‘অ্যায় দিল..’ কি ফেরাবে কর্ণের ভাগ্য

ছবি রিলিজের আগে বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। কার্যত মুচলেকা এবং জরিমানার বদলে মুক্তি পেয়েছে কর্ণ জোহরের নতুন ছবি। দিওয়ালির ছুটির প্রথম সপ্তাহও ইতিমধ্যে পার। অজয় দেবগণের ‘শিবায়ে’র থেকে খানিকটা এগিয়েই রয়েছেন রণবীর-অনুষ্কা-ঐশ্বর্যার ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’।

Advertisement

ঋজু বসু

শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:৫৮
Share:

ছবি রিলিজের আগে বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। কার্যত মুচলেকা এবং জরিমানার বদলে মুক্তি পেয়েছে কর্ণ জোহরের নতুন ছবি। দিওয়ালির ছুটির প্রথম সপ্তাহও ইতিমধ্যে পার। অজয় দেবগণের ‘শিবায়ে’র থেকে খানিকটা এগিয়েই রয়েছেন রণবীর-অনুষ্কা-ঐশ্বর্যার ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’। কিন্তু তাতেও খুব মারকাটারি ব্যবসা হওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন ফিল্ম-সংক্রান্ত ট্রেড অ্যানালিস্টরা।

Advertisement

এই সপ্তাহান্তে যা হিসেব, তাতে কর্ণের ছবি ৯০ কোটি টাকা তুলেছে। অজয় দেবগণের ‘শিবায়ে’ তুলেছে ৮০ কোটি। ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও পর্যন্ত যা দৌড় তাতে ‘শিবায়ে’ বক্সঅফিসে ১০০ কোটির সীমা ছাড়িয়েই যাবে। ছবির বাজেটও মোটামুটি ওই অঙ্কের বলে ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের দাবি। কর্ণের ছবিও ১০০ কোটি পেরিয়ে আরও বেশ কিছুটা দূর যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা। ‘অ্যায় দিল...’-এর বাজেট মোটামুটি ৭০ কোটি বলে ইন্ডাস্ট্রির খবর। সে ক্ষেত্রে ‘শিবায়ে’-র চেয়ে তার ব্যবসা বেশিই হবে। কিন্তু বক্সঅফিসে যা আদায় হয়, তার বড়জোর ৪৫-৫০ শতাংশ প্রযোজকের ঘরে ঢোকে। সেই হিসেব মানলে কর্ণের পক্ষে বড় লাভের মুখ দেখা কঠিন হলেও হতে পারে। এমএনএস প্রধান রাজ ঠাকরের ফতোয়া মেনে সেনা তহবিলে কর্ণ আরও পাঁচ কোটি টাকা দিয়েছেন।

কলকাতায় আইনক্স-কর্তা তথা টালিগঞ্জের ইন্ডাস্ট্রির ট্রেড অ্যানালিস্ট পঙ্কজ লাডিয়া বলছেন, ‘‘অ্যায় দিল শুরুটা মোটামুটি করলেও টানটা তত ধরে রাখতে পারেনি! শিবায়ে-র স্কোরকার্ডও ভাল নয়।’’ গত সোমবার, দিওয়ালির পরের দিনই সব থেকে বেশি রান কুড়িয়েছে দুই ঘোড়া। তবে তার পরেই বাজার আবার নিম্নমুখী। পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খানের উপস্থিতির দরুণ কর্ণের ছবি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধলেও গোটা দেশে সব মিলিয়ে ১৯১৫টি হলে মুক্তি পেয়েছিল ‘অ্যায় দিল...’। ‘শিবায়ে’-র ক্ষেত্রে হলের সংখ্যা কিছুটা বেশি। ২২০০টি। কিন্তু অজয় দেবগণের ছবি প্রধানত সিঙ্গল স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে। তাই শো-এর সংখ্যা খানিকটা কম পেয়েছে বলে ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের খবর। বাংলার পরিবেশকদের হিসেব, এ রাজ্যে কর্ণের ছবি ১৭২টি প্রেক্ষাগৃহে ও অজয়ের ছবি ১৯০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। পাঁচ দিনের মাথায় এ রাজ্যের বক্স অফিসে সংগ্রহ কর্ণের ছবি সওয়া চার কোটি ছাড়িয়েছিল। অজয়ের আদায় ছিল সওয়া দু’কোটি টাকা মতো। টালিগঞ্জের নামী পরিবেশক অরিজিৎ দত্তও বলছেন, ‘‘বোঝা গেল, ছবি না-জমলে দিওয়ালি বা কোনও ছুটিই বক্স-অফিস বৈতরণী পার করাতে পারবে না। পুজোতেও তো কোনও ছবি এখানে তেমন হিট করেনি।’’

Advertisement

দু’দশক আগের এক দিওয়ালির মরসুমেই কিন্তু কর্ণ জোহর বক্স অফিস কাঁপিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর হাত ধরে। এখনও পর্যন্ত গড়পড়তা দর্শকের যা প্রতিক্রিয়া, তাতে এ বার সেই ম্যাজিকের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা কম। ‘কে জো’র ছবির ট্রেডমার্ক রোম্যান্টিক আবেদনে ভাঁটা পড়তে শুরু করেছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে নানা মহলে। তবে অন্য একটি অঙ্কও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে— ইদ, বড়দিন ও দিওয়ালি, বছরের এই তিনটি ছুটির মরসুমকেই বলিউডি রিলিজের জন্য সব থেকে ভাল সময় বলে ধরা হয়। কিন্তু মাল্টিপ্লেক্স জমানায় ধারে-ভারে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে দিওয়ালি।

ফিল্ম ব্যবসা-সংক্রান্ত পত্রিকা বক্সঅফিস ইন্ডিয়ার তরফে একটি সমীক্ষায় প্রকাশ, ‘‘ইদ বা বড়দিনে এ দেশে সর্বস্তরের মানুষ যেমন ছবি দেখেন, তা কিন্তু আজকাল আর দিওয়ালিতে ঘটে না। বিশেষ করে দিওয়ালি যাঁরা পালন করেন, তাঁদের একটা বড় অংশ উৎসবের সময়ে নানা ভাবে ব্যস্ত থাকেন, ছবি দেখার ফুরসত পান না।’’ এ দেশের হল-মালিকদের একটি সংগঠনের বেশির ভাগ সদস্যেরও অভিজ্ঞতা, মাল্টিপ্লেক্স হওয়ার আগে টিকিটের দাম যখন কম ছিল, তখন দিওয়ালিতে ছবি ভাল চলত। এখন দিওয়ালিতে নানা কিসিমের খরচের পর দর্শকদের একটা শ্রেণি সিনেমার পিছনে বাড়তি ব্যয় করেন না। তাঁরা বরং ইদ বা বড়দিনে সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন।

ইন্ডাস্ট্রির পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে ইদ বা বড়দিনে মুক্তিপ্রাপ্ত হিট ছবির সংখ্যা দিওয়ালির চেয়ে বেশি। গত দু’বছর ইদে সল্লুভাইয়ের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ও ‘সুলতান’— দু’টিই ব্লকবাস্টার। তার আগের বার ইদে চেন্নাই এক্সপ্রেস বাজার মাত করে। আমির খানের ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘পিকে’ এবং ‘ধুম থ্রি’— সব ক’টাই বড়দিনে। বড়দিন বা ইদের হিট ছবি ৩০০-৩২৫ কোটি টাকার বাজার ছুঁয়েছে বারবার। সেখানে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর ব্যতিক্রম ছাড়া দিওয়ালির বাজার মেরেকেটে ২০০-২২৫ কোটি টাকার ধাপ পেরিয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের খবর, ২০১২-য় শাহরুখের ‘জব তক হ্যায় জান ও অজয় দেবগণের ‘সন অব সর্দার’ মিলে একযোগে ২২৫ কোটির বাজার ছুঁয়েছিল। ২০১৩-য় হৃত্বিক রওশনের ‘কৃশ-থ্রি’ ২০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছয়। গত বছর সলমনের ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’-এর দৌড় ১৮৮ কোটি টাকা পর্যন্ত। এ বছর কর্ণের ‘অ্যায় দিল...’ এবং ‘শিবায়ে’ একসঙ্গে টক্করে নামায় এমনিতেই বাজার ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বক্স অফিসে যা হাওয়া, দু’টো ছবি মিলিয়ে ২২৫ কোটির টাকার বেশি ব্যবসা করা কঠিন বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞেরা।

মাসখানেকের মধ্যে শাহরুখ খান-আলিয়া ভট্টের ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ মুক্তি পাওয়ার কথা। আর বড়দিনে আসবে আমির খানের ‘দঙ্গল’। ‘সুলতান’-এর পরে বড়সড় হিটের আশায় তাই বছরশেষের স্লগ ওভারের দিকেই তাকিয়ে থাকছে বলিউড।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন