Anik Dutta VS Tollywood Politics

এসেছিলেন জিৎ, অনুপস্থিত পরমব্রত-স্বস্তিকা-সায়নী-দেব! অনীকের মৃত্যুতেও ‘আমরা ওরা’ ভেদ?

সহকর্মীরা বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত শিরদাঁড়া সোজাই ছিল তাঁর। যে নন্দন একদা তাঁকে ব্রাত্য করেছিল, পরিচালক অনীক দত্তের শেষযাত্রা শুরু হল সেখান থেকেই। কিন্তু ‘ওরা আমরা’ দ্বন্দ্ব মুছল কি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৯:৫৫
Share:

অনীক দত্তের মৃত্যু কি মুছতে পারল না টলিউডের বর্ণভেদ! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

চার তলা থেকে ঝাঁপ। শরীরের অধিকাংশ হাড় চুরমার। মাথা, চোয়াল, পাঁজর, কোমরের হাড়— সব। ভাঙেনি কেবল শিরদাঁড়া। সম্ভবত তাই, যে নন্দন একদা তাঁকে ‘ব্রাত্য’ করেছিল, অনীক দত্তের শেষযাত্রা শুরু হল সেখান থেকেই। কিন্তু, তাঁকে ঘিরে ‘ওঁরা আমরা’ দ্বন্দ্ব ঘুচল কই?

Advertisement

সকাল সাড়ে ১০টায় সদ্যপ্রয়াত পরিচালক শববাহী শকটে চেপে পৌঁছোন নন্দনে। আয়োজনের তদারকিতে তত ক্ষণে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। একে একে এসেছেন পরিচালক-অভিনেতা অঞ্জন দত্ত, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, রাজনীতিবিদ-অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু-সহ অনেকেই। নন্দনে যেহেতু সাধারণের জন্য অনীককে নিয়ে আসা হয়েছিল, তাই সেখানে তথাকথিত তারকারা ছিলেন না।

নন্দনে সৃজিত মুখোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র।

এর পর অনীকের গন্তব্য এনটি১ স্টুডিয়ো। এই স্টুডিয়োতেই তাঁর কাজের জগতে পা রাখা। সেখানে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এসেছিলেন বাম নেতা বিমান বসু। দেখা গিয়েছে বামসমর্থক অভিনেতা চন্দন সেন, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, হরনাথ চক্রবর্তী, দেবদূত ঘোষ এবং অন্যদের। টলিউডকে বিস্মিত করে এখানেই মালা দিয়ে সদ্যপ্রয়াত পরিচালককে শ্রদ্ধা জানিয়ে যান জিৎ! যাঁকে এ ভাবে সচরাচর দেখতে কেউই অভ্যস্ত নন। হাসপাতালের মতো এখানেও উপস্থিত ছিলেন অনীকের শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-এর নায়ক আবীর চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

এসেছিলেন আবীর চট্টোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র।

কিন্তু, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ এবং ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর প্রধান অভিনেতারা কই? পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ‘কদলীবালা’ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়? আসেননি মীর আফসর আলি, সব্যসাচী চক্রবর্তী, রজতাভ দত্তেরা। একই ভাবে অনুপস্থিত ছিলেন শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, দেব, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, রাজ চক্রবর্তী, অঙ্কুশ হাজরা, রুক্মিণী মৈত্র, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক-সহ টলিপাড়ার ‘হু’জ় হু’রা। এঁদের মধ্যে দেব বরাবর ব্যতিক্রমী। তিনি বরাবর ‘ব্রাত্য’ বা ‘নিষিদ্ধ’দের নিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু, তাঁকেও দেখা গেল না শুক্রবার।

জিৎ এসেছিলেন অনীক দত্তকে শ্রদ্ধা জানাতে। নিজস্ব চিত্র।

এই অনুপস্থিতি যথারীতি টলিউডের অন্দরের ‘ওরা আমরা’ বিভেদকেই কি স্পষ্ট করে দিয়েছে, আবার? এবং এ-ও কি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, যত রাজনীতি টলিউডেই? যতই বলা হোক, টলিউডে রাজনীতির রং লাগতে দেওয়া হবে না, বাস্তবে বুঝি তা হওয়ার নয়। কেন এ রকম বার্তা পৌঁছোল? কারণ, যাঁরা অনুপস্থিত, তাঁদের অধিকাংশ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংবাদিকেরা এই প্রশ্ন কেওড়াতলা মহাশ্মশানে উপস্থিত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা এবং বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীলকে করেছিলেন। তাঁদের জবাব, “এটা হওয়া কাম্য নয়। কারণ, মৃত ব্যক্তির সঙ্গে শত্রুতা চলে না।” একই কথা বলেছেন অনীকের ‘অপরাজিত’ ছবির নায়ক জীতু কমল। তাঁর কথায়, “মানসিক ভাবেও যদি কাউকে মেরে ফেলা হয়, সেটাও এক ধরনের খুন। অনীকদাকে সেটাই করা হয়েছে।”

দত্ত পরিবারকে আগলে রেখেছেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। নিজস্ব চিত্র।

বুধবার দুপুর থেকে শুক্রবার— তিন দিন অনীকের ছায়াসঙ্গী টলিউডের হাতে গোণা বিশিষ্টজন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং জীতু। হাসপাতাল থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশান— সর্বত্র সৃজিতের নীরব উপস্থিতি। এ দিন স্টুডিয়ো থেকে অনীককে শেষযাত্রায় এগিয়ে দিতে আসেন সৌরসেনী মৈত্র, সৌরভ দাস, লগ্নজিতা চক্রবর্তী। স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন অনীকের সহকারী পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়-সহ আরও কিছু জন। চাণক্যের শ্লোক অনুযায়ী, ‘রাজদ্বারে, শ্মশানে য তিষ্ঠতি, সঃ বান্ধবঃ!’ এঁরাই সে দিক থেকে অনীকের শেষ সময়ের সত্যিকারের ‘বন্ধু’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement