স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে বললেন পিয়া সেনগুপ্ত। ছবি: ফেসবুক।
একের পর এক আইনি গেরোয় টালমাটাল টলিউড। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার ফেডারেশন সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। ইন্ডাস্ট্রিতে একদা স্বরূপ-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন প্রযোজকদের সংগঠন ইমপা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত।
বৃহস্পতিবারের ঘটনা নিয়ে তাঁর কী প্রতিক্রিয়া? জানতে পিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। পিয়ার কথায়, “স্বরূপদার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ, জানি না। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে বিশদে বলতে পারবেন, যিনি বা যাঁরা ভুক্তভোগী। ফলে, এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা মনে হয় ঠিক নয়।” কিন্তু প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে টলিউডে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, তার আঁচ নিশ্চয়ই পিয়াও পেয়েছিলেন। কারণ, স্বরূপের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে তিনি অনেক কাজ করেছেন। সংগঠনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। এ কথা অস্বীকার করেননি পিয়া। বলেছেন, “আঁচ পেয়েছিলাম, ওঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে টলিউডের অন্দরে। তার পরেও বলব, ওঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে সত্যিই কিছু জানি না।” পাশাপাশি পিয়া এ-ও জানিয়েছেন, সত্যিই যদি কেউ দোষী হন, দুর্নীতি করে থাকেন, তা হলে আইনের চোখে তিনি অভিযুক্ত। আইন তাঁর বিচার করবে।
গত ৪ মে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই ইমপা-র সভাপতি পদ থেকে পিয়ার পদত্যাগ চেয়ে সরব হন একদল বিক্ষুব্ধ প্রযোজক। সেই তালিকায় শতদীপ সাহা, রতন সাহা, পীযূষ সাহা, কৃষ্ণ দাগা এবং অন্যেরা ছিলেন। তাঁদের দাবি, পিয়ার আমলে সংগঠন নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের আখড়া হয়ে উঠেছিল। তাঁরা শুদ্ধিকরণ চান। একই সঙ্গে আর্থিক তছরুপ, স্বজনপোষণ, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে নানা অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে পিয়ার বিরুদ্ধে।
স্বরূপের এই পরিণতি কি ভয় ধরাচ্ছে পিয়ার মনে? জবাবে পিয়া সাফ বলেন, “কেন ভয় পাব? আমি তো কোনও অন্যায় করিনি। আবারও বলছি, স্বরূপদার কথা বলতে পারব না। কিন্তু, নিজেকে নিয়ে আমার কোনও সংশয় নেই। এমন কিছু করিনি যার জন্য আমাকে গ্রেফতার করা হবে।” তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে এর আগে একাধিক বার তিনি জানিয়েছেন, মুখে অনেক কিছুই বলা যায়। সবটাই প্রমাণসাপেক্ষ। এ দিন তিনি কথাপ্রসঙ্গে জানান, ১৪৪ ধারা জারি অবস্থায় ইমপা অফিসে অচলাবস্থা তৈরি করতে চেয়েছিলেন কিছু জন। তাঁদের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে নতুন করে পিটিশন জমা দিয়েছেন পিয়া। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিনিই সংগঠনের সভাপতি। সংগঠনের অফিসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রহরা মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা ১৪৪ ধারা জারি থাকাকালীন যে যে অনৈতিক কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা বৌবাজার থানায় লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়েছে পিয়াকে।
অভিযোগ, ২২ মে সংগঠনের অফিসের বদলে অন্যত্র সাংবাদিক বৈঠক করতে বাধ্য হয়েছিলেন পিয়া। এখন কি তিনি অফিসে যাচ্ছেন? পিয়ার কথায়, “প্রয়োজন ছাড়া কোনও দিনই অফিসে বসে থাকিনি। এখনও তা-ই। সংগঠনের কাজ করতে যে দিন অফিসে যেতে হচ্ছে, যাচ্ছি।”