Tollywood Outdoor Shooting Safety

ধারাবাহিকের আউটডোর শুটিংয়ে কি আদৌ কোনও নিয়ম মানা হয়? কোন দিকে আঙুল তুললেন স্বরূপ

রবিবার সন্ধেবেলা আচমকাই আসে খবরটা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। প্রশ্ন উঠছে আউটডোর শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ২১:৩২
Share:

ধারাবাহিকে আউটডোর শুটিংয়ের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মানা উচিত? ছবি: সংগৃহীত।

দিঘার অদূরে তালসারিতে রবিবার শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পরদিন তাঁর নিথর দেহ ফেরে বিজয়গড়ের বাড়িতে। সমুদ্রের জলে ডুবে অভিনেতার মৃত্যু ঘিরে উঠছে অনেক প্রশ্ন। দুর্ঘটনা ঘিরে নানা ধরনের বয়ান উঠে আসছে। শুটিংয়ে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছেন রাহুলের অনুরাগী এবং সহকর্মীরা। ওড়িশা পুলিশ সূত্রের দাবি, তালসারিতে শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও অনুমতি ছিল না। তা সত্ত্বেও কী ভাবে শুটিং হল?

Advertisement

ঘটনার পর থেকেই অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী শুটিং স্পটে রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্ত দাবি করেছেন। টলিপাড়ার একাংশ শুটিংয়ে নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। অনেকের কাছেই এখন বড় প্রশ্ন, ধারাবাহিকের শুটিং করতে গেলে আদৌ কী কী নিয়ম মানতে হয়? কী বলছেন টেলিপাড়ার বাকি প্রযোজকেরা?

‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকের প্রযোজক সুশান্ত দাসকে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছেন, যে কোনও কাজ করতে গেলেই বিধিনিষেধ বা নিয়ম থাকে অনেক। তিনি বলেন, “শহরের বাইরে বলে শুধু নয়, সামান্য. গল্ফগ্রিনে শুটিং করতে গেলেও পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। আর যে ধরনের গল্পে কাজ হচ্ছে, সেই অনুযায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা তো রাখতেই হয়। শহরের বাইরে গেলে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজনীয় সেই ব্যবস্থা রাখা হয়।”

Advertisement

অন্য এক প্রযোজক বললেন, “পুলিশের অনুমতি তো নিতেই হয়। এমন কোনও এলাকায় শুটিং হচ্ছে, যে জায়গাটা কোনও পুরসভা বা কোনও ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে। সে ক্ষেত্রে তাদেরও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে এক মাস আগে থেকে তো সবকিছু তৈরি হয়ে থাকে না। অনেক সময় এমনও হয়, চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে এক দিন আগে। পরের দিনই হয়তো আউটডোর শুটিংয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। তখন অনেক সময় পুলিশকে বাড়তি কিছু টাকা দিয়ে বিশেষ অনুমতি করিয়ে নেওয়া হয়।’’ ওই প্রযোজক আরও বলেন, ‘‘আর যে লোকালয়ে শুটিং হচ্ছে সেখানে সাধারণ কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলে রেখে দিই, যাতে ভি়ড় সামলানো সহজ হয়। জলে শুটিং হলে দু’এক জন ডুবুরিকে অল্প পারিশ্রমিকে রাখা হয়।”

এ সব ক্ষেত্রে ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরামের কী ভূমিকা? প্রযোজক তথা পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার বললেন, “যে কোনও ধারাবাহিক শুরুর আগেই ফেডারেশনের কাছে তালিকা দিয়ে দেওয়া হয় কোন কোন কুশলীকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। শহরের বাইরে শুটিং হলে সেটাও জানানো হয় টেকনিশিয়ানদের কে কে যাচ্ছেন এই আইটডোরে। মেল মারফত জানানো হয়। সব নিয়ম মেনে যেন শুটিং হয়, এই শর্তে অনুমোদন দেয় ফেডারেশন। আর শুটিং ফ্লোরের বাইরে অর্থাৎ স্টুডিয়োর অন্য কোথাও শুটিং করতে হলেও স্টুডিয়ো মালিকদের অনুমতি নিতে হয়।” এ ক্ষেত্রে তা হলে দায়িত্ব কাদের বর্তায়? প্রযোজকদের একাংশের মতে, মূলত প্রযোজনা সংস্থা অর্থাৎ একটি সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের হয়ে যারা ধারাবাহিকটি তৈরি করছে তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

এই প্রেক্ষিতে কী বললেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস? তিনি বলেন, “ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার তরফে আমাদের শুধু জানানো হয় বাইরে শুটিং করতে যাওয়া হচ্ছে। এ বার কী চিত্রনাট্য, কোথায় শুটিং হবে সেটা সমুদ্রের মাঝে না পাহাড়ের চূড়ায়, সেটা জানানো হয় না। প্রযোজনা সংস্থারাই দাবি করে থাকে, এটা বাইরের কাউকে বলা সম্ভব নয়। এইটুকুও তো আগে আমাদের জানানো হত না। আমি অনেক চেঁচামেচি করে তার পর এখন জানায় আমাদের। এ ছাড়া আমাদের কোনও তথ্য জানানো হয় না।”

কিন্তু আউটডোরে সব নিয়ম মেনে শুটিং হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে কি ফেডারেশন কখনও প্রশ্ন করেছে? স্বরূপ যোগ করেন, “কোনও দিন কোনও উত্তর পাইনি। বলা হয়েছে চিত্রনাট্যের ব্যাপার। বাইরে জানানো হবে না। প্রশ্ন করলে তো ফেডারেশনকেই তোপ দেওয়া হয়। বলা হয় শেষ মুহূর্তে সব ঠিক হয়েছে, জানানো সম্ভব নয়। অবিশ্বাস্য সব যুক্তি খাড়া করা হয় এ সব প্রশ্ন তুললে।”

এই প্রেক্ষিতে ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। শিল্পী সংগঠনের তরফে কোনও সংশ্লিষ্ট নিয়ম আছে কিনা তা জানতে। কিন্তু অভিনেতার তরফে কোনও উত্তর মেলেনি। গত দু’দিনে রাহুল অরুণোদয়ের অকালমৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড় হয়ে গিয়েছে টলিপাড়া। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজিত ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-র শুটিংই তালসারিতে করছিলেন তিনি। এখনও পর্যন্ত প্রযোজনা সংস্থার তরফে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনও মন্তব্য করেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement