কলেজ ভর্তির লম্বা ধাপ পেরিয়ে হাতের মুঠোয় যখন অ্যাডমিশনের ফর্ম তৃণার তখন মনে হল, কলেজে পা তো হল, কিন্তু কমনরুম থেকে ক্যান্টিন হয়ে লেকচার ক্লাসের চুরি করে চাওয়ার রং কেমন হবে? কলেজ যাওয়ার ফ্যাব্রিকই বা কী? লিপস্টিক আছে না নেই? আর ডার্ক গ্লাস?
ঝড় ঢুকল মাথায়! অন্ধকার ঘরে বন্দি হল মেয়ে|
“ধূর, ভাল্লাগে না”!
মনে হল স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়া যেন আর কিছুই পরার নেই তার। কী কিনবে? কোথায় যাবে তৃণা?
‘‘বাবা-মা কলেজ ভর্তির ঝক্কি সামলে এক্ষুনি কিছুই কিনে দেবে না| কিন্তু রোজ কি এক পোশাক পরে যাওয়া যায় কলেজে? বন্ধুরা কী বলবে?’’ গোমড়া মুখ আরাত্রিকার, কফির থেকেও মুখ ফিরিয়েছে মেয়ে।
গোমড়া মুখ নিপাত যাক। আত্মবিশ্বাস আর ডিজাইনারদের কিছু টিপস্ মাথায় রাখলেই কিন্তু কেল্লা ফতে! তখন শান্তশিষ্ট কলেজকন্যা, দেখতে শুনতে শ্যারন স্টোন না...
উড়ু উড়ু স্কার্ভ
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত— যে কোনও সময়ে সব পোশাকের সঙ্গেই স্কার্ভ চলে। নিয়ন কালারের ছাপা বা ব্লক প্রিন্টের স্কার্ভ গরমে যেমন একটা অ্যাটায়ার হিসেবে এলিগেন্ট লুক নিয়ে আসবে, শীতে তেমনই গরম পোশাক হিসেবে উষ্ণতা ছড়াবে| ‘‘সাদামাটা পোশাকের লুকটা বদলে দেওয়ার জন্য স্কার্ভের জুড়ি নেই| র্যাপার বা জিনস্, লং ফ্রক বা কুর্তি যে কোনও কিছুর সঙ্গেই ব্রাইট কালারের ফুল ছাপা বা জ্যামিতিক আকারের স্কার্ভ কিনে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে পরলে কলেজের প্রথম দিনেই সকলের নজর কাড়বেন তন্বী। এর ফলে একসঙ্গে অনেক নতুন জামা কেনা বা বাব-মাকে চাপ দেওয়ার ঝামেলাও এড়িয়ে যাওয়া যাবে’’, বলছেন ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল।
ব্যাগ
বেখেয়ালি মন থেকে খেয়ালের ক্লাসনোট, সবই তো সেই কলেজ ব্যাগের রসদ। আপনার কলেজ ব্যাগই বলে দেবে আপনার চলনের কথা। টমবয়? নাকি এথনিক স্টাইল? নাকি একেবারেই প্রথাগত ভাল মেয়ের চেন টানা বড় সাইড ব্যাগ? চয়েস্ ইজ ইয়োরস্! তবে ব্যাগ বাছার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এমন ব্যাগ দরকার, যা কেবল নোটবুক আর ওয়ালেটের জায়গা দেবে না| রেফারেন্স বই থেকে একগুচ্ছ জেরক্স, নোটস্, স্মার্টফোন থেকে সানস্ক্রিন, ডার্ক গ্লাস হয়ে ছাতা, সবই যেন ধরে যায় সেই কেতের ব্যাগে|
ছোট আকারের ব্যাগপ্যাক কলেজ ব্যাগ হিসেবে আদর্শ। বেশ একটা স্মার্ট টমবয় লুকও ধরা থাকে এর মধ্যে। কিন্তু যাঁরা একটু স্টাইলের দিকে ঝুঁকতে চান বা এথনিক লুকটাকে গুরুত্ব দিতে চান তাঁদের জন্য বাহারি কাজের কাপড়ের ঝোলা চলতে পারে। বৃষ্টি এড়াতে পারলে জিনস্ থেকে ফ্রেশার্স ওয়েলকামের শাড়ি যে কোনও কিছুতেই উল্টো দিকের তরুণ যৌবন ক্লিন বোল্ড।
মোবাইল কভার
শুধু ব্যাগ আর পোশাক দিয়ে কিন্তু নিজের স্টাইল বোঝানো যাবে না, বলছেন ডিজাইনাররা। ‘‘জেট যুগের মুঠো ফোনে বন্দি আজকের প্রজন্মের কাছে মোবাইল কভার হল সবচেয়ে জরুরি অ্যাক্সেসরি’’, বলছেন গ্রুমিং এক্সপার্ট নীতা খৈতান। ফাঙ্কি লুক চাইলে মোবাইল কভারের জন্য বাছুন নিয়ন কালার, জমকালো প্রিন্ট। আর যদি একটু সিরিয়াস প্রেসেন্সকে তুলে ধরতে চান তার জন্য বাছুন মোলো কালারের বোল্ড মোবাইল কভার। ভার্চুয়্যাল বা রিয়্যাল যে পৃথিবীতেই আপনি থাকুন না কেন বসন্ত আপনার হাতে বন্দি।
পোশাক
কলেজের জন্য কটন ফেব্রিক আদর্শ| বর্ষা থেকে বাঁচতে কেবল সিন্থেটিক টপ, কুর্তি চলতে পারে। পায়ের জন্য থাকুক কাপ্রি আর জাম্প স্যুট। বাদবাকি দিনগুলোর জন্য সঙ্গে রাখুন ছাপা বা মোনো কালারের পাটিওয়ালা সালোয়ার আর স্কিন হাগিং জাগিনস্| ‘‘মোনো কালারের মধ্যে বেইজ, সাদা, লাল, কালো এই রংগুলো থাকলেই চলবে। যে কোনও কুর্তির সঙ্গে এই রঙের পাটিওয়ালা সালোয়ার বা জাগিনস্ টিম আপ করে পরলে বেশ একটা ফুরফুরে মেজাজ চেহারায় ফুটে উঠবে’’-বলছেন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল| এর সঙ্গে থাক ডেনিম জিনস্ আর সাদা টি-শার্ট। আবহাওয়া বুঝে স্প্যাগেটি দিয়ে সাদা বা কালো শ্রাগ দিয়ে টিম আপ করা যেতে পারে।তবে হট প্যান্টস্ বা শর্ট স্কার্ট পরার ক্ষেত্রে দেখতে হবে সেটা আপনি কতটা ক্যারি করতে পারছেন। “চমক দেওয়ার জন্য অনেকে কলেজেই হট প্যান্ট পরে এসে দেখা যায় আঁটোসাঁটো হয়ে বসে আছেন বা শর্ট স্কার্ট পরে কেবলই স্কার্টটা নীচের দিকে টানছেন। প্লিজ এটা করার চেয়ে না পরাই ভাল” সোজা কথায় আসল কথাটা বললেন অগ্নিমিত্রা। ক্যাসুয়াল কমফর্টেবল পোশাকই কলেজের জন্য আদর্শ।
কলেজে সাজে চলবে না
• ভেলভেট, র সিল্কের ফেব্রিক
• চুমকি, জড়ি বসানো অত্যধিক উজ্জ্বল পোশাক
• পিঠ খোলা বা অফ শোল্ডার গাউন
• স্টিলেটো বা হাইহিল চটি
• লাউড মেক আপ
• মনখারাপ
পায়ে পায়ে প্রেম
হিল বা স্টিলেটো যতই এখন ফ্যাশন হোক কলেজের দৌড়ঝাঁপ আর দল বেঁধে ছুটে বেড়ানোর নেশায় হিল বা স্টিলেটো নৈব নৈব চ। ‘‘এখন বাজারে উজ্জ্বল রঙের ফ্লিপ ফ্লপ স্যান্ডেল পাওয়া যায়। এগুলো কলেজ গোয়ারদের জন্য টেকসই। এ ছাড়া কিটোস্ তো চলতেই পারে। আর একটু এথনিক হতে চাইলে কোলাপুরি সঙ্গে রাখা যেতে পারে’’,বলছেন অগ্নিমিত্রা।
গয়নাগাটি
কলেজের জন্য বিভিন্ন কালার বিডের ঝোলা দুল গয়নার বাক্সে চাই-ই চাই। গয়নার ক্ষেত্রে ভ্যারাইটি আনার জন্য কেবলমাত্র সস্তার জাঙ্ক জুয়েলারির ওপর জোর দিচ্ছেন জুয়েলারি ডিজাইনার চন্দনা মিত্র। এ ক্ষেত্রে গড়িয়াহাট, নিউমার্কেট, দক্ষিণাপণের ফুটের দোকানগুলো সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বলে মনে করছেন চন্দনা। ‘‘এখন তো কোনও একটি গয়নাকে হাইলাইট করার চল। তাই গলায় চোকার পরলে ঝোলা দুল পরার দরকার নেই। হাতের জন্য বিভিন্ন মেটালের কয়েকটা বোল্ড চোকার বা একরাশ রঙিন কাঠের বালা থাক। কলেজে হাতে হাত মেলানর দিন ভরে যাক রঙের গন্ধে। আর কণ্ঠে দুলুক চেন দেওয়া নানা মোটিফের লম্বা হার। ব্যাস, কলেজ নন্দিনীকে সকলেই কবিতায় খুজে বেড়াবে’’- পরামর্শ দিচ্ছেন চন্দনা।