সুর দিতেই পারছিলেন না রহমান! ছবি থেকে তাঁকে বাতিল করতে এসে কেঁদে ভাসালেন মণি রত্নম

‘বম্বে’ ছবির কাজ চলাকালীন মণি রত্নম নাকি ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন রহমানের উপর। কাজ থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছিলেন। কী এমন ঘটেছিল?

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৩ ১৯:১৫
Share:

এআর রহমান (বাঁ দিকে)। মণি রত্নম (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

১৯৯২ সালে ‘রোজা’ চলচ্চিত্রে প্রথম একসঙ্গে কাজ করেছিলেন পরিচালক মণি রত্নম এবং সঙ্গীত পরিচালক এআর রহমান। ছবি এবং ছবির গানগুলি মন ছুঁয়েছিল দর্শকের। এখনও জনপ্রিয়তা হারায়নি সেই কাজ। তিন বছর পর ‘বম্বে’ ছবিতে আবার একসঙ্গে কাজ করেছেন এই জুটি। তবে, সে বার বিপুল ঝামেলা হয়েছিল পরিচালক-সুরস্রষ্টার মধ্যে।

Advertisement

জানা যায়, ‘বম্বে’ ছবির কাজ চলাকালীন মণি রত্নম নাকি ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন রহমানের উপর। কী এমন ঘটেছিল?

‘বম্বে’ ছবি দিয়েই আত্মপ্রকাশ করেছিলেন চিত্রগ্রাহক রাজীব মেনন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বাগ করে নিয়েছিলেন সেই কাহিনি, যা তাঁর কাছেও বিশেষ অভিজ্ঞতা বটে। রাজীবের কথায়, “ছবির শুটিং তখন পুরোদমে চলছে। ‘হুম্মা হুম্মা’ গানটির শুটিংয়ের বন্দোবস্ত পাকা, কিন্তু রহমান তখনও গানটি তৈরি করেননি! শুটিং হবে কী করে! বিরক্ত মণি ভেবেছিলেন রহমানকে এই কাজ থেকে বরখাস্ত করবেন। কিন্তু শেষমেশ তাঁর মন গলে যায় ফের।’’

Advertisement

রাজীব বলে চলেন, “হুম্মা হুম্মা গানের দৃশ্যের শুটিং হবে, এ দিকে গানটাই নেই। এক দিন সন্ধেবেলা রহমান আমাদের ডাকলেন। পরের দিন গানটার শুটিং হবে, এমনটাই ভাবা ছিল। কিন্তু আমি আর মণি যেতে রহমান জানান, সুরটা ভেবে উঠতে পারেননি তখনও।”

অবাক হয়ে মণি জিজ্ঞাসা করলেন, “তা হলে আমাদের ডাকলে কেন?” রহমানের জবাব ছিল, “অন্য একটা জিনিস শোনাব বলে ডেকেছি।” তার পর তিনি পরিচালক এবং চিত্রগ্রাহককে ‘বম্বে’ ছবির থিম মিউজ়িক শোনান।

Advertisement

রাজীব জানান, সেই সুর শুনে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন তিনি এবং মণি দু’জনেই। চোখে জল এসে গিয়েছিল তাঁদের। রাজীবের কথায়, “আমি কেঁদেই চলেছিলাম। মণি বললেন, ‘রহমান, তুমি কী করেছ? আমি এখানে এসেছিলাম তোমায় না করে দেব বলে, আর তুমি আমার চোখে জল এনে দিলে!”

রহমান তখন বললেন, “এইমাত্র সুরটা করেছি।” তিন দিন ধরে পুরো গানটি তৈরি করেন তিনি। সেই কারণেই ‘হুম্মা হুম্মা’ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মণি কথা বলেছিলেন রহমানের সঙ্গীত নিয়ে। সারা রাত ধরে কাজ করতেন তাঁরা। মণি বলেন, “ভোর সাড়ে ৫টা অবধিও কাজ করেছি আমরা। খুব আনন্দ করে কাজ হত। চারপাশটা শান্ত। ৩টের সময় হেডফোন লাগিয়ে রহমান মগ্ন হয়ে কাজ করে যাচ্ছে, আমরা শুনতে পাচ্ছি না। শেষে যখন ও হেডফোনটা আমাদের কানে দিল গোটা কাজটা শুনলাম।”

‘বম্বে’ ছবির পরে ‘দিল সে’ (১৯৯৮), ‘গুরু’ (২০০৭) ইত্যাদি ছবিতেও একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। সম্প্রতি ‘পোন্নিয়ান সেলভান’- এও এই জুটির জাদু দেখা গিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement