অর্ঘ্য সেনের স্মৃতিচারণায় ইন্দ্রাণী সেন। ছবি: সংগৃহীত।
রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন প্রয়াত। “খবরটা শোনার পরেই মনটা বিষণ্ণ হয়ে গেল”, আনন্দবাজার ডট কম-কে বললেন অধ্যাপক-গায়িকা ইন্দ্রাণী সেন। বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে অর্ঘ্য সেন দীর্ঘ দিন গানের দুনিয়া থেকে দূরে ছিলেন, জানালেন ইন্দ্রাণী।
বর্ষীয়ান শিল্পীর কথা বলতে গিয়ে স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন ইন্দ্রাণী। বলেছেন, “সদালাপী। খুব যত্ন নিয়ে গান শেখাতেন। আমি আর শ্রাবণী— দুই বোন ওঁর কাছে কিছু গান শিখেছি। অর্ঘ্যদা গানগুলো যেন হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছিলেন। কোনও দিন গানের সুর ভুলিনি আমরা।” সদ্যপ্রয়াত গায়কের গায়কিও তাঁদের মন্ত্রমুগ্ধের মতো গান শুনতে বাধ্য করত, সে কথাও জানিয়েছেন। “‘খোলো খোলো দ্বার’ গানটা অর্ঘ্যদার সিগনেচার। এই গান ওঁর মতো করে কেউ গাইতে পারলেন না”, দাবি ইন্দ্রাণীর।
ব্যক্তি অর্ঘ্য সেন সম্পর্কেও জানিয়েছেন গায়িকা। তাঁর কথায়, “সবার থেকে আলাদা ছিলেন অর্ঘ্য সেন। সংসারের সঙ্গে কোনও দিন জোড়াননি নিজেকে। শুনেছিলাম, এক বোন ছাড়া আর কেউ নেই তাঁর। শান্তিনিকেতনে দাদার একটি বাড়ি ছিল। ব্যতিক্রমী মানুষ বলেই বাড়ির রং করিয়েছিলেন কালো! বাড়ির ছাদ লালরঙা। এমন রং কেন করিয়েছিলেন, জানতে চেয়েছিলাম তাঁর কাছে। জানিয়েছিলেন, বাকিদের বাড়ির সঙ্গে তাঁর বাড়ি যাতে কেউ গুলিয়ে না ফেলে তার জন্যই নাকি এ রকম পদক্ষেপ করেছিলেন।”
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত অর্ঘ্য সেন। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। শিল্পী খুব ভাল ছুঁচের কাজ করতে পারতেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত তাঁর কাছে ঈশ্বরসাধনা। তাই তাঁর গাওয়া ‘আমার মাথা নত করে’ কিংবা ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে’ গানগুলো এই প্রজন্মকেও ছুঁয়ে যায়। ১৯৯৭ সালে প্রয়াত শিল্পী সম্মানিত হন সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারে। সম্মানিত হন ‘টেগোর ফেলো সম্মান’-এ।