৫ সালে প্রথম বার নিজের সত্তা কথা প্রকাশ করেন কৃষক পরিবারের সন্তান অঞ্জলি। পরেন মেয়েদের পোশাক।
এরপর লড়াইয়ের শুরু। নিজের পড়াশোনার খরচও নিজেকেই জোগাড় করতে হত স্কুলজীবনের শেষ থেকেই। মা ও বোন ছাড়া বাড়ির আর কেউ তাকে সমর্থন করেননি, জানান অঞ্জলি।
সম্প্রতি ওয়েব সিরিজের একটি সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর একজন ভালবাসার মানুষ রয়েছে সেই ২০০৫ সাল থেকে। কোনও না কোনও দিন বিয়ে করতেও চান।