Updates Of Tollywood Continuous Strike

এক দিনের কর্মবিরতিতেও সরগরম টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো! বাকি স্টুডিয়োর অন্দরের ছবি কেমন ছিল?

প্রথম দিনের কর্মবিরতিতে স্টুডিয়োপাড়ার ছবিটা কেমন? রোজের হট্টগোল হঠাৎ থমকে। ছুটির মেজাজে দিন কাটালেন স্টুডিয়োকর্মীরা?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৬
Share:

‘প্রতীকী কর্মবিরতি’তে টলিপাড়ার হালচাল। নিজস্ব চিত্র।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিবাদে মুখর টলিপাড়া। ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত সকলের নিরাপত্তা চেয়ে লাগাতার কর্মবিরতিতে নেমেছিল টলিউড। মঙ্গলবার লাইট-সাউন্ড-ক্যামেরা-অ্যাকশন শব্দগুলোর ছুটি ছিল। আচমকা শুনশান স্টুডিয়োর অন্দর। শুটিং না হলেও এ দিন সরগরম টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো।

Advertisement

মঙ্গলবার সকাল থেকে এখানেই একজোট অভিনেতা-পরিচালক-কলাকুশলীরা। আসবেন ইম‌্‌পার প্রতিনিধি। উপস্থিত থাকবেন ছবি, সিরিজ়, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজকেরা। এই স্টুডিয়ো চত্বরেই আলোচনা হবে আদর্শ পরিচালন পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) নিয়ে।

ক্যামেরা চলেনি স্টুডিয়োর অন্দরে। নিজস্ব ছবি।

তা হলে বাকি স্টুডিয়োর অন্দরের ছবিটা কেমন ছিল? তারই খোঁজে স্টুডিয়োপাড়া ঘুরে দেখল আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধি।

Advertisement

বেলা সাড়ে ১১টা। টালিগঞ্জের ব্যস্ততম চার মাথার মোড়। অবিশ্রান্ত গাড়ি আর লোকের ভিড়ে জমজমাট। মোড় ছাড়িয়ে একটু এগিয়ে গেলেই পরপর স্টুডিয়ো। প্রথমেই বাঁ হাতে ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়ো। অন্য দিন, এই স্টুডিয়োয় লোকের আনাগোনা। এ দিন স্টুডিয়োর সবুজ রঙের গেট বন্ধ। পাশে ছোট একটি গেট দিয়ে নিচু হয়ে ঢুকছেন-বেরোচ্ছেন দু-একজন। পায়ে পায়ে ভিতরে পা রাখতেই নিরাপত্তারক্ষীর সতর্কবাণী, “অন্দরে যাবেন না। সাংবাদিকদের ভিতরে যাওয়ার অনুমতি নেই।” ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়োয় রমরমিয়ে শুটিং চলছিল ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’, ‘পরিণীতা’, ‘দাদামণি’র। তিনটিই জি বাংলায় দেখানো হয়। এর মধ্যে ‘কমলানিবাস’-এর সম্প্রচার এখনও শুরু হয়নি।

কর্মবিরতিতে স্তব্ধ ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়ো। নিজস্ব চিত্র।

কর্মবিরতির আগের দিন সোমবার কি তিনটি ধারাবাহিকেরই ডাবল শিফটে কাজ হয়েছে? প্রশ্ন করা হয় স্টুডিয়োর এক কর্মীকে। তিনি জানান, প্রতি দিন যে ভাবে শুটিং হয়, সে ভাবেই গত কাল শুটিং হয়েছে। বাড়তি কোনও চাপ ছিল না শুটিংয়ের। তবে লোকের ভিড় ছিল, চূড়ান্ত ব্যবস্থা ছিল, বক্তব্য তাঁর। একদিন পরেই সেই চত্বর ফাঁকা। স্টুডিয়োকর্মীরা কি ছুটির মেজাজে? ম্লান হেসে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বললেন, “কর্মবিরতিতে কী করে ছুটির মেজাজ আসবে!” আরও যোগ করলেন, রাহুলের মৃত্যুর ন্যায়বিচার পাওয়াটাও জরুরি।

Advertisement

শুনশান ১৩ নম্বর স্টুডিয়ো। নিজস্ব ছবি।

ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়ো ছা়ড়িয়ে আর একটু এগোলেই ডান হাতে ১৩ নম্বর স্টুডিয়ো। এখানে আপাতত একটি ধারাবাহিকেরই শুটিং চলছে, ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’। গেটে শিকল। ঠেলতেই অল্প ফাঁক হল সেটি। ভিতরে ঢোকার উপায় নেই। গেটের কাছের একটি ঘরে বসে প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট অজিত পোদ্দার। তাঁর কথায়, “ধারাবাহিকের পর্ব ব্যাঙ্কিংয়ের জন্য সোমবার ডাবল শিফটে কাজ হয়েছে।” তবে তিনি এর আগে এ ভাবে কর্মবিরতি দেখেননি। বরাবর গমগম করতে থাকা স্টুডিয়োপাড়া দেখে অভ্যস্ত অজিত। এত নিশ্চুপ, থমথমে পরিবেশ দেখে তাই বড্ড মনখারাপ। পাশাপাশি, উপার্জন নিয়েও চিন্তায় তিনি।

টালিগঞ্জ মোড়ের উল্টো দিকের রাস্তা ধরে বেশ কিছুটা এগোলে পড়বে এনটি১ স্টু়ডিয়ো। এখানেও এ দিন কার্যত নিস্তব্ধতা। না, গেট খুলে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেননি কেউ। স্টুডিয়োর কর্মী সাধন সরকার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরুর কারণে সোমবার দম ফেলতে পারেননি কেউ। ডাবল শিফটে কাজ চলেছে ধারাবাহিক ‘আনন্দী’, ‘ভালবাসা রং রুট’ আর ‘গঙ্গা’র। কর্মবিরতির প্রথম দিনেই প্রচণ্ড শূন্যতা তৈরি হয়েছে, দাবি সাধনের। এই স্টুডিয়োর আর এক কর্মী অনেক দিন ধরে কাজ করছেন। তিনি মনে করালেন ২০১৭-র কথা। “সে বারেও দিন দুয়েকের জন্য কর্মবিরতি দেখেছিল টলিউড। সেই স্মৃতি আবার মনে পড়ে গেল।”

কর্মবিরতিতে দরজা বন্ধ এনটি১ স্টুডিয়োর। নিজস্ব ছবি।

মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, পরিচালকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয় ইম্‌পা এবং ছবি ও চ্যানেলের প্রযোজকদের। সেখানেই সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত হয়, বুধবার থেকে ফের শুটিং শুরু হবে। অর্থাৎ, একদিনের ‘প্রতীকী কর্মবিরতি’ কাটিয়েই ফের কর্মমুখর হবে টালিগঞ্জের স্টুডিয়োপাড়া।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement