— প্রতীকী চিত্র।
কলকাতায় এ বার বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসেরও দাম বৃদ্ধি পেল। সিলিন্ডার প্রতি ২১৮ টাকা করে বেড়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের ১৯ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম হল ২,২০৮ টাকা। মার্চেই ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছিল। তার আগে মাসের শুরুতে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসেরও দাম বেড়েছিল। এ বার মাসের শেষ দিন আবার বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ল।
১ মার্চ কলকাতায় বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছিল। ১৯ কেজি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয় ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। আগের দামের তুলনায় প্রতি সিলিন্ডারে বৃদ্ধি পায় ৩১ টাকা। সে সময় রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে তার কয়েক দিন পরেই ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা করে বৃদ্ধি পায়। ১৪.২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম হয় ৯৩৯ টাকা।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম প্রতি মাসেই বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে। তেল সংস্থাগুলির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দর, বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার উপর ভিত্তি করেই এই “মাসিক পুনর্মূল্যায়ন” করা হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ১৫ টাকা ৫০ পয়সা বেড়েছিল। নভেম্বর মাসে সামান্য স্বস্তি মিললেও দাম কমেছিল মাত্র ৫ টাকা। ডিসেম্বরে কিছু এলাকায় আবারও অল্প পরিমাণে দাম কমানো হয়। তবে নতুন বছরের শুরু থেকেই ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্য। ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ এক ধাক্কায় প্রায় ১১১ টাকা বাড়ানো হয় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম। তার পর ১ ফেব্রুয়ারিতে আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি পায়। মাসের শুরুতে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম ৩১ টাকা করে বৃদ্ধি পাওয়ার পরে পরে মাসের শেষে সিলিন্ডার প্রতি ২১৮ করে টাকা বাড়ল। এর ফলে অসন্তুষ্ট হোটেল, রেস্তরাঁর মালিকদের একটা বড় অংশ। ক্রেতাদের আশঙ্কা, এর ফলে সেখানকার খাবারের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতিতে দেশে এলপিজি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকার যদিও বার বার আশ্বস্ত করেছে। তবে রান্নার গ্যাসের দামও বাড়িয়েছে। ভোটের মুখে সেই দাম বৃদ্ধি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে নিশানা করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এর মধ্যেই আবার বাড়ল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম।