ঐশ্বর্যার মতো সলমনের সঙ্গে ক্যাটরিনার মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়নি, তাঁদের বন্ধুত্ব আজও অটুট। —ফাইল চিত্র
২০১৫ সাল। সঞ্জয় লীলা ভন্সালী পরিচালিত ‘বাজিরাও মস্তানি’তে দেখা গিয়েছিল রণবীর সিংহ এবং দীপিকা পাড়ুকোনকে। সে ছবির সেটেই নাকি প্রেমে পড়েছিলেন জুটিতে। তবে, এই দুই অভিনেতার পরিবর্তে সে ছবিতে দেখা যেতে পারত অন্য জুটিকে। সম্ভাবনা ছিল তেমনই।
পরিচালক কিন্তু এই ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলেন সলমন খান এবং ঐশ্বর্যা রাইকে নিয়ে। বলিউডের অন্যতম সফল জুটির কথা ভন্সালী তাঁর ছবির জন্য ভাবলেও বেঁকে বসেন নায়িকা। শোনা যায়, সেই সময়ে সলমনের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততার কারণে ঐশ্বর্যা নাকি কোনও ছবিতেই সলমনের সঙ্গে কাজ করতে রাজি ছিলেন না। তত দিনে সলমনের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে ঐশ্বর্যার।
ঐশ্বর্যা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চান না শুনে যদিও সলমন দুঃখ পেয়েছিলেন। উপায় না দেখে তিনি পরিচালকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কইফকে। কারণ তখন সলমন আর ক্যাটরিনা চুটিয়ে প্রেম করছিলেন।
সলমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ঐশ্বর্যার পরিবর্তে ছবিতে নায়িকার চরিত্রে ভন্সালী যেন ক্যাটরিনাকে নেন। ভন্সালীর অফিসে ক্যাটরিনাকে নিয়ে গিয়ে সলমন বলেছিলেন, “এ- ই হবে তোমার মস্তানি।”
কিন্তু সলমনের প্রস্তাবে রাজি হননি ভন্সালী। ওই ছবি নিয়ে সাময়িক চিন্তাভাবনা করাও ছেড়ে দেন তিনি। ভেবেছিলেন আর হবে না কাজটি। পরবর্তী কালে অবশ্য রণবীর-দীপিকার জুটিতে ‘বাজিরাও মস্তানি’ ছবি সুপারহিট হয়। সঞ্জয়ের সঙ্গে এই জুটি ‘রামলীলা’(২০১৩), ‘পদ্মাবত’(২০১৮) ছবিতেও কাজ করেছেন।
সঞ্জয় ‘বাজিরাও মস্তানি’ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “রণবীর-দীপিকা যখন স্কুলে পড়ত, তখন এই ছবি করার কথা প্রথম ভেবেছিলাম। সলমনকে নিয়ে করার কথা ভেবেছিলাম আগেই, সেটা হয়নি।”
সলমন এবং ঐশ্বর্যার বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় দু’দশক। অনুরাগীরা অবশ্য এখনও তাঁদের একসঙ্গে পর্দায় দেখতে আগ্রহী। ঐশ্বর্যা বহু দিন হল অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করে বচ্চন পরিবারের সদস্য হয়েছেন। পরবর্তী কালে সলমনের প্রেমিকা ক্যাটরিনাও এখন ভিকি কৌশলের ঘরনি। তবে, ঐশ্বর্যার মতো সলমনের সঙ্গে ক্যাটরিনার মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়নি। তাঁদের বন্ধুত্ব আজও অটুট। চলতি বছরে ‘টাইগার ৩’ -এ একসঙ্গে দেখা যাবে এই জুটিকে।